kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

নবান্নে আলাপের পর অবশেষে অচলাবস্থা কাটল

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা প্রতিনিধি    

১৭ জুন, ২০১৯ ২১:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবান্নে আলাপের পর অবশেষে অচলাবস্থা কাটল

নবান্নের বৈঠকে কাটল অচলাবস্থা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান সচিবালয়ে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে রাজ্য প্রশাসন। সেই বৈঠকের পরই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন এনআরএসের জুনিয়র চিকিৎসকরা। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা ঘটলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজেদের দাবি-দাওয়ার কথা জানান জুনিয়র চিকিৎসকরা। এ সংক্রান্ত সমস্ত দাবি দাওয়া মেনে নেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে। পাশাপাশি বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোতে গ্রিভান্স সেল রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা।

তৎক্ষণাৎ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সেল চালুর নির্দেশ দেন মমতা। মমতা ব্যানার্জি জানান, অভিযোগ নথিভুক্ত করার জায়গা থাকলে হাসপাতালে ক্ষোভ বিক্ষোভ আটকানো যাবে। পাশাপাশি নোডাল অফিসার রাখারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে। 

জুনিয়র চিকিৎসকরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, ভয়ের পরিবেশের মধ্যে তাদের কাজ করতে হচ্ছে। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এক আন্দোলনকারী বলেন, হাসপাতালে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা দাদাগিরি চালান, তাতে কাজে সমস্যা হয়। মমতা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে বলেন, এই সমস্যা আছে। ওই মানুষগুলোর বোঝা উচিত হাসপাতাল দাদাগিরির জায়গা নয়। হাসপাতালে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।

জুনিয়র চিকিৎসকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিকিৎসক নিগ্রহে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন করেন। তারা বলেন, নিগ্রহকারীদের এমন শাস্তি দিন যাতে ভবিষ্যতে এমন কাজ কেউ করতে না পারে। পাশাপাশি জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। তাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি পদক্ষেপও নেওয়া হবে না, বলে এদিনও ফের জানান মুখ্যমন্ত্রী। 

হাসপাতালে বহিরাগত প্রবেশ আটকাতে পুলিশকে আরো তৎপর হতে নির্দেশ দেন মমতা ব্যানার্জি। কলকাতা পুলিশের সিপি বলেন, ঘটনার পর থেকেই সমস্ত সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। হাসপাতালে বন্দুকধারী পুলিশ মোতায়েন করারও দাবি জানান জুনিয়র চিকিৎসকরা। তারা বলেন, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেন না।

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এনআরএসে আক্রান্ত জুনিয়র চিকিৎসক পরিবহকে দেখতে যাওয়ার আবেদনও রাখেন আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা। মমতা বলেন, তোমরা কী করে ঠিক করে দিতে পারো, আমি কখন কাকে দেখতে যাব?

সোমবার সকাল থেকেই নবান্নের বৈঠক নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নবান্নের বৈঠকে উপস্থিত হওয়া নিয়ে নতুন শর্ত দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি ছিল, এই বৈঠকের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাননি। তাই নবান্নের বৈঠকে যাবেন না তারা। নবান্নে সেই খবর পৌঁছতেই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তৈরি করে এনআরএসে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাতে স্বাক্ষর করেন রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা। 

এরপর ফের জটিলতা তৈরি হয় লাইভ টেলিকাস্ট নিয়ে। জুনিয়র চিকিৎসকরা দাবি করেন, বৈঠকের লাইভ টেলিকাস্ট না হলে, যাবেন না তারা। খবর যায় নবান্নে। মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীদের এই দাবিও মেনে নেন। এরপরই নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধ ঘণ্টা পর নবান্নে পৌঁছান জুনিয়র চিকিৎসকদের ৩১ জনের প্রতিনিধি দল। নবান্নের ১৪ তলায় শুরু হয় বৈঠক। হাজির ছিলেন মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রমুখ। হাজির ছিলেন দুই সিনিয়র চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায় এবং অভিজিৎ চৌধুরী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা