kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

সচিবালয়ে যাননি চিকিৎসকরা, অনুরোধের সুরে ফের ডাকলেন মমতা

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা প্রতিনিধি    

১৫ জুন, ২০১৯ ২১:৪৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সচিবালয়ে যাননি চিকিৎসকরা, অনুরোধের সুরে ফের ডাকলেন মমতা

শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয়ে যাওয়ার কথা ছিল জুনিয়র চিকিৎসকদের, কিন্তু যাননি তারা। তারপর কথা হয়েছিল শনিবার দুপুরে আসবেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এনআরএস হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন, রুদ্ধদ্বার কোনো বৈঠকে যাবেন না। বরং মুখ্যমন্ত্রী আসুন এনআরএসে।

নিজের অবস্থানে অনড় থেকে শনিবার সন্ধ্যায় নবান্নে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, তিনি এনআরএস-এ যাবেন না।

তবে জুনিয়র চিকিৎসকদের উদ্দেশে আবেদনের সুরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সমাধান চাই। তাদের দাবিদাওয়া এরই মধ্যে মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে ফের কথা বলতে তাদের নবান্নেই আসতে হবে। কারণ সংবিধান অনুযায়ী নবান্নই প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান।

তিনি আরো বলেন, কালকে তাদের জন্য পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। শনিবার আমার অন্য প্রোগ্রাম থাকে। সব বাতিল করে আমি এসেছিলাম। কিন্তু তারা এলেন না।
 
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আমরা সব দাবি মেনে নিয়েছি। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া মামলা দেওয়া হয়েছে। আদালত থেকে তারা জামিনও পাননি। যারা ইচ্ছুক, তারা কাজে যোগ দিন।

অভিজিৎ চৌধুরীদের মতো বিশিষ্ট চিকিৎসকরাও মধ্যস্থতা করা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পারেননি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যাসাগরের মূর্তি উন্মোচনের দিন ওখানে চন্দ্রিমাকে (চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী) পাঠিয়েছিলাম। বলেছিলাম আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দাও আমি ফোনে কথা বলব। কিন্তু চন্দ্রিমা আমায় বলে, তারা কথা বলবেন না। এই অসম্মানের পরেও আমি কোনো কড়া পদক্ষদেপ গ্রহণ করিনি।

শনিবার মমতা দিল্লি, গুজরাট, উড়িষ্যাসহ একাধিক রাজ্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো কোনো সালে কোনো কোনো রাজ্যে চিকিৎসকদের স্ট্রাইক রুখতে সংশ্লিষ্ট সরকার এসমা (এসেনশিয়াল সার্ভিস মেন্টেনেন্স অ্যাক্ট) জারি করে। তার কথায়, আমরা গণতান্ত্রিক বলেই অ্যারেস্ট করিনি। রেজিস্ট্রেশন বাতিল করিনি। এসমা জারি করিনি।

এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, চিকিৎসকদের আন্দোলনে বহিরাগত রয়েছে। বিজেপি, সিপিএম যোগেরও অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা। আর তাতেই আগুনে ঘি পড়ে গিয়েছিল। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আমি যখন হেঁটে যাচ্ছিলাম, তারা আমাকে ধাক্কা দেয়। গালিগালাজ করে। অশ্রাব্য আচরণ করে। তাও আমি কিছু বলিনি। কারণ তারা ছোট ছোট ছেলে মেয়ে।

মমতা বলেন, ওই আন্দোলনে বাইরের সংগঠনের যোগ রয়েছে। তবে বারবার মুখ্যমন্ত্রী আবেদন জানান, মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে কাজে যোগ দেন চিকিৎসকরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা