kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

একই সঙ্গে প্রতিবাদ ও পরিষেবা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুন, ২০১৯ ২০:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একই সঙ্গে প্রতিবাদ ও পরিষেবা

রোগী দেখা বন্ধ করে ধর্মঘট না করে তাদের প্রাণ বাঁচিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কয়েকজন চিকিৎসক। পশ্চিমবঙ্গে যেখানে চিকিৎসকদের গণ ইস্তফা, কর্মবিরতি; সেখানে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত দেখা গেছে রাজ্যের তিন হাসপাতালে। 

শুক্রবার ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের প্রতিবাদ ছিল একটু অন্যরকম। বহির্বিভাগে চেয়ার-টেবিল ছেড়ে মাটিতে বসে চিকিৎসা করেন তারা। এনআরএসের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে তাদের মাথায় ছিল লাল রং মাখা ব্যান্ডেজ। তাদের মূল স্লোগান ছিল, রোগী ও জনগণই আমাদের সুরক্ষা বলয়।

আর এনআরএসের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকদের বার্তা ছিল, পরিবহ, এনআরএস ... আমরা তোমার পাশে আছি, সত্যের জয় হবেই।

দাঁতন থেকে নয়াগ্রামে বাবাকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে যাওয়া বিশ্বজিৎ হেমব্রম বলেন, ডাক্তারবাবুরা যেভাবে চিকিৎসা করছেন তা দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। সবচেয়ে বড় কথা তারা রক্ত দিয়েছেন রোগীদের প্রাণ বাঁচাতে। ধন্যবাদ জানাচ্ছি তাদের এই সুন্দর কাজের জন্য।

নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার কৌশিক দাস বলেন, হাসপাতালে বহির্বিভাগে পাঁচশ ৫০ জন রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে। রোগীর আত্মীয়রা জানিয়েছেন, তারা আমাদের রক্ষা করতে প্রস্তুত। চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করার জন্য রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক থেকে রোগীর আত্মীয়, স্বাস্থ্যকর্মী সকলে রক্ত দিয়েছেন।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রোগী ও চিকিৎসক একজোট হওয়া প্রয়োজন। 

পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক হাসপাতালে রোগী ও চিকিৎসক সম্পর্ক বজায় রাখতে আয়োজন করা হয় রক্তদান শিবিরের। সেখানে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রক্ত দেন। আবার এনআরএসে চিকিৎসক নিগ্রহের প্রতিবাদও করেন তারা। ফলে একদিকে প্রতিবাদ আবার অন্যদিকে সমস্ত বিভাগের পরিষেবা স্বাভাবিক থাকায় খুশি রোগীর পরিবার। 

সিএমওএইচ নিতাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, জেলার সব হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে। রোগী ও চিকিৎসক সম্পর্ক ঠিক রয়েছে। চিকিৎসকরা ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামলেও চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটেনি।

আইএমএর তমলুক শাখার সভাপতি আসফাক আহমেদ বলেন, চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনায় আমরা মর্মাহত। আমরা কালো ব্যাজ পরে শহরজুড়ে মিছিল করে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছি। জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছি।

চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে ভিন্ন ছবি ধরা পড়েছে জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালে। শুক্রবার নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালের আউটডোরে হাজির হন চিকিৎসকরা। গ্রাম থেকে আসা রোগীরা পরিষেবা পেয়ে কার্যত অবাক। তাদের বক্তব্য, টিভিতে, কাগজে এক রকম খবর, আবার চিকিৎসা নিতে এসে অন্য দৃশ্য। অনেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চিকিৎসকদের হাতে চকোলেট দেন। জলপাইগুড়ির বাসিন্দা সন্দীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে পরিষেবা নিয়ে যখন অস্থির ছবি, তখন অন্যছবি আমাদের জেলা হাসপাতালে। রোগীরা এসে পরিষেবা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সেই কারণেই তারা সাধ্যমতো চিকিৎসকদের সম্মান জানাতে হাসপাতালে চকোলেট নিয়ে আসেন।

চিকিৎসক সৌরীশ সেন বলেন, এনআরএসের ঘটনা নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করছি। তবে রোগী দেখাটাও আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই রোগী দেখা আমরা বন্ধ রাখিনি। কাজ করার পাশাপাশি আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। খুশি হয়ে অনেক রোগী চকোলেট দিয়েছে আমাদের। আমরাও খুব খুশি। এই সুসম্পর্কটা আমাদের কাজে সহযোগিতা করবে। 

আইএমএর জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক সুশান্ত রায় বলেন, এনআরএসে জুনিয়র চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তবে পরিষেবা বন্ধ রাখার পক্ষে আমরা নই। সে কারণে প্রতিবাদ জানালে পরিষেবা বন্ধ হয়নি।

গত কয়েক দিন ধরে এনআরএসের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন চিকিৎসকরা। বেশ কিছু জায়গায় কর্মবিরতি পালন করার পাশাপাশি উঠে এসেছে ব্যতিক্রমী ছবিও। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, বীরভূমের মুহাম্মদ বাজার, পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর। 

বালুরঘাটে চিকিৎসকরা এক ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতি পালন করে রোগী দেখার কাজ শুরু করেন। মুহাম্মদ বাজার স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য রোগী দেখা বন্ধ রাখা হয়। অন্যদিকে পটাশপুরে রোগীদের হাতে ফুল এবং চকোলেট তুলে দেন সেখানকার চিকিৎসকরা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা