kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জের, মেদিনীপুর মেডিকেলে বিনা চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুন, ২০১৯ ২০:০৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জের, মেদিনীপুর মেডিকেলে বিনা চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু

চিকিৎসকদের লাগাতার আন্দোলনের মধ্যেই আবারো প্রাণ গেল এক নবজাতকের। সাগর দত্ত হাসপাতালের পর এবার ঘটনাস্থল মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

ওই নবজাতকের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ কোলে নিয়ে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। অপরদিকে, এনআরএস কাণ্ডের প্রতিবাদে ওই হাসপাতালের ১০ জন চিকিৎসক শনিবার ইস্তফা দেন।

গত মঙ্গলবার মেদিনীপুরের আকর্ষানগরের এক তরুণীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। তড়িঘড়ি মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেই পুত্রসন্তানের জন্ম দেন ওই নারী। জন্মের পর থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল তার।

সে কারণ নবজাতককে এসএনসিইউ ওয়ার্ডেই রাখা ছিল। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের লাগাতার কর্মবিরতির জেরে তাদের ছেলে ঠিকঠাক পরিষেবা পায়নি। শনিবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, মাত্র তিন দিনের শিশুটি মারা গেছে।

এই খবর শোনার পরই উত্তেজিত হয়ে পড়েন শিশুটির পরিবারের লোকজনরা। চিকিৎসকদের আন্দোলনের মাঝেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন শিশুর মা। অন্যান্য রোগীর পরিজনরাও প্রতিবাদে শামিল হন। 

আন্দোলনকারী চিকিৎসক এবং সদ্যোজাতের পরিজনদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও শুরু হয়। খবর পেয়ে এরই মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও ঘটনাস্থলে যান। শিশুমৃত্যুর যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার সাগর দত্ত হাসপাতালেও মারা যায় এক নবজাতক। জন্ম থেকেই নবজাতকের শ্বাসকষ্টে ভোগার পর বুধবার তার অবস্থার অবনতি হয়। শিশুকে ভেন্টিলেশনে রাখার কথা বললেও ওই হাসপাতালের পরিকাঠামো নেই বলেই জানায় কর্তৃপক্ষ। তাই বাধ্য হয়ে ছেলেকে বাঁচাতে শহরের একের পর এক হাসপাতালে নিয়ে যান শিশুর বাবা।

কিন্তু বি সি রায় শিশু হাসপাতাল থেকে শুরু করে এনআরএস, কলকাতা মেডিকেল কলেজ, আরজিকর কোথাও তার সন্তানের ঠাঁই হয়নি। কর্মবিরতির অজুহাত দেখিয়ে সব জায়গা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় শিশুটিকে। শেষাবধি শিশুটিকে সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও, সেখানে পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেশন না থাকায় তাকে বাঁচানো যায়নি।

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মেদিনীপুর মেডিকেলে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় রোগীর পরিজনদের ক্ষোভ আরো বেড়েছে। চিকিৎসকদের ভূমিকা এবার জনজীবনে বড়সড় নেতিবাচক ঘটনা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা