kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বেদম মারপিটের পর সাংবাদিকের মুখে প্রস্রাব করলো পুলিশ (ভিডিওসহ)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ জুন, ২০১৯ ১৯:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেদম মারপিটের পর সাংবাদিকের মুখে প্রস্রাব করলো পুলিশ (ভিডিওসহ)

ভারতের উত্তরপ্রদেশের শ্যামলি শহরে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে রেলপুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক। ভারতের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ ২৪ এর সাংবাদিক অমিত শর্মার অভিযোগ, মারধরের পর সারারাত আটকে রেখে নির্যাতনের পর তার মুখে প্রস্রাব করেছে রেলপুলিশের সদস্যরা।

ওই সাংবাদিককে মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, সাংবাদিক অমিত শর্মাকে রেল পুলিশের একটি দল মারপিট করছে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে।

অমিত জানান, শ্যামলি জেলায় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছি। রেলপুলিশের একটি দল সারারাত তালাবদ্ধ করে রেখে আমার ওপর অত্যাচার চালিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তারা সাদা পোশাকে ছিল। আমার ক্যামেরা ফেলে দেয় তাদের একজন। ক্যামেরা তুলতে গেলে তারা আমাকে মারধর করে। পরে আটকে রেখে আমার পোশাক খুলে নেয় এবং একপর্যায়ে মুখে মূত্রত্যাগ করে।

মঙ্গলবার রাতে শার্টের কলার ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে ওই সাংবাদিককে আটকে রাখার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ঘটনার প্রতিবাদ করেন। তাদের সঙ্গেও তর্ক করেন রেল পুলিশের কর্মীরা।

সাংবাদিক নির্যাতনের খবর পেয়েই স্থানীয় অন্য সাংবাদিকরা পুলিশ স্টেশনে ছুটে যান এবং অমিত শর্মাকে মারধর করার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেন। সাংবাদিকরা পুলিশের সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে অন্যান্য সাংবাদিকদের বিক্ষোভের পর বুধবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয় অমিত শর্মাকে।

পরে লিখিত অভিযোগে সাংবাদিক অমিত বলেছেন, সাদা পোশাকে ছিলেন রেলপুলিশের কর্মীরা। আটকে রাখার পর আমার জামাকাপড় খুলে নেওয়া হয়। আমার মুখে প্রস্রাব করেন পুলিশকর্মীরা।

ওই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর চাপের মুখে অমিতকে বুধবার ছেড়ে দেয় রেলপুলিশ। অভিযুক্ত স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) রাকেশ কুমার ও তার সঙ্গী কনস্টেবল সঞ্জয় পওয়ারকে বরখাস্ত করা হয়েছে ইতোমধ্যেই। আটক থাকা অবস্থায়ই অফিসার রাকেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন সাংবাদিক অমিত। ওই সময়ই তার সামনের চেয়ারে বসে রাকেশ সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটলো, যার একদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে টুইট করার দায়ে সাংবাদিক প্রশান্ত কানোজিয়াকে গ্রেপ্তারের কারণে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে ভর্ৎসনা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ওই সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়।

দেখুন সেই ভিডিও

মন্তব্য