kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

কলকাতায় হাসপাতালে হামলার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ইন্টার্নদের ধর্মঘট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ জুন, ২০১৯ ১৬:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কলকাতায় হাসপাতালে হামলার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ইন্টার্নদের ধর্মঘট

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এনআরএস হসপিটালের ইন্টার্নদের মার খাওয়ার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ধর্মঘট শুরু করতে চলেছেন বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তাররা। এ তালিকায় রয়েছে আরজিকর, শম্ভুনাথ পণ্ডিত, সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল, কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজ এবং মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ।

এ কথা প্রায় সকলেই জানেন যে, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা সচল রাখার পিছনে ইন্টার্নদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে একসঙ্গে এতগুলো সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে ইন্টার্নরা প্রতিবাদে সামিল হলে রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থায় যে বড়সড় ধাক্কা আসতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু ঠিক কী দাবিতে তারা বিক্ষোভে সামিল হতে চলেছেন সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে এটা স্পষ্টই যে, নিরাপত্তার দাবিতেই এ বার রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে নামতে চলেছে রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তাররা।

সোমবার রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এনআরএস হাসপাতাল চত্বর। মঙ্গলবার সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হাসপাতালের সমস্ত পরিষেবা। বন্ধ আউটডোর এবং ইমার্জেন্সিও। দূর-দূরান্ত থেকে ডাক্তারদের দেখাতে এসে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। গেটের সামনেই অপেক্ষা করছেন বেশ কিছু রোগীর পরিবার। যদি এ বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটে বা পরিষেবা চালু হয়, সেই আশাতেই রয়েছেন তারা। 

অপেক্ষারত এক রোগীর পরিবারের কথায়, ডাক্তাররা মার খাবেন এ ঘটনা মোটেও কাম্য নয়। কিন্তু আমাদের রোগীরা কী দোষ করেছে বলুন তো। আমাদের দরকার বলেই এখানে এসেছি। যত তাড়াতাড়ি এসব মিটবে আমরা ডাক্তার দেখাতে পারব। সেটাই চাই।

তবে ইতোমধ্যেই ইন্টার্নদের বিক্ষোভ নিয়ে অশান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের ওড়গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বনাথ গড়াইয়ের অভিযোগ তার ভাই ভুবনেশ্বর গড়াই দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়। তিনি তার ভাইকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কর্ণপাত করেননি ডাক্তাররা। উল্টে তাকে গালিগালাজ করেন ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়ে বলে অভিযোগ। যদিও কর্মবিরতিতে থাকা ইন্টার্নদের দাবি তারা জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সচল রেখেই আন্দোলন করছেন।

তবে অপেক্ষারত রোগীদের কোনো কথাতেই কর্ণপাত করছেন না বিক্ষোভরত ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তারদের। ক্ষোভে ফুটছে গোটা এনআরএস। মার খাওয়ায় যত না তার চেয়ে অনেক বেশি রাগ পুলিশ এবং কর্তৃপক্ষের ওপর। এক ইন্টার্ন বলেন, আর কত মার খাব আমরা। কাল যখন ঝামেলা তুঙ্গে তখন কী করছিল পুলিশ? কী করছিল কর্তৃপক্ষ? নীরব দর্শক হয়ে আমাদের মার খেতে দেখেছে। 

বিক্ষোভরত ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তারদের সকলেরই একটাই অভিযোগ, আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। যার যখন ইচ্ছে যেমন খুশি একটা অপবাদ দিয়ে মারধর করছে। অনেক হয়েছে। অনেক মার খেয়েছি। আর নয়। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। এবার একটা বিহিত চাই।

যদিও কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভরত ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তারদের অবিলম্বে কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু তাতেও মোটেই পরোয়া করছেন না ইন্টার্ন বা জুনিয়র ডাক্তাররা। তাদের একটাই দাবি। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। অত্যাচার চালানো ওই রোগীর পরিবারকে ক্ষমা চাইতে হবে। গত কয়েক বছরে অসংখ্যবার রোগীর পরিবারের হাতে আক্রান্ত হয়েছে চিকিৎসক মহল। এর বিরুদ্ধে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে তার রিপোর্টও দেখতে চেয়েছেন বিক্ষোভরত ইন্টার্ন এবং জুনিয়ার ডাক্তারদের একাংশ।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সোমবার রাতে। মহম্মদ সাহিদ নামে ৮৫ বছরের ওই বৃদ্ধকে পরশু ভর্তি করা হয়েছিল এনআরএসে। রোগীর পরিজনদের বক্তব্য, সোমবার সকাল পর্যন্ত ভালো ছিলেন তিনি। কিন্তু বিকেল পাঁচটার পর থেকে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন সাহিদ। চিকিৎসকদের বারবার ডাকা সত্ত্বেও কেউ আসেননি। এর পর সন্ধ্যায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ আনেন মৃত সাহিদের পরিবার। ধুন্ধুমার বেঁধে যায় হাসপাতাল চত্বরে। রোগীর পরিবারের ছোঁড়া ইটের আঘাতে গুরতর জখম হয়েছেন দুই ইন্টার্ন। এরপরেই শাট ডাউন পোস্টার লাগিয়ে এনআরএস'র গেটে তালা মেরে দেন বাকি ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ। কার্যত ধর্মঘটে বসেছেন তারা। অচলাবস্থা চলছে গোটা হাসপাতালে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি না হলে, এবং রোগীর পরিবার ক্ষমা না চাইলে কোনমতেই কর্মসূচি থেকে সরবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।
সূত্র: দ্য ওয়াল 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা