kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

রাহুলের ইস্তফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, নরেন্দ্র মোদি এনডিএর নেতা নির্বাচিত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মে, ২০১৯ ০৮:২৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাহুলের ইস্তফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, নরেন্দ্র মোদি এনডিএর নেতা নির্বাচিত

দিল্লিতে কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় মা সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে শলাপরামর্শ করছেন দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

লোকসভা নির্বাচনে ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। এদিকে ১৬তম লোকসভা বিলুপ্তি ঘোষণা করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এ ছাড়া নতুন সরকার গঠনের অনুমতি নিতে গতকাল শনিবার রাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগে এনডিএ জোটের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হন তিনি।

১৭তম লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ৩০৩টির বিপরীতে মাত্র ৫২টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। গত বৃহস্পতিবার লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই শোনা যায়, রাহুল দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।

এ অবস্থায় গতকাল সকাল ১১টায় নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসেন কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা। চার ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠকে কমিটির ৫২ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রাহুল প্রস্তাব তোলেন, নির্বাচনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি দলের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। কিন্তু কমিটির সদস্যরা তাঁর সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) সভাপতি সোনিয়া গান্ধী ও উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব দিতে রাহুল গান্ধীকে কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’ দলের নেতারা বলেন, কংগ্রেসকে ঢেলে সাজানো হবে এবং তা শিগগিরই।

সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা ভিরাপ্পা মৈলি স্বীকার করেন, এবারের নির্বাচনে তাঁদের দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবে সার্বিক ফলাফলকে তিনি ‘বিপর্যয়’ বলতে রাজি নন।

এদিকে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, পদত্যাগের প্রস্তাব কার্যনির্বাহী কমিটি প্রত্যাখ্যান করলেও রাহুল গান্ধী নিজের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট করেননি। তিনি বৈঠক থেকে চুপচাপ বেরিয়ে যান। এর আগে রাহুলের মনোভাব বদলানোর চেষ্টা করেন সোনিয়া গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

এদিকে নতুন সরকার গঠনের অনুমতি চাইতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। গতকাল রাত ৮টার দিকে তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে মোদিকে সরকার গঠনের অনুমতি দেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট—জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) নেতারা।

গতকাল বিকেলে ১৬তম লোকসভা বিলুপ্তি ঘোষণা করেন রামনাথ কোবিন্দ। রাষ্ট্রপতি ভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মন্ত্রিসভার অনুরোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি ১৬তম লোকসভা বিলুপ্তি ঘোষণা করেছেন।’

আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন নরেন্দ্র মোদি। তবে দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানানো হয়নি। গতবারের চেয়ে এবারের শপথ অনুষ্ঠান আরো জাঁকজমক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বরাত দিয়ে গতকাল দ্য হিন্দু পত্রিকার এক খবরে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা মোদির শপথ অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন। আগামী ৩০ মে শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে গতকাল বিকেলে এনডিএর বৈঠক হয়। সেখানে সর্বসম্মতভাবে জোটের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত করা হয় মোদিকে। নির্বাচনে জোট থেকে বিজয়ীদের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন, বিশেষ করে যাঁরা এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের গণতন্ত্র প্রতিনিয়ত পরিণত হচ্ছে। আমাদের এখন নতুন উদ্যমে নতুন ভারত গড়তে নতুন অভিযান শুরু করতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের সেবা করার মানসিকতা নিয়ে পথ চলতে হবে আমাদের।’

বিরোধীদের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা কোনো জায়গা করে নিতে পারেনি। ক্ষমতার দাম্ভিকতা ভারতের জনগণ সাময়িকভাবে সহ্য করলেও কখনো স্বীকার করে না।’ সূত্র : দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা