kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

তারা ফুটল তারা ডুবল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ মে, ২০১৯ ০৮:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তারা ফুটল তারা ডুবল

ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির যে হাওয়া বইছে, তা এবারের লোকসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আরো পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন হয়ে গেল। আর এই হাওয়ার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়েছেন বড় বড় অনেক প্রার্থীও। এই তালিকায় আছেন কংগ্রেসের খোদ প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীও।

জিততে পারেননি সালমান খুরশিদ কিংবা শীলা দীক্ষিতের মতো প্রার্থীও। আধিপত্য ধরে রাখতে পারেনি অনেক আঞ্চলিক দলও।

অন্যদিকে কট্টর হিন্দুত্ববাদের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রায় সবাই জয় পেয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি, রাজনাথ সিং, অমিত শাহ, মানেকা গান্ধী, হেমা মালিনী কিংবা স্মৃতি ইরানি—কাউকেই হারতে হয়নি।

লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হয় উত্তর প্রদেশকে। সেখানে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আসন; ৮০টি। এ কারণে সেখানে হেভিওয়েট প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি। এ তালিকায় আছেন নরেন্দ্র মোদি, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবের মতো নেতা।

মোদি লড়েন বারানসি আসন থেকে। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী অজয় রায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই তৈরি করতে পারেননি। রাইবেরিলি আসন থেকে জয় পেয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। সেখানে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন দীনেশ প্রতাপ সিং। ‘বাপ-দাদার’ আসন হিসেবে পরিচিত হলেও আমেথি আসনে হেরে গেছেন কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী। সেখানে জয়ী হয়েছেন বিজেপির স্মৃতি ইরানি। অন্যদিকে আজমগড়ে জয় পেয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রেসিডেন্ট অখিলেশ যাদব। মনপুরী আসন থেকে জয় পেয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদব। একই প্রদেশের মাথুরা আসন থেকে জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী ও একসময়ের বলিউড তারকা হেমা মালিনী।

একই প্রদেশের ফতেহপুর সিকরি আসনে কংগ্রেস থেকে লড়ে হেরে গেছেন অভিনেতা রাজ বাব্বর। আর লখনউ আসনে জিতেছেন রাজনাথ সিং। উত্তর প্রদেশের সুলতানপুর ও পিলভিত আসনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন যথাক্রমে মানেকা গান্ধী ও তাঁর ছেলে বরুণ গান্ধী। দুজনই জয় পেয়েছেন। রামপুর আসনে হেরে গেছেন বিজেপি প্রার্থী জয়াপ্রদা নাহাতা।

উত্তর-পূর্ব দিল্লি আসনে হেরে গেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী শীলা দীক্ষিত। শ্রীনগর থেকে জিতেছেন জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা (জেকেএনসি) ফারুক আব্দুল্লাহ। তবে জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ আসনে জিততে পারেননি পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি।

কেরালার তিরুবনন্তপুরম আসন থেকে জয় পেয়েছেন কংগ্রেসের শশী থারুর। তবে নয়াদিল্লি আসনে হেরে গেছেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী অজয় মাকেন। ইস্ট দিল্লি আসনে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী ও সাবেক ক্রিকেট তারকা গৌতম গম্ভীর। গুজরাটের গান্ধীনগর আসনে খুব সহজেই জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী অমিত শাহ।

পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার আসনে জিতেছেন তৃণমূল প্রার্থী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি। তবে আসানসোল আসনে হেরে গেছেন তৃণমূলের আরেক প্রার্থী মুনমুন সেন। সেখানে জয় পেয়েছেন বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়।

মহারাষ্ট্রের নাগপুরে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী নীতীন গড়করি। আরেক চলচ্চিত্র অভিনেতা সানি দেওল বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন পাঞ্জাবের গুরদাসপুর আসন থেকে। মধ্য প্রদেশের ভূপাল আসনে হেরে গেছেন কংগ্রেসের দিগ্বিজয়া সিং। মুম্বাই উত্তর আসনে হেরে গেছেন কংগ্রেসের আরেক প্রার্থী ও অভিনেত্রী উর্মিলা মাতন্ডকার। চণ্ডিগড় আসন জিতেছেন বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও অভিনেত্রী কিরণ খের। সূত্র : এনডিটিভি।

মন্তব্য