kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা নেই: মার্কিন সেনা সদর দপ্তর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মে, ২০১৯ ১৭:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা নেই: মার্কিন সেনা সদর দপ্তর

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে মন্তব্য করেছে মার্কিন সেনা সদর দপ্তর পেন্টাগন। মঙ্গলবার মার্কিন আইন-প্রণেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রদর্শন করায় ইরানের হুমকি কমে গেছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভয়াবহ খেলায় মেতে উঠেছে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। এ পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে উভয় দেশে প্রতিনিধি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরাক।

পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেহরানের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা আর বাকযুদ্ধের মধ্যেই মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শন পরবর্তী পরিস্থিতি ও নানা করণীয় তুলে ধরতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে প্যাট্রিক শানাহান বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে নিরুৎসাহী যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিনিদের ওপর ইরানের হামলার সম্ভাবনা আপাতত নেই ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোয় ইরানের হুমকি কমে গেছে।

মার্কিন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান বলেন, আমি মনে করি, ইরান আমাদের কথা শুনছে। বিভিন্ন বিষয় সমাধানের জন্যই আমরা মধ্যপ্রাচ্যে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাচ্ছি। একটা সময় ইরানের কাছ থেকে অধিকতর হুমকি আসছিল এবং আমরা নিশ্চিত করতে চাচ্ছিলাম ইরান যাতে কোনো ভুল হিসেব না করে বসে।

এসময় পারস্য উপসাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও ইরাকের গ্রিনজোনে মার্কিন দূতাবাসের কাছে রকেট নিক্ষেপের জন্য ইরানকে দায়ী করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট উভয় কক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। প্রথমত ইরানের অপতৎপরতা ঠেকাতে করণীয় ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছি আমরা। ৪০ বছর ধরে ইরান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির অতীতের সবকিছু মাথায় রেখেই আমরা সামনে এগোতে চাই।

এদিকে, ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির শর্ত মেনে না নেয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় বলে আবারো জানিয়েছে তেহরান। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাতকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে মরণ খেলায় মেতে উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, আমরা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় যাবো না। ইরান কোনো হুমকির কাছে মাথানত করবে না এবং চাপের মুখে ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করা যাবে না। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে অত্যন্ত ভয়াবহ খেলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি ছোট্ট এলাকায় এ ধরনের সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি এমনিতেই ঘটনার জন্ম দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া অর্থনৈতিক যুদ্ধকে চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ আখ্যা দিয়ে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, মার্কিন সরকার এ যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের সরকার নয় বরং ৮ কোটি ইরানি জনগণকে টার্গেট করেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এতটা নিষ্ঠুর আচরণ করছে যে, তারা ইরানে খাদ্য ও ওষুধ পর্যন্ত প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। ইরানের জনগণ কখনোই শত্রুর বল প্রয়োগের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। যেকোনো মূল্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করবো আমরা।

দুই দেশের চরম এ উত্তেজনা যুদ্ধে রূপ নিক তা বাগদাদ কখনোই চায় না বলে জানিয়েছে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল মাহদি। উত্তেজনা প্রহসনে ওয়াশিংটন ও তেহরানে প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা জানান তিনি।

পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েনের পর ওয়াশিংটন- তেহরান যুদ্ধের দামামা বেজে উঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেও এক জরিপ বলছে, অধিকাংশ মার্কিনিই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে। আর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের চির প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও তাদের মিত্রদের আবদার পূরণেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মন্তব্য