kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

মধ্যপ্রাচ্যে এখন লাখ টন ব্যারোমিটার উত্তেজনার উৎস রণতরী আব্রাহাম লিংকন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মে, ২০১৯ ২২:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধ্যপ্রাচ্যে এখন লাখ টন ব্যারোমিটার উত্তেজনার উৎস রণতরী আব্রাহাম লিংকন

মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং একটি বম্বার টাস্ক ফোর্স মোতায়েন করায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে এক লাখ টন ব্যারোমিটার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যা অতি সহজে ডেকে আনতে পারে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। যেকোনো সময় পরমাণু শক্তিধর দুইটি দেশের মধ্যে লেগে যেতে পারে যুদ্ধ। 

এখন পর্যন্ত লিংকন ও তার সাথে থাকা যুদ্ধ জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরীয় এলাকায় প্রবেশ করেছে। যুক্তারাষ্ট্র এরকমটাই বলছে। আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যান্য যুদ্ধজাহাজগুলো অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। এই জাহাজগুলো আব্রাহাম লিংকন থেকে এক হাজার কিলোমিটার (৬২০ মাইল) দূরে রয়েছে। যদিও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এই বিলম্বের বিষয়টি জনসম্মুখে ব্যাখ্যা করছেন না।

গত বছরের ডিসেম্বরে ৩০টি ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের জাহাজ ইউএসএস জন সি. স্টেনিস এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ারকে পর্যবেক্ষণ করে। এছাড়াও এই জাহাজে কী করা হচ্ছে তা দেখতে একটি ছোট জাহাজ চালু করা হয়। 

আমেরিকান যুদ্ধবিমানগুলো থেকে দেখা গেছে, ইরানিরা রকেট নিক্ষেপ করেছে অথবা পরীক্ষা করেছে মেশিন গান থেকে। এছাড়াও ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের ছোট জাহাজগুলো ইউএসএস জন সি. স্টেনিস এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ারের সামনে দিয়ে বিপজ্জনকভাবে চলাচল করছিলো। তাদের অস্ত্রাগারে বোমা বহনকারী ড্রোন, সমুদ্র থেকে সমুদ্র আক্রমণ করতে সক্ষম মিসাইল, ভূপৃষ্ঠ থেকে সমুদ্র আঘাত আনতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র সমৃদ্ধ করেছে। 

ইরানের সঙ্গে বিশ্বের ক্ষমতাবান দেশগুলোর যে পরমাণু চুক্তি হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল ইরান যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে তার পরমাণু কর্মসূচী ব্যবহার করতে না পারে। এই চুক্তির অধীনে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচী সীমিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের সেগুলো পরিদর্শন করতে দিতে রাজী হয়। এর বিনিময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ব বাজারে নিজস্ব অপরিশোধিত তেল বিক্রি করতে অসুবিধায় পড়েছে তেহেরান। তাই ইরান ক্রমাগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।

এই প্রণালীর মধ্যে যেকোনো ট্রানজিট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে ১৯৮৮ সালের দিকে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইরানের একটি বাণিজ্যিক বিমানকে গুলি করে ধ্বংস করে। এই ঘটনায় বিমানে থাকা ২৯০ জন যাত্রী নিহত হয়। 

সূত্র: দ্য স্টার

মন্তব্য