kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

জিহাদি জনের নির্যাতনের স্মৃতি আজো ফেড্রিককে তাড়িয়ে বেড়ায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মে, ২০১৯ ১৭:১৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জিহাদি জনের নির্যাতনের স্মৃতি আজো ফেড্রিককে তাড়িয়ে বেড়ায়

আইএসআইএসের নিষ্ঠুর যুদ্ধা জিহাদি জন বন্দীদের ‘রেসলিং স্টাইল’য়ে নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে বাধ্য করতো। আর লড়াই করতে না পারলে তাদের সাথে চালাতো অমানবিক আচরণ। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ফেড্রিক নামের আইএসআইএসের এক বন্দী এই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেন। আর সেই নির্যাতনের স্মৃতি আজো তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। 

ইটালিয়েন সমাজকর্মী ফেড্রিক মটিকা (৩৫) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানান, জন নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করতে বলতো বন্দীদের। যুদ্ধ করতে না পারলে তাদের সাথে চালাতো নিষ্ঠুর আচরণ।

ফেড্রিক বলেন, রয়্যাল রাম্বল করার জন্য আমাদেরকে একটি সেলে রাখা হতো। আমরা নিজেদেরে মধ্যে যুদ্ধ করতে চাইতাম না। কিন্তু শাস্তি ভয়ে এড়িয়ে যাওয়া যেতো না। এ সময় আমাদের শরীরের মংস বলতে কিছুই ছিলো না। কঙ্কালসার হয়ে গিয়েছিলো। লড়াইয়ের সময় আমরা অনেকেই আজ্ঞান হয়ে যেতাম। আমি আজো ভুলতে পারিনি নির্যাতনের সেই নির্মম স্মৃতি। 

এ ছাড়াও বন্দীদের নানান ধরনের নির্যাতন করতো জনের ডেথ স্কোয়াডের সদস্যরা। তারা বন্দীদের নিষ্ঠুর নির্যাতন, মারধর করতো। সেই সাথে তাদের ঠিক সময়ে ঘুমাতে দেওয়া হতো না।

জিহাদি জনের আসল নাম মোহাম্মাদ ইমওয়াজি। জন আইএসআইএসের একটি ডেথ স্কোয়াডে প্রধান ছিলো। অনেক সময় ক্যামারার সামনে বন্দীদের শিরশ্ছেদ করতো। সেই সাথে জন বন্দীদের সাথে চালাতো অমানবিক নির্যাতন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক ড্রোন হামলায় তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় জন সিরিয়ার রাকা অঞ্চলে বসবাস করছিলো। ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে চালানো হয় ড্রোন হামলা।  

২০১৩ সালের মার্চ মাসে ফেড্রিক মটিকাকে ডেভিড হেনিয়েনসের সাথে আইএস যুদ্ধারা বন্দী করে নিয়ে যায়। পরে ক্যামেরার সামনে ডেভিডের শরীর থেকে মাথা আলাদা করে হত্যা করা হয় ২০১৪ সালে। ডেভিডের শিরশ্ছেদ করেন জন। কিন্তু বেঁচে গিয়েছিলেন ফেড্রিক।
  
ডেভিডের হত্যার পর মরদেহ খোঁজতে সিরিয়া গিয়েছিলেন তাঁর মেয়ে বেথেনি (২২)। সেখানে গিয়ে তাঁর বাবার মরদেহ উদ্ধার করেন তিনি।

সূত্র: দ্য সান, নিউজ ডট কম

মন্তব্য