kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

ভারতে আবার ক্ষমতায় আসছে বিজেপি!

ভোট শেষে বুথফেরত জরিপে আভাস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মে, ২০১৯ ০৮:৪১ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ভারতে আবার ক্ষমতায় আসছে বিজেপি!

ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের আবারও ক্ষমতায় আসার পূর্বাভাস মিলেছে। গতকাল রবিবার চূড়ান্ত দফায় লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর বেশির ভাগ বুথফেরত সমীক্ষাই (এক্সিট পোল রেজাল্ট) বলছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। অধিকাংশ সমীক্ষাই বলছে, এনডিএ তিন শর বেশি আসন পেতে যাচ্ছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পাবে ১৩০টির মতো আসন। আগামী ২৩ মে নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করবে ভোটের ফল।

গতকাল সপ্তম দফায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতার মধ্য দিয়ে দেশটির সাতটি রাজ্যের ৫৯ আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সাত দফায় লোকসভার মোট ৫৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলো। গতকাল ভোট হয় উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের ১৩টি আসন, পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আসন, বিহার ও মধ্য প্রদেশে আটটি করে আসন, হিমাচল প্রদেশের চারটি আসন, ঝাড়খণ্ডের তিনটি আসন ও চণ্ডীগড়ের একটি আসনে। শেষ দফায়ও পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং জাল ভোট ও প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার মতো অভিযোগ ওঠে। গত ১১ এপ্রিল শুরু হয়েছিল বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক নির্বাচন লোকসভার ভোটগ্রহণ।

বুথফেরত জরিপ : এনডিএ জোট পেতে পারে তিন শর বেশি আসন। অন্তত বেশির ভাগ বুথফেরত সমীক্ষা এমনটাই জানাচ্ছে। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষারই ইঙ্গিত, এনডিএ জোট একক শক্তিতে ক্ষমতায় ফিরছে। যেসব রাজ্যে সরাসরি কংগ্রেস ও বিজেপির লড়াই, সেসব রাজ্যে কংগ্রেসকে কার্যত ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে বিজেপি। অধিকাংশ রাজ্যেই কংগ্রেস জোটের ওপর ভারি বিজেপি জোট। এমনকি এ রাজ্যেও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ভালো ফল করবে বিজেপি।

টাইমস নাও-ভিএমআর মতে ভোটের ফল হতে পারে এনডিএ ৩০৬, ইউপিএ ১৩২ ও অন্যান্য ১০৪টি আসন।

রিপাবলিক টিভি-সি ভোটারের মতে, নির্বাচনে এনডিএ পাবে ২৮৭ আসন, ইউপিএ ১২৮ এবং অন্যরা পাবে ১২৭ আসন।

নিউজ নেশনের জরিপ মতে, এনডিএ ২৮২-২৯০টি, ইউপিএ ১১৮-১২৬টি ও অন্যান্য ১৩০-১৩৮টি আসন পাবে।

ভারতের নির্বাচনে নিউজ এইটিনের জরিপকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সংস্থার মতে, লোকসভা নির্বাচনের ফল হবে এনডিএ ৩০৫, ইউপিএ ১২৮ ও অন্যান্য ৮৭টি আসন।

এবিপি নিউজের মতে, এনডিএ ২৬৭, ইউপিএ ১২৭, অন্যান্য ১৪৮টি আসন।

এবিপি নিয়েলসনের মতে, বিজেপি জোট ২৬২, কংগ্রেস জোট ১২৭ ও অন্যান্য ১৪৮ আসন।

সিএনএন-নিউজ এইটিন আইপিএসওএসের মতে, বিজেপি জোট ৩৩৬, কংগ্রেস জোট ৮২ ও অন্যান ১২৪।

ইন্ডিয়া টুডে-অক্সিসের মতে, বিজেপি জোট ৩৩৯-৩৩৫, কংগ্রেস জোট ৭৭-১০৮ ও অন্যান্য ৭৯ থেকে ১১১টি আসন।

জান কি বাতের মতে, বিজেপি ৩০৫ ও কংগ্রেজ জোট ১২৪। বাকিগুলো অন্যরা।

রাজ্যওয়ারি হিসাব : বুথফেরত জরিপ মতে, এনডিএ সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে বিহার ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলোতে। এই রাজ্যগুলোতে মহাজোট হওয়া সত্ত্বেও বিজেপির মোট আসনে সেভাবে ভাগ বসাতে পারেনি কংগ্রেস। মহারাষ্ট্রের ৪৮ আসনের মধ্যে অধিকাংশ এক্সিট পোলের মতে, এবারও চল্লিশের বেশি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। বিহারেও ৪০ আসনের মধ্যে ত্রিশের বেশি আসন পাচ্ছে এনডিএ। সদ্য যে তিন রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছে, সেই রাজ্যগুলোতেও বিজেপির থেকে কয়েক শ যোজন পিছিয়ে কংগ্রেস।

মধ্য প্রদেশের ২৯ আসনের মধ্যে বিজেপি পেতে পারে ২৫টিরও বেশি আসন। রাজস্থানের ২৫ আসনের মধ্যে বিশের বেশি আসন পেতে পারে বিজেপি। উত্তর প্রদেশে মহাজোট ভালো ফল করলেও প্রত্যাশার তুলনায় আসন কম আসছে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির।

‘টাইমস নাও’ ও ‘জন কি বাত’-এর জরিপ মতে, মহাজোট সত্ত্বেও যোগীর রাজ্য উত্তর প্রদেশে পঞ্চাশের বেশি আসন পাচ্ছে বিজেপি। তবে এবিপি-নিয়েলসনের মতে, এ রাজ্যে বিজেপি পাচ্ছে মাত্র ২২টি আসন। এ রাজ্যে অধিকাংশ এক্সিট পোলই বিজেপিকে ১২-১৬টি আসনে এগিয়ে রেখেছে। দক্ষিণ ভারতে তুলনামূলক ভালো ফল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএর। বিশেষ করে কেরল ও তামিলনাড়ুতে অধিকাংশ আসনই জিতছে ইউপিএ। অন্যদিকে কর্ণাটকে চূড়ান্ত ব্যর্থতার মুখ দেখতে পারে কংগ্রেস-জেডিএস জোট।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আসন বাড়ছে : অন্যদিকে আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, এবিপি-এসি নিয়েলসেনের সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ২৮টি, বিজেপি ১১টি, কংগ্রেস দুটি এবং অন্যরা পেতে পারে একটি আসন। রিপাবলিক টিভির সমীক্ষায় এ রাজ্যে তৃণমূল ২৯টি, বিজেপি ১১টি ও কংগ্রেস দুটি আসন পেতে পারে। গত নির্বাচনে বিজেপি এ রাজ্যে মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল। সে হিসাবে পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের উত্থান ঘটতে যাচ্ছে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলটির।

তবে বুথফেরত এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি গতকাল সন্ধ্যার পর টুইটারে এক পোস্টে বলেছেন, ‘এই এক্সিট পোল আমি বিশ্বাস করি না। এটা একটা চক্রান্ত, যার মাধ্যমে হাজার হাজার ইভিএমে কারচুপি করার কিংবা ইভিএম বদল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমি সব বিরোধী দলের কাছে আবেদন করছি, যাতে সবাই একজোট থাকে, শক্ত থাকে। আমরা একসঙ্গে এই লড়াই লড়ব।’

শেষ দফায় ৫৯ আসনে ভোট : গতকাল সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্বের যবনিকা ঘটে। সপ্তম তথা শেষ দফা ভোটে ভারতবাসীর বিশেষ নজর ছিল উত্তর প্রদেশের ‘হাই ভোল্টেজ’ আসন বারানসিতে। পাঁচ বছর আগে প্রবল ঝড় তুলে বারানসি থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন ‘গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী’ নরেন্দ্র মোদি। লড়াইটা শক্ত ছিল। তাঁর প্রতিপক্ষের নাম আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

পশ্চিবঙ্গে সহিংসতা, বোমাবাজি ও ব্যাপক অনিয়ম : গতকাল পশ্চিমবঙ্গের ৯টি লোকসভা আসনে ভোট হয়। আসনগুলো হচ্ছে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতাসহ দমদম, বারাসাত, বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার ও যাদবপুর।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদারীপুরে ব্যাপক বোমাবাজি হয়। খবর সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বেধড়ক মারধর করা হয়। সকাল সোয়া ১১টার দিকে মথুরাপুর লোকসভা আসনের ঢোলাহাট সাতপুকর কেন্দ্রে বোমাবাজির অভিযোগ করে তৃণমূল। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে খোদ কলকাতায় বোমাবাজি ঘটে। রবীন্দ্র সরণিতে ভোটকেন্দ্রের খুব কাছে বাইকে চড়ে এসে বোমাবাজি করে দুষ্কৃতকারীরা।

দমদম ও মথুরা আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও বিপক্ষ দলের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া বেলগাছিয়া, সন্দেশখালী, মণিপুর, কাঁকিনাড়া বাজার, গাজীপুরসহ প্রায় দুই ডজন ভোটকেন্দ্রে বিজেপি ও সিপিআইএমের এজেন্টদের বের করে বুথ দখলের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র কেন্দ্র ঘুরে নির্বাচন তদারকি এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগও ওঠে। এ ছাড়া নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজেপির পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা