kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

লোকসভার শেষ ধাপের ভোটে মোদির ভাগ্য পরীক্ষা আজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মে, ২০১৯ ০৮:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোকসভার শেষ ধাপের ভোটে মোদির ভাগ্য পরীক্ষা আজ

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম অর্থাৎ শেষ ধাপের ভোট আজ রবিবার গ্রহণ করা হবে। এদিন ভোট হবে আটটি রাজ্যের ৫৯টি আসনে। শেষ ধাপের এই ভোটের ৯১৮ প্রার্থীর মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। আর আজকের ভোট গ্রহণের পরই শুরু হয়ে যাবে ২৩ মের অপেক্ষা। ওই দিনই জানা যাবে, দেশটির জনগণ কার পক্ষে রায় দিয়েছে—নরেন্দ্র মোদি নাকি রাহুল গান্ধীর পক্ষে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আজ উত্তর প্রদেশের ১৩টি, পশ্চিমবঙ্গের ৯টি, পাঞ্জাবের ১৩টি, বিহারের আটটি, মধ্যপ্রদেশের আটটি, ঝাড়খণ্ডের তিনটি, হিমাচলের চারটি এবং কেন্দ্রশাসিত চণ্ডীগড়ের একটি আসনে ভোট হবে। মোট ভোটার ১০ লাখের বেশি। গত লোকসভা নির্বাচনে এই ৫৯টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল ৩০টিতে।

আজ যাঁদের ভাগ্য পরীক্ষা হবে তাঁদের মধ্যে নরেন্দ্র মোদিও আছেন। অন্যান্য হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে আছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ, বিজেপি নেতা ও অভিনেতা কিরণ খের, কংগ্রেস নেতা শত্রুঘ্ন সিনহা এবং বলিউড তারকা সানি দেওলও।

মোদি লড়ছেন উত্তর প্রদেশের বারানসি আসন থেকে। ভোটের আগের দিনটা অবশ্য প্রার্থনার জন্যই বেছে নিয়েছিলেন মোদি। গতকাল তিনি পূজা দেন উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরে।

ধারণা করা হচ্ছে, বারানসি আসনে মোদির লড়াইটা হবে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির (এসপি-বিএসপি জোট) প্রার্থী শালীনি যাদবের সঙ্গে। এ ছাড়া সেখানে কংগ্রেসের প্রার্থী অজয় রায়ও মোদির অনেক ভোট কাটবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তর প্রদেশের মোট আসন ৮০টি। এ কারণে লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেখানে এসপি-বিএসপি জোট বিজেপির জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ হলো, সেখানকার যাদব ও দলিত শ্রেণির ভোটারদের পাশাপাশি মুসলিম জনগোষ্ঠীও বিজেপির প্রতি সন্তুষ্ট নয়।

২০১৪ সালের নির্বাচনে ওই প্রদেশের ৭২টি আসনই বিজেপি পেয়েছিল। কিন্তু এবার হিসাব উল্টে যেতে পারে। এসপি-বিএসপি জোট এমন সব প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যাঁরা জাতিগোষ্ঠীর জায়গা থেকে স্থানীয় লোকজনের কাছে অনেক জনপ্রিয়।

একই কারণে বিজেপির ভরাডুবি হতে পারে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়েও। এই আশঙ্কা অবশ্য বিজেপির মধ্যেও আছে। এ কারণে ‘ক্ষতি পুষিয়ে নিতে’ তারা এবার পশ্চিমবঙ্গের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে।

উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা, দমদম, বারাসাত, বসিরহাট, যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবার, জয়নগর ও মথুরাপুর—পশ্চিমবঙ্গের এই ৯টি আসনে আজ ভোট হবে। যাদবপুর ছাড়া বাকি আসনগুলোতে তৃণমূল, কংগ্রেস, বাম ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার কথা। যাদবপুরে কংগ্রেস কোনো প্রার্থী দেয়নি।

পশ্চিমবঙ্গে হেভিওয়েট কিংবা ‘তারকা’ প্রার্থীদের মধ্যে আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী।

গত ছয় ধাপের নির্বাচনে যেসব রাজ্যে সবচেয়ে সহিংসতা ঘটেছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও আছে। আজ শেষ ধাপের ভোটেও সেখানে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে পাঞ্জাবে এখন কংগ্রেসের আধিপত্য। কৃষকদের ঋণ মওকুফের আশ্বাস দিয়ে সেই আধিপত্য এবারও ধরে রাখতে চায় তারা। কিন্তু নির্বাচনি প্রচারে মোদি নানাভাবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সেখানকার ভোটারদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর সেখানে শিখবিরোধী দাঙ্গার বিষয়টি তিনি বারবার সামনে এনেছেন। সূত্র : রয়টার্স, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা