kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসায় বাড়ছে অন্য ধর্মের শিক্ষার্থী সংখ্যা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মে, ২০১৯ ১৬:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসায় বাড়ছে অন্য ধর্মের শিক্ষার্থী সংখ্যা

মাদ্রাসায় সচরাচর মুসলমান শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে থাকে। তবে গত বছরের হিসাব অনুসারে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তিন হাজার চারশ ৮৮ জন অন্য ধর্মের শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল। 

এ বছর সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার দু'শ ৫৪ জন। ফল প্রকাশের পরে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার ৮৩ দশমিক ০২। সেখানে ৭৩ দশমিক ২৭ শতাংশ অন্য ধর্মের পরীক্ষার্থী পাস করেছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুসারে, এ বছর ৪৫ হাজার নয়শ ৫০ জন মাদ্রাসা পরীক্ষার্থী ছিল। তার মধ্যে ছয় হাজার দু'শ ৫৪ জন অন্য ধর্মের পরীক্ষার্থী। এবার তিন হাজার পাঁচশ ৫৬ জন অন্য ধর্মের (সাধারণ) পরীক্ষার্থী মাদ্রাসা পরীক্ষা দিয়েছিল। তার মধ্যে পাস করেছে দুই হাজার সাতশ ৩৩ জন। তফসিলি জাতির পরীক্ষার্থী ছিল নয়শ ৬৪ জন। পাস করেছে ছয়শ ৮৪ জন। তিনশ ১৬ জন তফসিলি উপজাতি পরীক্ষার্থী ছিল। পাস করেছে একশ ৮৫ জন। এক হাজার চারশ ১৮ জন ওবিসি শিক্ষার্থী মাদ্রাসা পরীক্ষায় বসেছিল। পাস করেছে এক হাজার একশ ৩০ জন।

জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পূরবী বিশ্বাস দে জানান, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, উচ্চশিক্ষা সংসদ এবং মাদ্রাসার সিলেবাসে বিশেষ পার্থক্য নেই। মাদ্রাসায় অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে একটি আরবি ও ইসলাম পরিচয় নামে দু’টি বিষয় পড়ানো হয়। এছাড়া মাদ্রাসায় পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন। পরিকাঠামোও ভালো। ফলে অন্য বিদ্যালয়ের তুলনায় মাদ্রাসার পরিকাঠামোর খুব একটা তফাৎ নেই।

মুর্শিদাবাদের লালগোলার আইসিআর হাই মাদ্রাসা থেকে সুমি সরকার ৭৩৮ নম্বর পেয়ে তার মাদ্রাসায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। ইসলাম পরিচয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে সুমি পেয়েছে ৯৪। ইসলাম পরিচয়ে মূলত কোরান, হাদিস রয়েছে। অন্য ধর্মের মেয়ে ৯৪ নম্বর পেয়ে স্কুলে তাক লাগিয়েছে। অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে নেওয়া আরবিতেও সুমি পেয়েছে ৫০ নম্বর। 

সুমি জানায়, পঞ্চম শ্রেণি থেকে এই মাদ্রাসায় পড়ছি। আরবি, ইসলাম পরিচয় প্রথম দিকে পড়তে কিছুটা অসুবিধা হত। পরে অবশ্য স্যাররা ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তার পরে আর কোনো অসুবিধা হয়নি।

সুমির বাবা কুশধ্বজ সরকার বলেন, সুমিকে নিয়ে আমার চার মেয়ে এই মাদ্রাসা থেকে মাধ্যমিক পাস করল। এখানে পড়াশোনা ভালো হয় বলেই মেয়েদের এখানে পড়তে পাঠিয়েছি। ইংরজি, উর্দু, সংস্কৃতের মতো আরবিও একটি ভাষা। মাদ্রাসায় পড়াশোনার ফলে মেয়ে তো নতুন একটি ভাষা শেখার সুযোগ পেয়েছে।

লালগোলার আইসিআর হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মহম্মদ আব্দুর রউফ সিদ্দিকি বলেন, আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বরাবরই ভালো ফল করে। মুসলিমদের পাশাপাশি অনেক অন্য ধর্মের ছেলেমেয়ে এখান থেকে পড়াশোনা করে ভালো ফল করেছে। এবারেও সুমি সরকার নামে এক ছাত্রী আমাদের মাদ্রাসায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। আমাদের মাদ্রাসায় এই মুহূর্তে হাজার চারেক শিক্ষার্থী রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় চার শতাংশ অন্য ধর্মের ছেলেমেয়ে।

মন্তব্য