kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

যুক্তরাষ্ট্রের একজন অভাবি জেলে মৃত্যুর আগে স্ত্রীকে লিখে গেলেন ‘সমুদ্র অনেক বড়’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০১৯ ১৬:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের একজন অভাবি জেলে মৃত্যুর আগে স্ত্রীকে লিখে গেলেন ‘সমুদ্র অনেক বড়’

গভীর সমুদ্রে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন নাগরিক। কিন্তু সমুদ্রে হঠাৎ ঝড় উঠলে ভেঙে যায় নৌকা। ভাসতে থাকেন তিনজনই। জীবন বাঁচাতে চেষ্টা করেছিলেন সবাই। কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি। তবে মারা যাওয়ার আগে লাইফ জ্যাকেটে ভেসে ডেনিস পোর্টার নামের এক অভাবি জেলে তাঁর স্ত্রীর সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে মোবাইল ফোনে একটি খুদে বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি লিখেন, আসলেই সমুদ্র অনেক বড়। 

স্থানীয় সময় গত বুধবার এই ঘটনার ব্যপারে জানতে পারে মার্কিন কোস্ট গার্ড। এক সাপ্তাহব্যাপী কাঁকড়া শিকারে বের হয়েছিলেন তাঁরা। তবে তিনি দিনের মাথায়ই এই ঘটনা ঘটে। ডেনিস পর্টার নামের ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অনেক খুদে বার্তা পাঠিয়ে ছিলেন। তাছাড়া তিনি দু’বার ফোন কলও করেছিলন। 

পোর্টারের স্ত্রী সব সময়া তাঁর নিরাপত্তার বিষয়ে চিন্তিত থাকতেন। কিন্তু তিনি সব সময়ই মাছ শিকার করতে নৌকা নিয়ে সমুদ্রে যেতেন। কারণ তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে এই পথ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো না। 

পোর্টারের স্ত্রী বলেন, আমরা সবসময়ই এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতাম। তাঁকে আমি সমুদ্রে যেতে নিষেধ করাতাম। কিন্তু সে বলতো আমাদের অনেক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। 

এই ঘটনার পর কোস্ট গার্ড তাঁদের উদ্ধার করে। পরে তাদের শরীরে নান ধরনের পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার পর নৌকায় থাকা স্টিফেন বাইয়ারনারাকীর শরীরে এক ধরনের ড্রাগের সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁর শরীরে যে ধরনের ড্রাগ পাওয়া যায় তা আইনি সীমার নিচে বলে জানা যায়। তবে সমুদ্রে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত ছিলো না। 

টক্সিকোলজি বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান এম বুরগিউস বলেন, স্টিফেন নৌকায় করে শিকারে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত ছিলেন না। আমি বলব তিনি সমুদ্রযাত্রার জন্য উপযোগী ছিলো না।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, সম্প্রতি স্টিফেন দেশটির ওরগন রাজ্যে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি অভিজ্ঞ জেলে পোর্টারকে সাথে নিয়ে কাঁকড়া ধরতে যান। কাঁকড়া ধরতে যাওয়ার পর স্টিফেন পোর্টারে কোনো কথাকেই গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। তিনি নিজের ইচ্ছা মতো কাজ করছিলেন। কাঁকড়া শিকারে যাওয়ার আগে সমুদ্রের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেনি। তিনি জানতেনও না নৌকা চালানোর জন্য কীভাবে নৌকা চালানোর উপকরণগুলো ব্যবহার করতে হয়।

এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি স্টিফেনের পরিবার। 

মন্তব্য