kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে কেন ফুঁসছে ঝাড়খণ্ডের এই গ্রাম?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০১৯ ১৩:২৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে কেন ফুঁসছে ঝাড়খণ্ডের এই গ্রাম?

কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। কিন্তু কলকাতা থেকে বহুদূরে বসে মূর্তি ভাঙার শোক পালন করছে ঝাড়খণ্ড বিদ্যাসাগর স্মৃতি রক্ষা সমিতি ও বিহার বাঙালী সমিতি। কিন্তু কেন তাদের সেই অবস্থান? এ প্রসঙ্গে জানা যায়, ঝাড়খন্ডের জামতারার কার্মাটাঁড়ে জীবনের শেষ দিনগুলো কাটান বিদ্যাসাগর। সেখানে তাঁর জমি-বাড়ি রয়েছে। সেখান থেকেও উঠেছে তাঁর মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদ।

মূর্তি ভাঙার ঘটনার তদন্ত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানাচ্ছে বিদ্যাসাগর স্মৃতিরক্ষা সমিতি। এরই পাশাপাশি মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের কাছে প্রতিবাদ পত্রও পাঠাচ্ছে ওই সমিতি।

ঝাড়খণ্ডের জামতারার কার্মাটাঁড়ে বিদ্যাসাগরের জমি-বাড়ি রয়েছে। এই সেই গ্রাম, যেখানে শেষজীবন কাটান বাংলার অন্যতম মনীষী। সেই জমির তত্ত্বাবধানে রয়েছে বিহার বাঙালী সমিতি। জমির কেন্দ্রে ১১ কামরার মূল ভবন। সেই বাড়িকে কেন্দ্র করে নানা সামাজিক কর্মসূচি পালন করছে বিদ্যাসাগর স্মৃতিরক্ষা সমিতি।

কার্মাটাঁড়ে প্রায় ১৬-১৭ বছর বসবাস করেন ঈশ্বরচন্দ্র। সেখানে আদিবাসী সমাজের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেন তিনি। বর্ণপরিচয়ের ষষ্ঠ সংস্করণ প্রকাশ করেন সেখানকার ঠিকানায়।

শুধু বিদ্যাসাগরের জমি-বাড়ি আগলে রাখা বা তাঁর মূর্তি স্থাপন নয়, তাঁর নামে রেল স্টেশনও রয়েছে ঝাড়খন্ডে। জামতারায় স্মৃতিরক্ষা সমিতির প্রথম বৈঠক হয় ১৯৭৩-এর ২৭-২৯ এপ্রিল। সেই তিন দিনের বৈঠকে অন্যান্য প্রস্তাবের সঙ্গে কার্মাটাঁড় রেল স্টেশনের নাম বিদ্যাসাগর রাখার প্রস্তাব পাশ হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কছে সেই দাবি জানানো হয়। পরে ১৯৭৮ সালে কার্মাটাঁড় রেল স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বিদ্যাসাগর।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা