kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে মূর্তি ভাঙার ‘সংস্কৃতিতে’ ভারত?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০১৯ ১২:২২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে মূর্তি ভাঙার ‘সংস্কৃতিতে’ ভারত?

ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বিপক্ষের মূর্তি ভাঙাকে যেন ‘ট্র্যাডিশনে’ পরিণত করেছে। প্রায়ই দেখা যাচ্ছে মূর্তি ভাঙার পাল্টা হিসেবে মূর্তিই ‘টার্গেট’ হচ্ছে। এবার তেমনই এক প্রতিহিংসার বলি হলো কলকাতায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি।

বছরখানেক আগে ত্রিপুরায় লেনিনের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে কলকাতার কেওড়াতলা শ্মশান সংলগ্ন চিত্তরঞ্জন স্মৃতি উদ্যানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে কালি লাগিয়ে সেটির একাংশ ভেঙেও দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের মার্চের সেই ঘটনায় সাত জন ‘নকশালপন্থী’ পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

ত্রিপুরায় বিধানসভা ভোটে হেরে গিয়ে বামফ্রন্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে লেনিনের মূর্তি ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তারই পাল্টা হিসেবে কেওড়াতলা শ্মশানে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি ভাঙা হয়। ওই ভাঙচুরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যের প্রাক্তন পড়ুয়া তথা নকশালপন্থী সংগঠন ‘র‌্যাডিক্যাল’-এর আহ্বায়ক অভিষেক মুখোপাধ্যায়। অভিষেক অবশ্য শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি ভাঙার ঘটনার সঙ্গে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙাকে এক আসনে বসাতে নারাজ।

তিনি বলেন, ‘গত বছর বিজেপি-আরএসএস সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে ত্রিপুরায় লেনিন, উত্তরপ্রদেশে অম্বেডকর এবং দক্ষিণ ভারতে পেরিয়ারের মূর্তি ভেঙেছিল। পরপর তিন জন মনীষীর মূর্তি ভাঙার পরেও সেই সময়ে বামপন্থীদের তরফে কোনও জোরালো প্রতিবাদ উঠে আসেনি। আমরা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি ভাঙাকেই পাল্টা হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম।’

সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার বলেন, ‘মূর্তি ভাঙার পরেও অপরাধীরা হেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে মূর্তি ভাঙার ঘটনাটিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে ভাবে ‘ইস্যু’ করছে, তা হাস্যকর। মূর্তি থাকলেও তা দিনের পর দিন বিষ্ঠায় ভরে থাকে। এর দায় কি কেউ নেবেন না? প্রায়শ্চিত্ত কে করবে?’

শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি ভাঙচুরে এক অভিযুক্ত সুরজিৎ দাস বলেন, ‘আমরা মূর্তি ভাঙাকে কোনও ভাবেই সমর্থন করি না। কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে আমরা শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি ভেঙেছিলাম, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।’

সূত্র : আনন্দবাজার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা