kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

ব্রিটেনের পর অস্ট্রেলিয়া গিয়ে ভাই আমার বদলে গেল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ২০:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রিটেনের পর অস্ট্রেলিয়া গিয়ে ভাই আমার বদলে গেল

যুক্তরাজ্য থেকে পড়াশোনা করে আসা যুবক আবদুল লতিফ জামিল শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের দিন আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়েছেন। তার বোন সামুসুল হিদায়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কীভাবে তার সাদাসিধে ভাই ব্রিটেনে পড়াশোনা করে ফেরার পর বদমেজাজি এবং একগুঁয়ে হয়ে যান। 

সামসুল হিদায়া বলেন, আবদুল লতিফ জামিল মুহাম্মদ উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছিল ঠিকই, তবে ক্রমেই সে চরমপন্থার দিকে ধাবিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সময় আমার ভাই গভীরভাবে ধার্মিক হয়ে ওঠে। তবে ব্রিটেনে পড়তে যাওয়ার সময় সে স্বাভাবিক ছিল এমনকি ফেরার সময়ও স্বাভাবিকই ছিল।

তিনি আরো বলেন, যখনই সে স্নাতকোত্তর করতে অস্ট্রেলিয়া গেল। সে শ্রীলঙ্কায় ফিরে এল আলাদা ব্যক্তি হয়ে। ফিরে আসার সময় সে লম্বা দাড়ি রেখে দেয়। নিজের বৌধশক্তিও তার সে সেময় লোপ পেয়েছিল। তখন থেকেই সে সকল বিষয়ে সিরিয়াস হয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে আসার পর তাকে আর হাসতে দেখা যায়নি।

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে গত রবিবার তাজ সমুদ্র হোটেলে বিস্ফোরণের চেষ্টা করেন মুহাম্মদ। তবে সেখানে তিনি বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেননি। অতিথি অভ্যর্থনা কক্ষে তিনি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটালে একজন পর্যটকের মৃত্যু হয়।

যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, ২০০৬-০৭ সেশনে দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের কিংসটন ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছেন ওই যুবক।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দারা খুঁজে দেখার চেষ্টা করছেন, আত্মঘাতী হামলাকারী মুহাম্মদ যুক্তরাজ্যে থাকা অবস্থায় কোনো জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কিনা।

সিরিজ বোমা হামলায় তিনশ ৫৯ জন নিহতের ঘটনায় ভাই জড়িত থাকার ব্যাপারে চরমভাবে আহত হিদায়া। পারিবারিক অ্যালবাম বের করে তিনি দেখান, তার ভাই ছোটবেলায় কতটা হাসিখুশি ছিল এবং প্রাণীদের ভালোবাসত।

হিদায়া বলেন, সে গান খুব পছন্দ করত এবং মজার ছেলে ছিল। এটা ভেবে খারাপ লাগছে যে তার সঙ্গে কী ঘটেছে। সে মারা যাওয়ার আগে অবশ্য আর তার সন্তানদের গান শুনতে দিত না। এমনকি কারো সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো রকম কথা বলত না।

তিনি আরো বলেন, ছোটবেলা থেকেই ধর্ম পালন করত আমার ভাই। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে পড়াশোনা করে ফেরার পর সে পরিবারের লোকজনের ধর্ম পালন নিয়ে মহা চিন্তার মধ্যে পড়ে যার্য়। সামান্য বিষয়গুলো নিয়েও তার বক্তব্য ছিল যে, এগুলো সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, তার সঙ্গে আমার অনেক যুক্তিতর্ক হয়েছে। তবে প্রথমেই সে ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিত। ফলে আমি বলতাম ঠিক আছে, তুমিই ঠিক।

হিদায়া আরো বলেন, তার পরেও আমার ভাই চুপ করত না। সে ঘটনার আরো গভীর থেকে গভীরে যেত আর উদ্ধৃতি দিত। তবে বরাবরই আমি তার কথাই কান দিতাম না। 

তিনি আরো বলেন, আমাদের আত্মীয়দের মধ্যে যারা পুরুষ, তাদেরকে দাড়ি না কাটার ব্যাপারে বলত সে। এমনকি এজন্য রেগেও যেত। আমি কেবল তাকে এসব বলতে নিষেধ করতাম। তবে সে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত। এমনকি বাড়ির এক কোণের ঘরে সে বসবাস করত।

মন্তব্য