kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

নারীদের গোপন তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে আবশের অ্যাপ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ১৩:২৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নারীদের গোপন তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে আবশের অ্যাপ!

মাহা ও ওয়াফা আল সুবেই

মাহা ও ওয়াফা আল সুবেই। এই দুই বোন সৌদি আরব থেকে পালিয়ে বর্তমানে জর্জিয়ায় বসবাস করছেন। সৌদিতে ব্যবহার হয় এমন একটি 'অমানবিক' অ্যাপ তুলে নিতে অ্যাপল ও গুগল কর্তৃপক্ষকে জোরালো আহবান জানিয়েছেন তারা। 

এই অ্যাপটির মাধ্যমে পুরুষরা তাদের নারী স্বজনদের ভ্রমণসংক্রান্ত বিষয়ে মনিটর ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে । শুধু তাই নয়, এই অ্যাপের মাধ্যমে নারীদের ফাঁদেও ফেলতে পারে। 

মাহা ও ওয়াফা তাদের পরিবার থেকে পালিয়ে জর্জিয়ায় আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। 

তারা জানিয়েছেন, ওই অ্যাপটির নাম আবশের। 

এটি সৌদি সরকারের একটি ই-সার্ভিস অ্যাপ। অ্যাপটি নারীদের জন্য সুবিধাজনক নয়। কারণ, এটি সৌদি আরবের কঠোর পুরুষতান্ত্রিক অভিভাবকত্ব সিষ্টেমকে সমর্থন করে। 

এ বিষয়ে ২৫ বছর বয়সী ওয়াফা জানান, এটার (অ্যাপ) মাধ্যমে পুরুষেরা (স্বজন) নারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। 

তিনি অ্যাপল ও গুগল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে বলেন, তাদের এটা সরাতে হবে। 

গবেষকরা জানান,আবশের অ্যাপটির সৌদি ভার্সনও রয়েছে যা অ্যাপল ও গুগলের অনলাইন ষ্টোরে পাওয়া যায়। এটি নারী স্বজনদের  বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পুরুষদের অনুমতি প্রত্যাহারের হালনাগাদ তথ্য দেয়। এবং পাসপোর্ট ব্যবহার করা হলে এসএমএস আপডেট পান পুরুষ স্বজনরা। 

তবে, এ বিষয়ে দুটি কম্পানিই (অ্যাপল ও গুগল) কোনো মন্তব্য করেনি। 

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ফেব্রুয়ারীতে জানান, তিনি আবশের (অভিযোগের) বিষয়ে কিছু শুনেননি। তবে তিনি 'এ বিষয়টা দেখবেন' বলে অঙ্গীকার করেছেন।

সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সৃষ্ট 'ওপেন টুল' হিসেবে আবশের অ্যাপটি ব্যবহার হয়। এর মাধ্যমে সৌদিদের বিভিন্ন ধরনের সরকারি পরিষেবা যেমন পাসপোর্ট নবায়ন, নিয়োগ এবং ট্র্যাফিক লঙ্ঘন করা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভাল করা হয়। 

আবশের অ্যাপটি অনলাইন স্টোর থেকে অপসারণ করার আহবান জানিয়েছেন ওই দুই বোন। এ বিষয়ে বিভিন্ন অধিকার গ্রুপ, কূটনীতিক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  এবং ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। 

প্রসঙ্গত , সৌদি আরব অতি-রক্ষণশীল দেশ। এখানে নারীদের কাজ, বিয়ে ও ভ্রমণ সংক্রান্ত বিষয়ে অবশ্যই একজন পুরুষের স্বজনের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। আর বর্তমানে যেসব সৌদি নারী বিদেশে শরণার্থী হতে চাচ্ছেন তাদের  আরো জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। 

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান 

 

 

মন্তব্য