kalerkantho

ছেলে-মেয়ে-স্বামীসহ ৬ স্বজন হারালেন কুমারী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ১১:২১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ছেলে-মেয়ে-স্বামীসহ ৬ স্বজন হারালেন কুমারী

শ্রীলঙ্কায় রবিবার ইস্টার সানডের দিন ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জনের নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। আর আহত হয়েছে পাঁচ শতাধিক মানুষ। ওইদিন দেশটির কয়েকটি গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে হামলা চালানো হয়। সেদিন দেশটির রাজধানী কলম্বোর কাছে গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে হামলায় সন্তান ও স্বামী হারা হয়েছেন আনুশা কুমারী। 

একইসাথে ওই হামলায় বেশ কয়েকজন আত্মীয়কে হারিয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী এই নারী। সম্ভবত তার চেয়ে বেশি আর কেউই ক্ষতিগ্রস্ত হননি। ওই আত্মঘাতি বোমা হামলার ঘটনায় তিনিই সবচেয়ে বেশি আত্মীয়-স্বজনকে হারিয়েছেন।

ওই হামলায় তার মেয়ে, ছেলে, স্বামী, পুত্রবধূ এবং দুই ভাইঝি নিহত হয়েছে। তাদেরকে তিনদিন পর গির্জার পাশে একটি খালি জায়গায় কবর দেওয়া হয়। 

আনুশা কুমারী ওই হামলায় আহত হন। পরিবারের নিহতদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি গতকাল বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

পরিবারের লোকদের দাফন শেষে তিনি এখন নিজঘরে একটি বেতের চেয়ারে বসে খোলা জানালা দিয়ে বাইরে নির্বাক তাকিয়ে থাকেন। 

আনুশা কুমারীর নাক ও ডান চোখ গজ ব্যান্ডেজ দ্বারা আচ্ছাদিত। তার মুখমন্ডলে এখনও ক্ষতের চিহ্ন দৃশ্যমান। 

আনুশার সন্তানদের একটি ছবি ঘরের দেওয়ালে ঝুলছে। আর সেলফে রয়েছে যীশু, মরিয়ম এবং সেন্ট সেবাস্তিয়ানের ছোট মূর্তি। তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন ছবি আর মূর্তিগুলোর দিকে। 

চেয়ারটায় বসে তার ছেলের ড্রাম কিটের (খেলনা) দিকে তাকিয়ে থাকেন আনুশা। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লাভের পর সে তার বাবার কাছ থেকে উপহারটি পেয়েছিল। তিনি তার মেয়েটির স্কুলের প্রতিকৃতির দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে থাকেন। 

সারাদিন, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গির্জার নানেরা বিশাল বাড়িটাতে আসেন।  তারা খাবার নিয়ে আসেন, সান্ত্বনা দেন ও প্রার্থনা করেন। 

সূত্র : দ্য স্টার 

মন্তব্য