kalerkantho

আমেরিকাগামী ছাত্র সৈকাতেরও শিরোশ্ছেদ সৌদিতে, অপরাধ গণতন্ত্র চাওয়া!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ২০:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমেরিকাগামী ছাত্র সৈকাতেরও শিরোশ্ছেদ সৌদিতে, অপরাধ গণতন্ত্র চাওয়া!

সৌদি আরবে মঙ্গলবার যে ৩৭ জনের শিরোশ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেই বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

২০১২ সালে সৌদি নাগরিক মুজতাবা আল সৈকাতকে কিং ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছিলেন। 

২০১১ সালে সরকার বিরোধী আন্দোলন করার জেরে সৈকাতকে আটক করা হয়। আটকের সময় সৈকাতের বয়স ছিল ১৭ বছর। সেই তিনিও রয়েছেন শিরোশ্ছেদ করা ৩৭ জনের তালিকায়।

সৌদি বাদশাহর বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবাধ্যতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, গুলি চালানো এবং আহত করারও অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে জনসাধারণের সম্পদ নষ্ট, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট, জঙ্গি সম্পৃক্ততা এবং হাতবোমা তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগ তোলা হয়।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আটক করার পর সৈকাতের ওপর অমানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। জাতিসংঘের তরফ থেকে সৌদি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছিল, সৈকতসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড যেন স্থগিত করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, সে সময় এই ছয়জনের বয়স ১৮ বছরের কম ছিল।

গত সোমবার জাতিসংঘ যৌথ এক বিবৃতিতে জানায়, যে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে, তারা মৌলিক অধিকার, নিজেদের মত প্রকাশ এবং স্বাধীনতা ব্যবহারের কারণে অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তারা ওই সময় শিশু ছিল এবং তাদের যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং নির্বিচারে হত্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এমনকি আটক রেখে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং সামান্য চিকিৎসা দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ওই ছয় জন হলেন, আলি আল নিমর, দাউদ আল মারহুন, আবদুল্লাহ আল জাহির, মুজতাবা আল সৈকাত, সালমান কুরেইশ এবং আবদুল করিম আল হাওয়াজ।

২০১২ সালে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ করার কারণে আলি আল নিমরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১২ সালে তার বয়স ছিল ১৭ বছর। ২০১১ সালে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যে আরববসন্ত নামে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেটাতেই অংশ নিয়েছিল এই কিশোররা।

২০১১ সালে তিউনিসিয়া বিপ্লবের পর সেখানকার সরকার পাল্টে যায়। এছাড়া মিসর, লিবিয়া এবং ইয়েমেনও সেই ধাক্কায় টালমাটাল হয়ে পড়ে। তবে নানা কালাকানুনের ফাঁকে ফেলে প্রতিরোধ দমন করে সৌদি সরকার।

সৌদি আরব এমন এক সময় এ ধরনের কাণ্ড ঘটালো, যখন সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক চাপে রয়েছে।

সৌদির গণতন্ত্রকামী এসব কিশোরদের যেন হত্যা করা না হয়, সে ব্যাপারে হস্তক্ষেপের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি দীর্ঘদিন ধরেই আবেদন জানিয়ে আসছিল মিশিগানের বাসিন্দারা। এমনকি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের প্রতিও এ ব্যাপারে আহ্বান জানানো হয়। তবে তারা কেউই এ ব্যাপারে সাড়া দেননি। 

মন্তব্য