kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

গুজরাট দাঙ্গায় ধর্ষণের শিকার নারীকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:৪২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গুজরাট দাঙ্গায় ধর্ষণের শিকার নারীকে ক্ষতিপূরণের  নির্দেশ

২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার বিলকিস বানুকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে তার হাতে টাকা তুলে দিতে হবে। একই সঙ্গে তাকে সরকারি চাকরি এবং বাসস্থানের ব্যবস্থাও করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গুজরাট সরকারকে।

গুজরাটের দাহদের বাসিন্দা বিলকিস বানু। গোধরা কাণ্ডের পর রাজ্য জুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে ২০০২ সালের ৩ মার্চ গ্রাম ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল তার পরিবার। 

কিন্তু আমদাবাদের কাছে রন্ধিপুর গ্রামে দাঙ্গাবাজদের হাতে পড়ে যান তারা। সেখানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বিলকিস বানুকে। তার পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। 

এমনকি তার তিন বছর দুই মাস বয়সী মেয়ে সালেহাও রেহাই পায়নি। পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় তাকে। ওই ঘটনায় ২০০৮ সালের ২১ জানুয়ারি ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে মামলার শুনানি চলাকালীন বিলকিস বানুকে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিয়েছিল গুজরাট সরকার। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বিলকিস। আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি দীপক গুপ্ত এবং বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, দোষীদের শাস্তি হয়েছে। কিন্তু চরম উন্মত্ততার সাক্ষী থাকা বিলকিস বানুকে ছেড়ে দেওয়া হয় রাস্তায়।

আদালত আরো বলে, ২১ বছরের বিলকিসকে শুধু ২২ বার ধর্ষণই করা হয়নি, নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তার তিন বছর দুই মাসের মেয়েকে। তার পর থেকেই যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন বিলকিস। এখন তার ৪০ বছর বয়স। তার পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই। পড়াশোনাও তেমন জানেন না। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দয়ায় বেঁচে আছেন।

মন্তব্য