kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

প্রথম বিস্ফোরণে বেঁচে গেলেও দ্বিতীয়তে প্রাণ গেল ভাই-বোনের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১৪:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রথম বিস্ফোরণে বেঁচে গেলেও দ্বিতীয়তে প্রাণ গেল ভাই-বোনের

এই দুই ভাই-বোন প্রথম বিস্ফোরণে বেঁচে গিয়েছিলেন, কিন্তু মৃত্যু তাদের পিছু ছাড়েনি

দুই কিশোর-কিশোরী ভাই-বোন শ্রীলঙ্কায় এক বোমা বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিস্ফোরণেই মারা যান তারা। যেন পরের বিস্ফোরণে মৃত্যুর জন্যেই তারা প্রথমটি থেকে বেঁচে যান।

ড্যানিয়েল লিনসের বয়স ১৯। তার ছোট বোন অ্যামেলির সবে ১৫। কলম্বো থেকে বাড়ি ফেরার ফ্লাইট ধরার আগে বাবা ম্যাথিওয়ের সঙ্গে সানগ্রী-লা হোটেলেই ছিলেন। এই হোটেলে বোমা হামলার পর তারা কোনভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন। ধ্বংসস্তুপ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় ছিলেন তারা। কিন্তু দ্বিতীয় বিস্ফোরণেই প্রাণ হারায় এই ভাই-বোন। 

তারা দুজন মৃতের বিশাল মিছিলে সামিল হয়েছেন। সেখানে মোট ৬ জন ব্রিটিশের প্রাণ গেছে। দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ছুটি কাটাতে এসে এমন ঘটনায় বিধ্বস্ত বাবা মিলসে। তার বয়স ৬১। আমেরিকায় সিটি ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন তিনি। হৃদয় ছেড়া অনুভূতি নিয়ে ব্রিটেনে স্ত্রী এবং অন্য দুই পুত্রের কাছে ফিরে গেছেন তিনি। তার অন্য দুই পুত্রের একজনের বয়স ১২ এবং অন্যজনের ২১।

টাইমসকে এই পিতা জানান, আপনি এ ঘটনার বর্ণনা দিতে পারবেন না। মানুষ আতঙ্কে চিৎকার করছিল। আমি বাচ্চাদের সাথে ছিলাম। বিস্ফোরণের পর আমি জানতাম না তাদের কি অবস্থা হয়েছে। পুরো অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। আমার মনে ভয় ছিল আবারো বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। আমি ওদের নিয়ে দৌড় দেই। আরেকটা বিস্ফোরণ ঘটে। আমরা লিফটের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তারা দুজনই পড়ে গেছে। তাদের তুলতে পারিনি। ছেলেরটার অবস্থা মেয়েটার চেয়ে খারাপ দেখলাম। আমি তাদের তোলার চেষ্টা করি। এক নারী বললেন তিনি আমার মেয়েটিকে নেবেন। আমি ছেলেটাকে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামতে থাকলাম। একটা অ্যাম্বুলেন্স পেয়ে যাই। তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়। আমার মনে হয়েছিল মেয়েটার অবস্থা কিছুটা হলেও ভালো। কিন্তু তারা দুজনই চলে গেলো। 

তিনি সংবাদপত্রকে আরো বলেন, ড্যানিয়েল ওয়েস্টমিনিস্টার কিংসওয়ে কলেজের শিক্ষার্থী। এই শরতেই তার ম্যানচেস্টার কিংবা লেসিস্টার ইউনিভার্সিটিতে মার্কেটিং নিয়ে পড়ার ইচ্ছে ছিল। ইথিওপিয়ার অনাথদের এবং মঙ্গোলিয়ার নোমাডদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেকে কাজের ইচ্ছেও ছিল তার। আর অ্যামেলি ছিল গোডোলফিন এবং লেটিমার স্কুলের শিক্ষার্থী। তারা দুজনই ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট ছিল। ঘুরে-বেড়াতে ভালোবাসত। সম্প্রতি ভিয়েতনাম ভ্রমণ করে আসে অ্যামেলি। 

ইস্টারের ছুটির শেষ দিনটাই কাটাচ্ছিলেন তারা। এরপরই বাড়ি ফিরতেন। প্রথম বিস্ফোরণের সময় তারা নাস্তা করছিলেন। ব্রিটেনের বসবাসরত আরেক ভাই জানান, দ্বিতীয় বিস্ফোরণের সময় তারা দুজন জ্ঞান হারায়। সেই জ্ঞান আর ফেরেনি। এ ঘটনায় আমার বাবা একেবারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি এখন আমাদের নিয়ে মানসিকভাবে শক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। 

লিনসে নিজেও আহত হয়েছেন। তার মুখে কাটাছেড়া রয়েছে। যে বিস্ফোরণে দুই সন্তান মারা গেলো, সেই একই বিস্ফোরণে লিনসে বেঁচে গেছেন। এটা বেশ অদ্ভুত বিষয় বলেই মনে করছেন তার স্বজনরা। তবুও তো ফিরেছেন। 
সূত্র: ডেইলি মেইল 

মন্তব্য