kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি মোদি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ১৯:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি মোদি

ভারতে চলছে ১৭তম লোকসভা নির্বাচন। ৭ ধাপের নির্বাচনে এরমধ্যে দুই পর্বের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। নির্বাচনে নানা প্রতিশ্রুতি, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর কাশ্মীর উত্তেজনাসহ নানা ইস্যু সামনে টানছেন রাজনীতিবিদরা। এই নির্বাচনকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন অনেকে। 

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জনমত জরিপে মোদির দলের এগিয়ে থাকার আভাস মিললেও রাজ্যের ফলাফলে প্রভাবশালী আঞ্চলিক দলগুলোও ভোটের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার শক্তি রাখে। তবে বেকারত্ব, কৃষকদের দুর্ভোগ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা।

৩২ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৩ কিলোমিটার আয়তনের দেশটিতে ৯০ কোটি ভোটারের এই নির্বাচনকে বলা হচ্ছে বিশ্বের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ নির্বাচন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির সঙ্গে মূল লড়াইটা হচ্ছে উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরানো দল ভারতীয় কংগ্রেসের। যার নেতৃত্বে রয়েছেন রাহুল গান্ধী।

বিজেপি টানা দ্বিতীয়বারের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রচারণা চালালেও তাদের কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলছে বিভিন্ন এলাকার শক্তিশালী কিছু আঞ্চলিক দল এবং ভগ্নদশা থেকে পুনরুজ্জীবিত হওয়া প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।

মোদি সরকারের সময়ে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি কিছুটা গতি হারিয়েছে। খাদ্যশস্যের দাম পড়ে যাওয়ায় কৃষকরাও ক্ষুব্ধ। হয়েছে বড় আকারে একাধিক কৃষক বিক্ষোভ। ২০১৬ সালের নোট নিষিদ্ধের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর সার্ভিস ট্যাক্স আরোপ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। ভাটা এসেছে রপ্তানি আয়েও, বেড়েছে বেকারত্ব। কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ঋণের দায়ে ডুবতে বসেছে।

একজন ভোটার বলেন, গত নির্বাচনে তারা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বিজয়ী হওয়ার পর আমাদের আর খোঁজ রাখেনি। তারা আসলে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। বৃষ্টি নেই, মাঠে ফসল ফলাতে পারছি না। কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়েও আসছে না। আমরা এই সরকারের পরিবর্তন চাই।

আরেকজন বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছি আমি। পড়াশোনা শেষ করে এখন আমাকে কৃষি কাজ করতে হচ্ছে। কোনো চাকরি নেই। শেষমেশ বাবার কাজে হাল ধরেছি।

সমালোচকরা মনে করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির যে আশ্বাস দিয়েছিলেন মোদি, তা বাস্তবায়িত হয়নি। তার নেতৃত্বে ভারতে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যবাদ এবং মেরুকরণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে একজন ভোটার বলেন, অতীতের তুলনায় এখন বেকারের সংখ্যা বেশি। দেশে অনেক প্রকৌশলী রয়েছে। যারা নিজেদের যোগ্যতায় অনেক বড় কিছু করতে পারে। কিন্তু সুযোগের অভাবে বসে বসে দিন পার করতে হচ্ছে।

৪৫ বছরের মধ্যে মোদির আমলে রেকর্ড ভেঙেছে বেকারত্বের হারের। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসেবে অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বেকারত্বের হার ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ২ শতাংশে। এছাড়া ১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছে ৩ লাখের বেশি কৃষক।

মন্তব্য