kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

মোদির জাতীয়তাবাদী ঝড় বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে

জয়ন্ত ঘোষাল, দিল্লি থেকে    

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০৯:২৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মোদির জাতীয়তাবাদী ঝড় বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী কেন্দ্রের নাম বারানসি। অনেকে বলে বেনারস। গুজরাটের বাদোদরা আসন থেকেও মোদি ২০১৪ সালে ভোটে লড়েছিলেন। কিন্তু এবার তিনি ওই আসন ছেড়ে দিয়েছেন। রইল শুধু বেনারস। অর্থাৎ এখন তিনি নিছক গুজরাটের নেতা নন। তিনি হিন্দি বলয়ের হৃদয়পুর উত্তর প্রদেশেরও প্রতিনিধি। ভোটের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করতে তিনি বেনারস আসছেন ২৬ এপ্রিল। আর তিনি যদি গুরু হন তবে তাঁর শিষ্য বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ আজ বেনারস পৌঁছে গেছেন।

অমিত শাহকে জিজ্ঞাসা করলাম, কংগ্রেস এখনো এখানে মোদির বিরুদ্ধে কে প্রার্থী হবেন তা ঘোষণা করেনি, যদি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী হন তবে কী হবে? তাতে কি মোদির জন্য আশঙ্কার কারণ থাকবে? জবাবে অমিত শাহ বললেন : ‘নরেন্দ্র মোদিকে মোকাবেলা করার মতো কোনো ব্যক্তিত্ব এই মুহূর্তে ভারতে নেই। যে কেউ ওর বিরুদ্ধে প্রার্থী হতেই পারেন কিন্তু এখানে মোদি প্রত্যেক ঘরে, প্রত্যেক পরিবারের কাছে প্রণম্য।’

নরেন্দ্র মোদি বারানসিতে ২৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিল করার আগে ২৫ এপ্রিল রোড শো করবেন। অমিত শাহ আজ এখানে এসে তাঁর ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন। বারানসিতে এসে শুনছি, মোদির মনোনয়নপত্র দাখিল করার অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রখ্যাত সানাই বাদক বিসমিল্লাহ খানের নাতি হাজির হতে চান। তিনি মোদিকে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে অনুরোধ করেছেন। মোদির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। সুতরাং এ ঘটনা বেনারসে হিন্দু ও মুসলমান সমাজের মধ্যে অনৈক্যের বদলে ঐক্য স্থাপন করবে। গতবার মোদির মনোনয়নপত্র দাখিল করার সময় বিসমিল্লাহ খানের নাতি উপস্থিত ছিলেন না।

বেনারস শহরটি বেশ ঘিঞ্জি। অনেক অলিগলি। বিশ্বনাথের বিখ্যাত মন্দির আবার তার গায়ে লাগানো জ্ঞান বাপি মসজিদ সাক্ষ্য দেয়, শহরটি শুধু হিন্দু সভ্যতা ও সংস্কৃতির আদি শহর নয়,  এটি ভারতীয় সংস্কৃতির প্রাচীনতম শহর। বেনারস শহরের লাগোয়া শহর হলো সারনাথ। ভগবান বুদ্ধের নির্বাণস্থল। আবার জৈন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতারও জন্মস্থান এ বেনারসেই। বিশ্বনাথ মন্দিরের কাছেই গোদোলিয়া নামক জায়গাটিতে দেখছি সুপ্রাচীন ক্যাথলিক চার্চ। ব্রিটিশরা যখন এই দেশে আসে তখন এই চার্চ তৈরি হয়। অতএব সর্বধর্ম সমন্বয় যে এই শহরের ঐতিহ্য তা ভুললে চলবে না।  এ শহরে মুসলমান জনসমাজ অনেকটাই। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এই সমাজের সমর্থন আদায় করতে মরিয়া।

তবে এই ঘিঞ্জি শহরটার জন্য অনেক করেছেন মোদি। বিমানবন্দর থেকে লম্বা ফ্লাইওভার শহর পর্যন্ত। আগে বিমানবন্দর থেকে শহরে আসতে প্রায় দুই ঘণ্টা লাগত, এখন পৌঁছে গেলাম আধঘণ্টায়। গঙ্গা নদীর সংস্কার হয়েছে, তবে এখনো কাজ অনেক বাকি। গঙ্গায় জল কোথায়?

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহরুও এই বেনারস শহরের কাছেই এলাহাবাদ শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তিন তিনটি নির্বাচন লড়েন এবং জেতেন। ১৯৫২ সালে তিনি পান শতকরা ৭৪.৪ শতাংশ ভোট। ১৯৫৭ সালে তিনি জেতেন ৭৫.১  শতাংশ ভোট নিয়ে। আর ১৯৬২ সালে তিনি পান ৭৩.১ শতাংশ ভোট। এত ভোট ভাবা যায় না। তবে মায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী এই আসন থেকে ৭৬.৪ শতাংশ ভোট পান।

কিন্তু ২০১৪ সালে এসে ভারতীয় ভোটাররা যেন ক্ষিপ্ত হয়েছিল। বারানসীবাসী নরেন্দ্র মোদিকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে। তবে এটা ঠিক যে ১৯৫২ থেকে ২০১৯ এক দীর্ঘ যাত্রা। এবার মোদির প্রতি ভারতীয় ভোটারদের আস্থা কতটা থাকবে সেটাই প্রশ্ন।

আসলে কে জিতবে আর কে হারবে সে ভবিষ্যত্বাণী না করে বলতে চাইছি, ভারতীয় নির্বাচনে এখন মূল লড়াই হলো-একদিকে বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিরোধী দলের বোঝাপড়া যাকে বলা হচ্ছে মহাগঠবন্ধন আর তার পাল্টা নরেন্দ্র মোদির জাতীয়তাবাদী ঝড়। প্রথম দফার নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে আটটি আসনে ভোট ছিল। পশ্চিম-উত্তর প্রদেশে এই আটটি আসনই ২০১৪ সালে যায় বিজেপির ঘরে। এবার এই আটটি আসনে কিন্তু বিরোধীদের বোঝাপড়া হয়েছে। আটটিতে বিজেপিকে লড়তে হয়েছে অখিলেশ-মায়াবতী-চরন সিংয়ের জোটের প্রার্থীর সঙ্গে। এই জোট গঠনে লাভ হবে? ২০১৪ সালে এই জোট ছিল না আবার এও সত্য মোদিকে হারানোর জন্য যে বোঝাপড়া হচ্ছে, যে চেষ্টা হচ্ছে তা দেখে বিজেপি সমর্থকরাও রাস্তায় নেমে পড়েছে। তারাও ভোটদানে মরিয়া। আর এই কারণেই হিন্দু ও মুসলমান মেরুকরণের রাজনীতিও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিজেপি মনে করছে হিন্দুত্বের তাস ব্যবহার করে মোকাবেলা করা যাবে মহাগঠবন্ধনের রাজনীতি।

আর এবারের ভোট এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ উত্তর প্রদেশে যত আসনসংখ্যা কমবে তা পশ্চিমবঙ্গ থেকে মেক-আপ করার প্রত্যাশা বিজেপির। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সত্যি সত্যিই দিদির রাজ্য খতম করতে পারবে বিজেপি? আপাতত বিজেপি এই লক্ষ্যে সক্রিয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা