kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

ছাত্রদের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন বিশ্বসেরা এই শিক্ষক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ১৯:৩৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ছাত্রদের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন বিশ্বসেরা এই শিক্ষক

কেনিয়ার গ্রস্ত উপত্যকায় খরা আর দুর্ভিক্ষের মধ্যেও স্বপ্ন ফেরি করে বেড়াচ্ছেন এক শিক্ষক। প্রত্যন্ত ওই গ্রামের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন ওই শিক্ষক, করে তুলছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা। 

গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের এই শিক্ষক গ্লোবাল শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। পিটার তাবিচি নামের ওই শিক্ষক নিজের আয়ের ৮০ শতাংশ দরিদ্রদের দিয়ে দেন। গত শনিবার দুপুরে হলিউড তারকা হাগ জ্যাকম্যান সঞ্চালিত অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

তাবিচি বলেন, প্রতিদিন আফ্রিকায় আমরা এক নতুন পাতা উল্টাই এবং একটি করে নতুন অধ্যায় শুরু করি। এই পুরস্কার শুধু আমাকেই স্বীকৃতি দেয় না, এই মহান মহাদেশের তরুণদেরও স্বীকৃতি দেয়। আমার শিক্ষার্থীরা যা অর্জন করেছে তার কারণেই আমি আজ এখানে রয়েছি।

সারা বিশ্ব থেকে এই পুরস্কারের নয়জন চূড়ান্ত দাবিদারকে পরাজিত করার পর তিনি আরো বলেন, পুরস্কারটি তাদেরকে একটি সুযোগ দিয়েছে। এই পুরস্কার বিশ্বকে জানান দেয় যে এরাও কিছু করতে পারে।

দুবাইয়ের ভার্কে ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় দেশের সেরা বিদ্যালয় হয়ে উঠেছে কেনিয়ার গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই স্কুল। সামান্য ক্ষমতা, অপ্রতুলতা আর বহু না পাওয়াকে নিয়েও তাবিচির নেতৃত্বে বিজয়ী হয়েছে তারা। খরা ও দুর্ভিক্ষ কবলিত কেনিয়ার গ্রস্ত উপত্যকায় একটি প্রত্যন্ত অর্ধ-শুষ্ক এলাকায় পাবানি গ্রামের কেরিকো মিক্সড সেকেন্ডারি স্কুলে ৩৬ বছর বয়সী শিক্ষক তাবিচি তার পরেও নতুন জীবনের পাঠ শেখান রোজ।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রায় ৯৫ শতাংশ স্কুল ছাত্রছাত্রীরা দরিদ্র পরিবার থেকে আসে। তাদের প্রায় এক তৃতীয়াংশই অনাথ বা হয় কেবল বাবা রয়েছেন, কিংবা মা রয়েছে। অনেকে বাড়িতে খাবার খেতেই পায় না। মাদকাসক্তি, অল্প বয়সে গর্ভধারণ, স্কুলছুট হয়ে যাওয়া, বাল্যবিবাহ এবং আত্মহত্যা তাদের সাধারণ সমস্যা। স্কুলে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রায় সাত কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়, বর্ষার সময় সেটাও সম্ভব হয় না।

ওই স্কুলে শিক্ষাীর্থী আর শিক্ষক অনুপাত ৫৮:১। খুবই খারাপ ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি মাত্র ডেস্কটপ কম্পিউটার রয়েছে। তার পরেও তাবিচি শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখতে তার শিক্ষণের ৮০ শতাংশই ওই কম্পিউটার ব্যবহার করে পড়ান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা