kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আবারো উত্তেজনা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মার্চ, ২০১৯ ১৯:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আবারো উত্তেজনা

পুলিশি হেফাজতে এক কাশ্মীরি শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় আবারো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে রিজওয়ান পণ্ডিত নামের ওই শিক্ষককে। এরমধ্যেই চীন সফরে গিয়ে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি। একইসঙ্গে, কাশ্মীর নিয়ে ভারতীয় নীতিকে অকার্যকর বলেও আখ্যা দেন তিনি। এরমধ্যেই, পুলওয়ামায় হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে কাশ্মীরী শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জম্মুসহ উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে। রিজওয়ান পণ্ডিত নামের ওই শিক্ষককে শনিবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। মঙ্গলবার তার রহস্যজনক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কাশ্মীরীরা। তাদের অভিযোগ রিজওয়ানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। 

বিক্ষোভ দমাতে টিয়াল শেল ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। ইতোমধ্যে ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কাশ্মীরের রাজনীতিবীদরা।

এরমধ্যেই, চীন সফরে গিয়ে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি। জম্মু কাশ্মীরে, পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীর নীতি অনুসরণে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেন, পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের কাশ্মীর অংশের পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। উদ্বেগজনক এসব কর্মকাণ্ডের কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। এ ধরনের আচরণ অবশ্যই পরিহার করা উচিৎ। ভারতীয়রা জম্মু কাশ্মীর সংকট কীভাবে সমাধান করবে এ নিয়ে তাদের নতুন করে চিন্তা করা উচিৎ। কারণ, নয়াদিল্লির পুরানো কাশ্মীর নীতির কার্যকরিতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। পুলওয়ামার ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়ায় ইসলামাবাদের প্রশংসা করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় চাই, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। আশা করি আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোও তাই চাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও এটাই প্রত্যাশা। পাকিস্তান ও ভারতকে আহ্বান জানাবো, তারা যেনো শান্ত থেকে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যকার সংকট সমাধান করে। চীন সবসময় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।

এদিকে, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে আবারো কড়া হুঁশিয়ার দিয়েছে ভারত। পুলওয়ামা হামলায় নিহত জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধ জানিয়ে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বলেন, ওই ঘটনা ভারত কখনোই ভুলে যাবে না।

তিনি বলেন, পুলওয়ামা জঙ্গি হামলায় মদদদাতাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কখন কোথায় সে পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে তা দেশের নেতৃত্ব ঠিক করবেন। আমাদের নেতৃত্ব সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

এরমধ্যেই, পাকিস্তানের সঙ্গে শত্রুতা পরিহার করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জম্মু কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। এজন্য, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি দুই কাশ্মীরের মধ্যে করিডোর ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা