kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

এ কেমন বর্বরতা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এ কেমন বর্বরতা!

অপরাধ যাই হোক বিচারের ক্ষমতা আইন-আদালতের। সেই দায়িত্ব মাঝে মাঝে নিয়ে নেয় জনতা। আর নির্মম বর্বরতার জন্মও দেয় এই জনগণেরা। যার কিছু কিছু মানুষের সামনে আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে আর কিছু আসে গণমাধ্যমের বদৌলতে।

যাই হোক ভারতীয় গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে এমনি এক ঘটনা সামনে এসেছে যেটা জানার পর আঁতকে না উঠে কোনো উপায় থাকবে না।

শ্বশুরকে গাছে বেঁধে রেখে তাঁর সামনেই পুত্রবধূকে নগ্ন করে মারধর করা হয়েছে। শেষে পুত্রবধূর যৌনাঙ্গে লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে নারকীয় অত্যাচার করা হয়েছে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা নারীকে ফেলে রেখে পালিয়েও গেছে দৃর্বৃত্ত জনতা। গোটা পর্ব মোবাইলে তুলে রাখা হয়েছিল যা ছড়িয়ে দেওয়া হল সোশ্যাল মিডিয়াতে। এই নারকীয় অত্যাচারের ঘটনাটি ঘটেছে আসামের করিমগঞ্জে। এমন ভয়ঙ্কর ঘটনায় শিউরে উঠছেন অনেকেই।

ঘটনাটি ঘটেছে ১০ সেপ্টেম্বর তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। নির্যাতিতা করিমগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আসাম পুলিশের ডিজি কুলধর সইকিয়া জানান পুলিশে অভিযোগ জানালে ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে বলে নারীকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ এ ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানিয়েছেন ডিজি কুলধর সইকিয়া।

করিমগঞ্জের আসাম-মিজোরাম সীমানার আদিবাসী অধ্যুষিত মাগুরা গ্রামের বাসিন্দা ওই নারী অভিযোগপত্রে লিখেছেন, ‘১০ সেপ্টেম্বর সকালে আচমকাই দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে পড়ে ৬-৭ জন যুবক। দাবি করে, প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনায় পাওয়া ৮৫ হাজার টাকা তাদের দিয়ে দিতে হবে। আমি অস্বীকার করতেই বেআইনি মদ বিক্রির অভিযোগ তুলে মারধর শুরু করে। তার মধ্যেই বাড়িতে জড়ো হন গ্রামবাসীরাও। আমার শ্বশুরকে গাছে বেঁধে ফেলে ওরা। তাঁর সামনেই আমাকে নগ্ন করে চলে মারধর। শেষে আমার যৌনাঙ্গে লঙ্কার গুঁড়ো ঢুকিয়ে দেয়। টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ওই অবস্থাতেই আমাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সবাই।’

করিমগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌরব উপাধ্যায় জানিয়েছেন, ওই নারীর উপর অত্যাচার, গণপিটুনি-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে আলাদা মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় আর কারা কারা যুক্ত, তা চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা