kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

সেখানকার বাতাসেও বারুদের গন্ধ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সেখানকার বাতাসেও বারুদের গন্ধ

নিজের পান-সিগারেটের দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন মধ্য বয়স্ক রামচন্দ্র কামিলা। কথা বলছিলেন এক দিনের ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে। ওই দিন হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছিল ভারতের কাঁথি-১ ব্লকের হিরাকনিয়া গ্রাম। নিষিদ্ধ আতসবাজি বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটেছিল রামচন্দ্রের বাড়িতে।

সেদিনের ওই ঘটনায় পুড়ে যায় রামচন্দ্রের বাড়ি। তিনি হারান নিজের স্ত্রী আরতী, মেয়ে চম্পা, ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমা এবং মাত্র আট মাসের নাতনিকে। ওই ঘটনার পরে কেটে গেছে চার বছর। বেআইনি আতসবাজি বানানো যে কতটা ভয়াবহ, স্বজন হারিয়ে তা বুঝেছেন রামচন্দ্রবাবু। সে কারণে এখন পান-বিড়ির দোকান চালান তিনি। তার কথায়, ওই দিনের কথা মনে করতে চাই না। এক মুহূর্তে জীবনটা উলটপালট হয়ে গেছে।

রামচন্দ্রের বাড়ির দুর্ঘটনা দেখে সেখানে এখন পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই গ্রামে আর আগের মতো আতসবাজি বানানো হয় না। কিন্তু পাশের গ্রাম সিলামপুরে এখনও রমরমিয়ে নিষিদ্ধ আতসবাজি বানানো চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই গ্রামের প্রধান পাড়ায় যে এখনও বাড়িতে বাড়িতে বাজি তৈরি হয়, উৎসবের মওসুমে সে কথা বাজির ক্রেতারা ভালোই জানেন।

বাজির ক্রেতা হিসেবে সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে দেখেন, বাতাসে বাজির কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করা বারুদের গন্ধ স্পষ্ট। তবে কোন বাড়িতে তৈরি হচ্ছে বাজি, তা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই।  যে সব পরিবারে বাজি তৈরি হয়, তাদের বাড়ি বাইরে থেকে বন্ধ থাকে। বাজি কিনতে চাই বলে খোঁজ করলেও চেনা মুখ না হলে সহজে কেউ বাজির বিক্রির প্রসঙ্গ তোলেন না।

আর পুলিশ বা সংবাদমাধ্যমের লোক এসেছে, তা একটু আঁচ পেলেই বাড়ির পুরুষেরা গা ঢাকা দেয়। তখন বাড়ির নারীরা বেরিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

সিলামপুরের এক বাসিন্দা বলেন, এখানে বাজি বানানো হয়, তবে খুচরো বিক্রি হয় না। পাইকারি ব্যবসায়ী ধরা রয়েছে। কেবল তারা এলেই বাজি প্রস্তুতকারীরা তাদের বাজি বিক্রি করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা