kalerkantho


ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দারা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ২২:২৯



ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দারা!

জন ব্রেনান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে চাকরি করা সাবেক কর্মকর্তারা। সিআইয়ের সাবেক প্রধান জন ব্রেনানের সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বাতিল করে দেওয়ার প্রতিবাদে তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছেন।

তিন প্রজন্মের সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান ‘সর্বোত যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়েছে। পত্রিকাটির ভাষ্য, এসব কর্মকর্তারা এখনও যে কথা মুখ ফুটে বলতে পারছেন না সেটা হলো, খোদ প্রেসিডেন্টই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি ঝুঁকি!

ব্রেনান তো আগে ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেনই, এবার তার সমর্থনে ট্রাম্পের সমালোচনা শুরু করেছেন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক অ্যাডমিরাল মন্তব্য করেছেন, ‘সমালোচনা ততদিন চলবে যতদিন না পর্যন্ত আপনি আমদের প্রার্থিত নেতা উঠবেন।’

গত দুই বছর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে কর্মরত ব্যক্তিদের আক্রমণ করে কথা বলে আসছেন। ইরাক যুদ্ধ, হিলারি ক্লিনটন, মাইকেল ফ্লিন, ক্রিস্টোফার স্টিলের প্রতিবেদন এবং নির্বাচনে রুশ প্রভাবের মতো বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবেও আক্রমণ করেছেন। ট্রাম্পের এমন আচরণে সাবেক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ পাল্টা জবাবও দিয়েছেন।

যেমন, জন ব্রেনান ট্রাম্পকে নির্বোধ এবং ‘রাষ্ট্রেদ্রোহিতার বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তি’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনার ফালতু সরকার ভেঙে পড়ছে।’ বুধবার ট্রাম্প তার সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বাতিল করে দিয়েছেন। এর অর্থ হচ্ছে মার্কিন সরকারের গোপনীয় নথি ও বিশেষ গোপন স্থানে যাওয়ার অনুমতি ব্রেনানের আর থাকল না। অথচ তিনি সিআইয়ের সাবেক প্রধান।

গার্ডিয়ান লিখেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এক পাশে আছেন এমন একজন প্রেসিডেন্ট যিনি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের ভেতরে আরেকটি সরকার আছে, যারা গোপনে মার্কিন জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু কোনও রাখঢাক না রেখেই স্বয়ং প্রেসিডেন্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

আর অন্যদিকে রয়েছেন এমন সব গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যারা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দুই সরকারের আমলেই নিয়োগ পাওয়া। এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বকে গার্ডিয়ান ‘সর্বোত যুদ্ধ’ আখ্যায়িত করে করেছে। সিআইয়ের ইতিহাস নিয়ে লেখা ‘ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড জয়ী’ বই ‘লেগাসি অব অ্যাশেসের’ লেখক টিম ওয়েইনার মন্তব্য করেছেন, ‘ট্রাম্পের বেশিরভাগ কাজই এমন যার ইতিহাসে কোনও দৃষ্টান্ত নেই।’

ওয়েইনার বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন যাতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাবেক ১২ জন প্রধান ও সহপ্রধান ব্রেনানের সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বাতিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণের চেষ্টা’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

চিঠি প্রকাশিত হওয়ার পর আরও তিনজন সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ওই চিঠির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সিআইয়ের আরেকজন সাবেক প্রধান জেমস উলসে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাই আরেকটি বিবৃতি দিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়। ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার অভিযান তত্ত্বাবধান করা নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল উইলিয়াম এইচ ম্যাকর‍্যাভেন বৃহস্পতিবার ব্রেনানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে একটি চিঠি লিখেছেন। ট্রাম্পের উদ্দেশে দেওয়া তার বক্তব্য, ‘আপনি যদি মনে করে থাকেন আপনার ম্যাকার্থি যুগের কৌশল সমালোচকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিতে পারবে, তাহলে আপনি ভুল করছেন। সমালোচনা ততদিন চলবে যতদিন না পর্যন্ত আপনি আমাদের প্রার্থিত নেতা হয়ে উঠবেন।’

ট্রাম্পের অবশ্য এতসবের পরও কোনও পরিবর্তন নেই। তিনি নতুন করে আরেকজন মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বাতিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এবার তার লক্ষ্য মার্কিন আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ব্রুস ওর। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণায় রুশ প্রভাব থাকার কথা উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই সিক্সের সাবেক কর্মকর্তা স্টিল। তিনি একজন বেসরকারি গোয়েন্দা হিসেবে বিষয়টির তদন্ত করেছিলেন, যাতে অর্থ দিয়েছিল সাবেক সাংবাদিক গ্লেন আরের সংস্থা ফিউশন জিপিএস। পরে জানা গেছে, ব্রুস ওরের স্ত্রী ওই প্রতিষ্ঠানে এক সময় কাজ করতেন।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, বুশ ও ক্লিনটন উভয়ের আমলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থায় ও ওবামার আমলে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অথরিটির পরিচালকের দায়িত্ব পালনকারী জেমস ক্ল্যাপার, এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান জেমস কমি, সিআইএ ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির আরেক সাবেক পরিচালক মাইকেল হেইডেন, সাবেক ডেপুটি এটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটস, এফবিআইয়ের সাবেক সহপ্রধান অ্যান্ড্রিউ ম্যাকক্যাব, এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা পিটার স্ট্রজক এবং এফবিআইয়ের সাবেক আইনজীবী লিসা পেজের সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বাতিল করার প্রক্রিয়া চলছে।



মন্তব্য