kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন

উষ্ণতম ২০১৫, আরও কষ্টকর হবে ২০১৬!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উষ্ণতম ২০১৫, আরও কষ্টকর হবে ২০১৬!

মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের একাংশে কিন্তু খরার পিছনেই যে শুধু তার হাত রয়েছে তা নয়, এল নিনো এবার দাপটে ২০১৫ উষ্ণতম বছরের শিরোপা পেতে চলেছে।

বুধবার জেনিভায় এমনই ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের শাখা সংগঠন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। ওই সংস্থার আবহবিদেরা জানাচ্ছেন, এই মুহূর্তে এন নিনোর যা গতিপ্রকৃতি তাতে আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৬ সাল আরও কষ্টকর হতে চলেছে। ডব্লিউএমও জানাচ্ছে, আগামী বছর বিশ্বের গড় তাপমাত্রা চলতি বছরের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যতে পারে।

২০১৫ শেষ হতে আরও ৩৫ দিন বাকি। ডব্লিউএমও-র আশঙ্কা, ওই সময়ের মধ্যে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ১৯৬১ সালের তুলনায় এক ডিগ্রি বেড়ে যাবে। দিল্লির মৌসম ভবনের এক আবহবিদের দাবি, ‘‘এল নিনো যে এবার ভোগাবে তা বছরের গোড়াতেই বোঝা গিয়েছিল। দেশে স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টি হবে বলে আমরা ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একের পর এক ঘর্ণিঝড় জুলাই মাস পর্যন্ত ঢেলে বৃষ্টি দিয়েছে দেশের বিভিন্ন অংশে। এলনিনো তখন দাঁত ফোটাতে পারেনি।’’ তবে এল নিনো কী করতে পারে তা অগস্টেই বুঝতে পেরেছিলেন মৌসম ভবনের বিজ্ঞানীরা।

মৌসম ভবনের পরিসংখ্যান বলছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকেই পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারত বাদ দিলে দেশের বাকি অংশে বৃষ্টি হঠাৎ করে কমে যায়। মধ্য ভারত এবং অন্ধ্রপ্রদেশের একাংশে অনাবৃষ্টির পরিবেশ তৈরি হয়। সেখানে খরা ঘোষণা করতে হয়। মৌসম ভবনের এক আবহবিদ জানাচ্ছেন, এল নিনো এখন পুরো শক্তিতে রয়েছে। অর্থাৎ এবার শীতেও তাপমাত্রা খুব একটা কমার সম্ভবনা নেই। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতার আবহাওয়া দেখেই তা অবশ্য মালুম হচ্ছে।

এল নিনো কি? প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়াই পৃথিবীজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ। জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সেই ভৌগোলিক ‘ঘটনা’র নাম ‘এল নিনো’। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, যে ক’বছর ‘এল নিনো’র প্রভাব থাকবে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়বেই।

২০১৫ সালে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডব্লিউএমও-র  সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এ বছর পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ১৯৬১-৯০ সালের তুলনায় ০.৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গিয়েছে। ১৯৬১ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার জেনিভায় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল মাইকেল জরাড বিশ্বের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে গিয়ে বলেছেন ‘‘পৃথিবীর জন্য এটা খুবই খারাপ খবর।’’

 ডব্লিউএমও জানাচ্ছে, এল নিনোর এই দাপটের জন্য মানব সভ্যতাই অনেকটা দায়ী। যে ভাবে অনিয়ন্ত্রত ভাবে বিভিন্ন দেশে পরিবেশে গ্রিন হাউস গ্যাস (কাবর্ন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সইড, সাফলার এবং নাইট্রোজেনের গ্যাস) পরিবেশে এসে মিশছে তাতে বাতাসের তাপমাত্রা বাড়ছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে এল নিনো দুইয়ের যুগলবন্দিতে আগমী বছর বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদেরা। কোথাও অসময়ে ভারী বৃষ্টিতে বন্যা হতে পারে। কোথাও বর্ষার সময়ে বৃষ্টি হবে না। কোথাও গ্রীষ্মের সময়টায় তুষারপাত হতে পারে, কোথাও বা অনুভূত হবে গরম শীত।

গত বছর পশ্চিম আমেরিকার আলাস্কা, আরিজোনা ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঞ্চলে তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি। কোনও কোনও জায়গায় স্বাভাবিকের থেকে ১০-১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ায় তো শীতকালটাই প্রায় লোপাট হয়ে যায়। প্রবল গরমে জলকষ্ট দেখা দিয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে। কিন্তু আমেরিকার পূর্ব দিকের ছবিটা ছিল ঠিক তার উল্টো। হাড় কাঁপানো শীতে, হিমাঙ্কের নীচের তাপমাত্রায় ঠকঠক করেছে নিউ ইয়র্ক, বস্টন, ওয়াশিংটন। আবহাওয়াবিদদের দাবি, পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের আবহাওয়ার এই বৈপরীত্যই বলে দিচ্ছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের থাবা থেকে এখনও রেহাই পায়নি এই মেদিনী।

এল নিনো যে বার সক্রিয় থাকে সেবার আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়াই মুশকিল হয়ে যায়। এ বছর এ দেশে বর্ষার পূর্বাভাস দিতে গিয়ে এমনই সমসঅায় পড়েছেন মৌসম ভবনের আবহবিদেরা। ডব্লিউএমও এদিন যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে তাতে আগামী বছরের বর্ষার হাল কী হবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন আবহবিদেরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা