kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

সত্য বলায় শিক্ষককে জেল খাটতে হবে? মুন্সীগঞ্জের ঘটনায় প্রশ্ন তসলিমার

অনলাইন ডেস্ক   

৬ এপ্রিল, ২০২২ ১৫:৩১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সত্য বলায় শিক্ষককে জেল খাটতে হবে? মুন্সীগঞ্জের ঘটনায় প্রশ্ন তসলিমার

মুন্সীগঞ্জ সদরের পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে ক্লাস চলাকালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার তসলিমা নাসরিন। তিনি বললেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতির মূল নাম অন্যকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যাচার।

বিজ্ঞাপন

’ 

তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে বেশ ভালো, তিনি বারবারই তাঁর অবাধ্য ছাত্রদের বোঝাতে চেয়েছেন বিজ্ঞান আর ধর্ম দুটো দুই জিনিস, একটি প্রমাণনির্ভর, আরেকটি বিশ্বাসনির্ভর। ধর্ম দ্বারা মগজধোলাই হওয়া ছাত্ররা বিজ্ঞানের কোনো তত্ত্ব-তথ্য বুঝবে না বলেই যেন পণ করেছিল। তবে বিজ্ঞান আর ধর্ম নিয়ে তাঁর ছাত্রদের যে প্রশ্নগুলোর উত্তর তিনি দিয়েছেন, সেই উত্তরগুলোর একটি, আমি বেশ নির্দ্বিধায় বলছি, ভুল। তিনি বলেছেন মাটি, গাছপালা ইত্যাদি তো মানুষের তৈরি নয়, এগুলো আল্লাহ বা ঈশ্বর বা কোনো সুপার পাওয়ার তৈরি করেছেন। হৃদয় মণ্ডল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জন্মবৃত্তান্ত বিগব্যাং-তত্ত্ব জানেন না, এ কথা ভেবে অবাক হই। তবে না জানলে তিনি জেনে নেবেন। এ নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আমি চিন্তিত তাঁর জেল-বাস নিয়ে। কেন একজন শিক্ষককে সত্য বলার দায়ে জেল খাটতে হবে? কেন মিথ্যার জয় হচ্ছে বারবার?’

এই প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিন নিজের ২৮ বছর আগের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। সেই ঘটনার সঙ্গে নিজের সঙ্গে হওয়া ঘটনার তুলনা টেনে লেখিকা লিখেছেন, ‘আমি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছি, এই কথা বলে আমাকে দেশ থেকে বের করা হয়েছে, ২৮ বছর দেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না দেশের কোনো সরকারই। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এই ধুয়ো তুলে একের পর এক আমার বই নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে আসিফ, টুটুল- এই অভিযোগ করে তাঁদের কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ’ 

লেখিকা ক্ষোভ জানিয়ে লিখেছেন, ‘কতকাল চলবে এই ধর্মীয় অনুভূতির রাজনীতি? সরকারের প্রশ্রয় ছাড়া এই রাজনীতি সম্ভব নয়। সরকার যদি চায়, ধর্মীয় অনুভূতিওয়ালা সরকার এবং সন্ত্রাসীদের রাজনীতি বন্ধ করতে, পারে বন্ধ করতে। মুশকিল হলো, সরকার চায় না। চায় না বলে হৃদয় মণ্ডলকে জেলে যেতে হয়। ’



সাতদিনের সেরা