kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

হিমুকে দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না!

অনলাইন ডেস্ক   

১৪ অক্টোবর, ২০২০ ১০:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হিমুকে দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না!

১.
চিকিৎসায় মোটামুটি সুস্থই হয়ে যাচ্ছিল একিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়ায় (এএলএল) আক্রান্ত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া টগবগে তরুণ মো. হাসানুজ্জামান হিমু। তাকে ভর্তি করা হয়েছিল মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। চার নাম্বার কেমোথেরাপি দেওয়ার পর সোমবার থেকে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সেদিনই দ্রুত আইসিওতে নেওয়া হয়। 

এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও মঙ্গলবার রাতে হিমুকে দেখতে মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে গিয়েছিলাম। দেখি আইসিইউ'র বেডে নীরব নিথর দেহ! সিস্টার কখনো সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত নিচ্ছেন, কখনো ইনজেকশন দিচ্ছেন। কিন্তু সামান্য নড়াচড়া নেই সুদর্শন, প্রাণবন্ত ও টগবগে তরুণ হিমুর। চোখের পলকও ফেলছে না! মনে হয় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। শিয়রের কাছে দাঁড়িয়ে থাকলাম আর চোখের পানি ছেড়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানালাম, হে আল্লাহ, তুমি আমাদের হিমুকে পরিপূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দাও।

২.
হিমুর চিকিৎসায় নিয়োজিত আইসিইউ'র চিকিৎসক কামরান ভাইকে বেশ আন্তরিক মনে হলো। ফাইলে রোগীর হিস্ট্রি দেখে দেখে সিস্টারদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। তারা মনে করছেন, ইনফেকশন ব্রেনে ছড়িয়ে গেছে।

হিমুর চিকিৎসায় সার্বিক গুরুত্ব দিতে ফোনে অনুরোধ জানালাম জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের সুযোগ্য পরিচালক অধ্যাপক কাজী মুশতাক হোসেইন, সেখানকার রক্তরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ প্রিয় ভাই ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল, আমাদের বন্ধু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুল হাসানের সঙ্গে। 

তারা সবাই যথেষ্ট আন্তরিক। প্রায় ছয় মাস আগে শুরু হওয়া হিমুর চিকিৎসা তথা বিনামূল্যে কেমোথেরাপির ব্যবস্থা করাসহ সবকিছুই এতো দূর এগিয়েছে মূলত তাঁদের ঐকান্তিক সহযোগিতা এবং রোগীর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কারণেই। এখনো তারা সবাই প্রতিনিয়ত চিকিৎসার খোঁজ খবর রাখছেন।

৩.
চিকিৎসকরা এখনো আশাবাদী। তারা বলছেন, হয়তোবা ঠিক হয়ে যাবে। পুরোটা নির্ভর করছে একমাত্র আল্লাহ তা'আলার রহমতের ওপর।

হিমুর বাবা জাকির এবং তার মা না খেয়ে, কেঁদেকেটে সার্বক্ষণিক হিমুর পাশে আছেন। দরিদ্র পরিবারটি ভুগছে চরম আর্থিক সংকটে। গত একমাস ধরে হাসপাতালের পাশের বস্তিতে একটি টিনশেড রুম ভাড়া নিয়ে অতি কষ্টে আছেন। এখন আইসিইওতে চিকিৎসার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আমার বাসা ভাড়ার জমিয়ে রাখা টাকাসহ আমার শুভাকাঙ্ক্ষী আরো দু'একজনের কাছ থেকে কিছু টাকা তুলে তাদের হাতে দিয়ে এলাম। 

হিমুর জন্য দুই হাত তুলে আপনারা দোয়া করবেন। সম্ভব হলে তার বাবা জাকিরের বিকাশ নম্বর 01734804881 (পারসোনাল) নম্বরে সাধ্যমত আর্থিক সহযোগিতা করুন। করোনা মহামারীর সময় এতো বড় বিপদে আপনাদের দান আল্লাহ নিশ্চয়ই কবুল করবেন।

(আতাউর রহমান কাবুলের ফেসবুক থেকে)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা