kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

আমরা যারা ৫ হাজার টাকা পিস মাস্ক সাপ্লাইয়ের ধান্দা করছি তাদের কী হবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ জুন, ২০২০ ১০:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমরা যারা ৫ হাজার টাকা পিস মাস্ক সাপ্লাইয়ের ধান্দা করছি তাদের কী হবে

ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকারকে আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি যে দেশ মাতৃকার সেবা করার লাইসেন্স এবং একমাত্র ঠিকাদার আমরা। আমাদের ঠিকাদারি দোকান থেকে পারমিট না নিয়ে কেউ চাইলেও দেশের সেবা করতে পারবে না। কয়েক স্যুটকেস মাস্ক মাথায় বয়ে দেশে ফিরে এরে তারে ফ্রি বিলালে, আমরা যারা ৫ হাজার টাকা পিস মাস্ক সাপ্লাইয়ের ধান্দা করছি, তাদের কী হবে। ডাক্তার ফেরদৌসের উচিত ছিল আমেরিকা থেকে লাইনঘাট করে কিছু সেকেন্ড হ্যান্ড ফ্রিজ কিনে সেগুলোকে ‘আমেরিকান ভেন্টিলেটর’ হিসেবে সাপ্লাইয়ের কন্ট্রাক্ট বের করা। সেগুলো এখানে ৫০ লাখ টাকা পিস দরে সাপ্লাই করে দেয়া যেত। উনিও খুশি, আমরাও খুশি।

ডাক্তার ফেরদৌসের কপাল ভালো যে উনি নব্বই দশকের ছাত্রলীগ করত, সেই সময়কার ছবিটবি পাওয়া যায়, সেই সময়কার ছাত্রলীগ সভাপতি-ভিপি প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছে, তাই অন্তত শেষ পর্যন্ত প্রাণ নিয়ে আমেরিকা ফেরত যেতে পারবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। অথচ জিনিস হওয়া উচিত ছিল উল্টো। ছাত্রলীগ বিষয়টাকে তাদের পক্ষে নিয়ে বড় বড় করে বলতে পারত, ‘দেশের ক্রান্তিকালে ছাত্রলীগের সাবেকরাও দেশের সেবা করতে ফিরে আসছে।’ সে যাই হোক, তাদের ঘরের ব্যাপার, তারা বুঝুক। অন্য আলাপে যাই। এই দেশে কী পরিমাণ আজাইরা টাইম আছে আমাদের, ডাক্তার ফেরদৌসের ঘটনা হচ্ছে তাঁর প্রমাণ। এই দেশ এখন ফেসবুকের মতামতে বেশি প্রভাবিত হয়। মানুষও হয়, সরকারও হয়। আপনি যদি ফেসবুকে একটু জুইত মতো টুইস্ট করে দিতে পারেন, তাহলে যে কাউকে জেলের ভাত খাওয়ানো এখন পানিভাতের মতোই সহজ। একজন কেউ স্ট্যাটাস মেরে দিল, সেই স্ট্যাটাসের রেশ ধরে সরকারের এজেন্সিগুলো চালু হয়ে গেল, টিভিতে টিভিতে নিউজ হওয়া শুরু হলো। হলি কাউ।

কিন্তু আমাদের বেসিক আইকিউ সমস্যাটা এখনও আমাকে ভাবাচ্ছে। আমাদের প্রথমই প্রশ্ন করার ছিল, ‘একজন মানুষ যদি খুনি মোশতাকের ভাগ্নে বা ভাতিজাও হয়ে থাকেন, সেটাতে উনার দোষটা কী? উনি যদি মোশতাকের রাজনীতি ধারণ করেন, তাহলে অবশ্যই উনি দোষী। কিন্তু ভাগ্নে ভাতিজা হওয়ার জন্য তো দোষী হতে পারেন না। আপনাদের কথা জানি না, আমার জন্মের সময় আল্লাহ আমাকে মামা চাচা বেছে নেবার কোনো অপশন দেন নাই। দিলে আমি বিল গেটসকে বড় মামা আর মার্ক জুকারবার্গকে ছোটমামা হিসেবে বেছে নিতাম। যেহেতু আমাকে সেই অপশন দেয়া হয়নি, তাই আমার মামা চাচা তাজউদ্দিন হবেন নাকি মোশতাক হবেন, সেই দোষে আমাকে তো দোষী করা যায় না।

কোনো তথাকথিত ‘মোশতাকের ভাগ্নে’ যদি দেশে কোনো ষড়যন্ত্র করতেও আসে, তাহলে সেটা ঢাকঢোল পিটিয়ে, ফেসবুকে লাইভ করে আসবে না, এটা বুঝতে তো বড় বুদ্ধির দরকার পড়ে না, এন্টারকটিক লেভেলের বুদ্ধি দিয়েই সেটা বুঝা উচিত। যাই হোক, শেষ বিচারে এই ঘটনায় ডাক্তার ফেরদৌসের অনেক লাভ হয়েছে। কয়েক ব্যাগ মাস্কের বিনিময়ে যে প্রচার উনি পেলেন, সেটি অসাধারন! আমার মতো অনেকেই হয়তো উনার নামই শুনলেন এই সুযোগে। তিনি এখন আমাদের ডাক্তার সমাজের ব্যারিস্টার সুমন হিসেবে অনলাইনে বড় তুফান তুলবেন, তাঁকে স্বাগতম ও লাল গোলাপ শুভেচ্ছা। 

(আরিফ জেবতিকের ফেসবুক থেকে)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা