kalerkantho

বুধবার । ২৪ আষাঢ় ১৪২৭। ৮ জুলাই ২০২০। ১৬ জিলকদ  ১৪৪১

'আল্লাহ যেন কোনো শত্রুকেও এই যন্ত্রণাদায়ক রোগ না দেন'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ জুন, ২০২০ ০০:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'আল্লাহ যেন কোনো শত্রুকেও এই যন্ত্রণাদায়ক রোগ না দেন'

সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত মামুনুর রশিদ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সৌ‌দি আরবে করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মামুনুর রশিদ আজ শুক্রবার তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

ইতোমধ্যে সৌদি আরবের মসজিদগুলোতে আবার জামাতে নামাজ আদায় শুরু হয়েছে। আমি বিছানায় শুয়ে আছি। মসজিদ হতে মাইকে মাগরিবের নামাজের আওয়াজ ভেসে আসছে। ইমাম সাহেব সুরা ফাতিহা পড়তে পড়তেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তিনি কান্না করছেন আর কিরাত পড়ছেন।

খুলে দেওয়ার পরও জেদ্দায় কাল থেকে মসজিদগুলো আবারো বন্ধ করে দেবে বলেছে। হয়তো রিয়াদেও আবারো এমন করতে হতে পারে। আজকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে রিয়াদের ক্রমবর্ধমান করোনার খারাপ পরিস্থিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইমাম সাহেব হয়তো আবারো এমন পরিস্থিতির স্বীকারের চিন্তা করেই কাঁদছিলেন।

কবে ফিরে আসবে আবার স্বাভাবিক পরিস্থিতি? কবে?

চরম বাস্তবতার কারণেই কোথাও কোনো হাসপাতালে বেড খালি নেই। এমনকি মর্গেও লাশ রাখার জায়গা নেই। চার দিকে হাহাকার। এমন বাস্তবতায় আত্মীয় পরিজনহীন এই প্রবাসে আমাদের অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন ছাড়া কোনো উপায় নেই। যাই উপার্জন করেন তার সব বাড়িতে না পাঠিয়ে এখানে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চলাফেরা করার জন্য অর্থকড়ি রাখুন। কিছু ফলফলাদি খাবার তালিকায় রাখেন, মাস্ক-হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনেন।

বয়স যাদের চল্লিশের ওপরে, যাদের ডায়াবেটিক ও প্রেসারের বেমো আছে তারা অত্যন্ত সাবধান হোন, জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। আলিমগণ বলেছেন এই পরিস্থিতিতে কেউ যদি মসজিদে নিরাপদ মনে না করেন তাহলে তিনি মসজিদে না গেলেও কোনো ক্ষতি নেই। নিজের স্ত্রী পরিজন ছাড়া এখানে অসুস্থ হলে যে কি পরিমাণ কষ্ট হয় তা হয়তো ভুক্তভোগীই জানেন।

আমিতো ভাই আক্রান্ত হবার পরে চিকিৎসা নিচ্ছি, কয়জনেরই বা তা জোটে? যদিও আমার বেচারি নিজেও আক্রান্ত হয়ে ছোট ছোট দুই বাচ্চা নিয়ে ঘরেই আছে। কোথায় যাবে? এখানে তো কেউ নেই? মায়ের আচলের সঙ্গে লেপ্টে থাকা বাচ্চাগুলাও হয়তো এতদিনে আক্রান্ত। সব আল্লাহর ইচ্ছা। আমার কিংবা কারো আসলে কিছু করার নেই। আর অসহায় প্রবাসীদের কথা কি বলব?! আসলে এতো বড় ঢেউ সামাল দিতে পৃথিবীর সব সরকারই হিমশিম খাচ্ছে। তাই নিজের নিরাপত্তা নিজেই নিন।

সবচেয়ে জরুরী একটা কথা বলি; হায়াত মওতের মালিক আল্লাহ। নিজের পাসপোর্ট - ইকামার কয়েক সেট ফটোকপি নিজের কাছে ও রুমে রাখতে ভুলবেন না। আর বাড়িতেও এগুলোর ছবি এবং এখানকার কাছের বন্ধুদের নম্বর দিয়ে রাখবেন। অন্তত মরার পর হলেও যেন বেওয়ারিশ হিসেবে না থাকতে হয়। শুধু এটুকু বলতে চাই এখন করোনা কিংবা এছাড়াও অন্যান্য কারণে মৃত্যুর হার এত বেশি যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

আল্লাহ যেন কোনো শত্রুকেও এই যন্ত্রণাদায়ক রোগ না দেন এই প্রার্থনা করি।

(সৌ‌দি আর‌বের রিয়া‌দে বাংলা‌দেশ দূতাবা‌সের লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মামুনুর র‌শি‌দের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা