kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

'মনে মনে ভাবতাম মা বুঝি লাশটাও দেখতে পাবে না'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ এপ্রিল, ২০২০ ১৯:০৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'মনে মনে ভাবতাম মা বুঝি লাশটাও দেখতে পাবে না'

'গায়ে প্রচণ্ড জ্বর, শ্বাসকষ্টে যখন নিশ্বাসটা এই বুঝি বন্ধ হয়ে গেলো, পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আশাটুকু অনেকটা ছেড়ে দিয়েছি। বার বার মায়ের কথা মনে পড়ছিল, মনে মনে ভাবতাম মরে গেলে 'মা' আমার লাশটাও বুঝি দেখতে পাবে না। '

করোনা আক্রান্ত ফটিকছড়ির ডিপলু নিজের অনুভুতি প্রকাশ করলেন ঠিক এভাবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে করোনা জয় করে মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে আসা ডিপলু। গত ২০ এপ্রিল তিনি করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট পাওয়ার পর সম্পূর্ণ সুস্থ হলে তাকে ছাড়পত্র দেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তিনি করোনা মুক্ত হয়ে বাসায় অবস্থান করছেন। ডিপলু করোনা  আক্রান্তকালীন দিনগুলির করুণ মূহুর্তগুলো বর্ণনা করেছেন এভাবেই।

ডিপলু বলেন, প্রথমের দিকে আমার হালকা কাশি হয়। কাশির সাথে সাথে জ্বর আসতে থাকে। জ্বরের মাত্রা বেড়ে গেলে আমার রুমমেটটরা দুবাই হসপিটালে পাঠান। সেখানে করোনা টেষ্ট দেয়ার তিন দিন পর করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসে। ততোদিন আমার শরীরে অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়ে। শ্বাস নিতে খুবই কষ্ট হতো। পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার সাথে সাথে এ্যাম্বুলেন্সে করে জার্মান-সৌদি একটি হাসপাতালে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে প্রায় চারদিন আমার কঠিন মুহুর্ত ছিল। তারা শুধুই স্যালাইন দিয়েছিল। সাথে কয়েকটি ট্যাবলয়েড খেতে দেয়। তারপর আমি ধীরে ধীর সুস্থতা লাভ করি। এরপরে আমাকে সাত তারকার একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। সর্বষেশ আমাকে তিনটি পরীক্ষা করানো হয়, যেখানে সবগুলোতে নেগেটিভ পাওয়া গেলে আমাকে ছাড়পত্র দেন।

ডিপলু তার ফিরে আসার পেছনে মহান সৃষ্টি কর্তার কাছে চেনা অচেনা মানুষ যারা তার করোনাক্রান্তের খবর পেয়েছে তাদের দোয়া  আর আমিরাত সরকারের প্রদক্ষেপের কারণে সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। সাথে সাথে করোনা প্রতিরোধে তার নিজেরও অবহেলা ছিল বলে জানান। নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার না করা, গরম পানি না খাওয়া,বাসায় না থাকা এসব অবহেলার কারণে এমন পরিণ

তি হয়েছিল। তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে ঘরে থাকেন। সবশেষে এই করোনাজয়ী বলেন, 'মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসার আনন্দ কতটুকু বলে শেষ করা যাবে না। এমন পরিণতি থেকে আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করুক।'

মীর মাহফুজ আনাম, আমিরাত প্রবাসী

ফেসবুক থেকে নেয়া

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা