kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

ফেসবুকে ভাইরাল রইজ উদ্দিনের দুই কবিতা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৮:২৮ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ফেসবুকে ভাইরাল রইজ উদ্দিনের দুই কবিতা!

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক-২০২০ এর সাহিত্য বিভাগে সাবেক আমলা এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদকে মনোনীত করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় অব্যাহত রয়েছে।

এরই মধ্যে রইজ উদ্দিনের দুটি কবিতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নানাজন সেই কবিতা ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে নানা হাসি-ঠাট্টামূলক মন্তব্য করছেন।

এর মধ্যে একটি কবিতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি হাসি-ঠাট্টা করছেন নেটিজেনরা। অনেকে সেটিকে কবিতা বলতেও নারাজ। কবিতাটি হলো...

চলে গেলে
এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদ

নোটীশ ছাড়াই চলে গেলে না ফেরার দেশে
আমরা পড়ে থাকি ধরনীতে মলিন বেশে
তোমার ক্ষুধা নেই, যন্ত্রণা নেই, নেই অভিমান
আমাদের কুঁড়ে খায় লোভ সততার নিষ্ঠুর শাসন
তোমার বন্ধন নেই, আছে অফুরন্ত সম।
আমরা আসেন পৃষ্ঠ বাধা দিনক্ষন দ্রুত ফুরায়
বৈষম্য নিপীড়ন সমালোচনায়।
তোমার ভ্রক্ষোপ নাই
আমরা প্রতিদিন নির্যাতনের চোরা
বালিতে নিজেদের হারাই
অতৃপ্ত আত্মা তৃপ্ত হোক তসলিম
জানাক হুর গেলেমান।
ধন্য হও আকণ্ঠ পদান করে সরাবান তহুরান।
 

এই কবিতাটি ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে কবি আবু হাসান শাহরিয়ার লিখেছেন, ‘পুরস্কৃত হওয়ার আগে কজন নোবেল-বুকারপ্রাপ্তকে তুমি চেনো? ধরে নাও, পদকপ্রাপ্তির আগে এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদকেও তেমন চিনতে না। তুমি যে সমকালীন বাংলা কবিতার খুব বেশি খবর রাখো না এবং হরেদরে কবি-অকবিদের সঙ্গে ওঠবস করো, দীক্ষিত পাঠক তা জানে। যেমন পাঠক তুমি, রইজ উদ্দিনও তেমন কবি। তোমার তো খুশি হওয়ার কথা। তোমাদের মেলামেশায় রইজ উদ্দিনরা কবির স্বীকৃতি পায়। অতএব, আগে নিজেকে দায়ী ভাবো।’

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া তার অপর কবিতাটি হলো-

আশির্বাণী
এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদ

সুপ্ত মেধার বিকাশ সাধিতে
শাদা দুই ডানা মেলে।
দেশ বিদেশে সাহিত্য ভূবনে।
গাঙচিল উড়ে চলে।
আনাচে কানাচে নিরবে নিভৃতে
কবি লেখকের দল
বুনোফুল হয়ে ঝরে পড়ে।
মেলে নাহি শতদল।
তাদের কবিতা গল্প কাহিনী
তুলিয়া ধরার তরে।
গাঙচিল শুধু কাজ করে যায়
সকলের অগোচরে।
গড়াই তীরে লালনের কস্টে
মনোরম মোহময়।
ষোঢ়শ গাঙচিল মিলনমেলা।
খুশির বারতা বয়।
এখানে নবীন যত প্রবীণ
গায়ক লেখক কবি।
মহা মিলনের এই জলসায়
আঁকিছে তাদের ছবি।
নজরুল রবি সুলতান হেথা
আসিয়া করিছে ভর।
মরমী সাধক সাঁইজির দোয়া
ঝরিছে হাজার বার।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমন রহমান এই কবিতাটি ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, ‘কবি এস এম রইজ উদ্দীনের কবিতার ব্যাপারে আপনাদের বিপুল সাড়া আমাদের অভিভূত করেছে! অনেকেই তার আরো আরো কবিতার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলে, রত্নভাণ্ডার থেকে আরেকটি এখানে চয়ন করা হল।’

‘চলে গেলে’ কবিতাটি শেয়ার দিয়ে সাংবাদিক আরিফুজ্জামান তুহিন লিখেছেন, ‘আজ কিছুদিন হলো এস এম রইসউদ্দিন আহমেদ নামের একজন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সাবেক আমলাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পদক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। অন্য আলোচনার মত এটিই আমি এড়িয়ে গেছি। কত রইসউদ্দিন আছে দুনিয়াতে, কে স্বাধীনতা পুরস্কার পেল, কে আমাবষ্যা পুরস্কার পেল তাতে দুনিয়ার কি যায় আসে!!

কিন্তু এইমাত্র জানলাম এস এম রইসউদ্দিন আমাদের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়ার দীঘলিয়ার কুমড়ি গ্রামে। হা আল্লাহ! তোমার জমিনে সময়গুলোর স্তর, এসব স্তরের ফাঁকে ফাঁকে কত রঙ, কত রহস্য! নকশালদের ঘাঁটি এলাকায় একজন কবি এভাবে নীরবে নিভৃতে বড় হয়েছেন সেটা মানলাম। কবিরাতো বাগানের আনাজের মত। অলক্ষ্যেই গড়ে ওঠে। তারপর একদিন ট্রামে দেহ পেতে দেবার পর দুনিয়া জানতে পারে বাংলার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কবি জীবনানন্দ দাশ মারা গেছেন। কিন্তু তাই বলে একাত্তরে যুদ্ধ করেছেন এটা জানলাম না। নকশাল ও ভারত ফেরত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললাম। রইজ উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধ করেনি, ১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া ১১ বছরের রইজ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি। এদের মধ্যে কেউ কেউ বললেন, এলাকার ছেলে মুক্তিযুদ্ধ করেনি ঠিক আছে, কিন্তু লেখালেখি করে বড় জায়গা গেছে। তার জন্য দোয়া কইরো বাপজান।

এই যে বইমেলাতে হাজারে হাজারে কবি সাহিত্যিক বের হয়। নিজের টাকায় বই বের কের তারা রীতিমতো পরিচিতদের নানান ধরনের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ করে ফেলে। তখন আমি বুঝিনি, বারবার এসবকে আমার অপচয়, নির্বুদ্ধিতার দারুণ উৎপাদন মনে হতো। কিন্তু রইজ উদ্দিন সাহেবকে পাঠ করে মনে হয়েছে, এটি একটি ভালো বিনিয়োগ। একটা সময়ের পর মানুষের কবি সাহিত্যিক হতে চাওয়ার পেছনে কারণ হলো ক্ষমতার আরও বেশি কাছে যাওয়া।

হাজারে হাজারে সাহিত্যিক, কবিরা রইসউদ্দিন সাহেবকে নিশ্চিন্তে অনুসরণ করতে পারেন। আপনারাও এ রকম পুরস্কার, ক্ষমতার আশপাশে থেকে নানান সুবিধা পেয়ে যাবেন। অপেক্ষা করেন। আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন। সে সময় মুক্তিযোদ্ধা লিখতে পারবেন না, তখন হয়তো শাহবাগী বা শাপলাচত্বরী লিখতে পারবেন। চেতনা একটি পরিবর্তনশীল ফেনোমেনান। ফলে সমস্যা নেই, কেবলা পরিবর্তন হলে চেতনার রঙ ও পরিবর্তন হয়ে যাবে।’

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাহিত্যিক কুলদা রায় ফেসবুকে এই বিষয়ে লিখেছেন, ‘রইজউদ্দিনের চেয়ে দেশে অনেক উচ্চ মানের সাহিত্যিক আছেন। তাদের অনেকেই স্বাধীনতা পদক তো দূরের কথা একুশে বা বাংলা একাডেমির কোনো পুরস্কারও এখন অব্দি পাননি। তাদের বঞ্চিত করে যখন রইজউদ্দিনকে সাহিত্য ক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয় তখন আসলে গা ছমছম করে পুরস্কারটি নিয়ে প্রশ্ন উঠে। তার অন্য পুরস্কার পাওয়ার মতোই এই স্বাধীনতা পদকটিও কি তাহলে কোনো লেনাদেনার ফসল? আমলা ও সরকারি সাহিত্যরতদের কেরদারী? আমরা আমজনতা এই প্রশ্নের উত্তর জানি না। জানেন হয়তো দেশের সরকারি আমলারা। আর জানতে পারেন হয়তো আনিসুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, শামসুজ্জামান খান এবং সেলিনা হোসেনের মতো প্রবীণ জ্ঞানীগুণীজন। তাদের স্বাক্ষর ছাড়া তো দেশের সাহিত্যের পুরস্কার পদক ফাইনাল হয় না। হায় খোদা!’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা