kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

পেঁয়াজের রেকর্ড দামে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া, হাস্যরস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৩৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পেঁয়াজের রেকর্ড দামে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া, হাস্যরস

বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন অনেকেই। এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরগরম হয়ে রয়েছে।

পেঁয়াজের বাড়তি দামের পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজির কথা বলছেন অনেকেই। ব্যবসায়ীদের দুষছেন কেউ কেউ। সরকারের দায়িত্বও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে রসিকতাও শুরু করেছেন কেউ কেউ।

পেঁয়াজের বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতারা অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অপারগতার কথা প্রকাশ করছেন। লিপু নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজ দুঃসাহস দেখিয়ে ৬৫ টাকা দিয়ে ২৫০ গ্রাম (১৭)টি পেঁয়াজ কিনেছি!!!’

গোলাম সামদানি নামে একজন তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন-

তাঁর বন্ধুদের অনেকেই সেখানে রসিকতা করেছেন। সেখানে শেখ মোঃ বিল্লাল হোসেন লিখেছেন, ‘অভিনন্দন আপনাকে, এই যুগে আপনার মতো দুঃসাহসিক পুরুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।’

দুই মাস আগেও ঢাকার বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০টাকা কেজিতে। সেই দাম বেড়ে প্রথমে একশো ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে আড়াইশ টাকা কেজি দরে।

এ অবস্থায় পেঁয়াজ দেখতেও ভবিষ্যতে টাকা লাগবে- এমন আশঙ্কা করেছেন মুক্তা খাতুন নামে একজন। তিনি লিখেছেন- পেঁয়াজ দেখার জন্য কখন না আবার দাম বেঁধে দেয়া হয়।


মহামূল্যবান বস্তু হয়ে ওঠায় কুমিল্লায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে পেঁয়াজ উপহার দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে স্যাটায়ার গ্রুপ 'ইয়ার্কির' ছবি পোস্ট করে রসিকতা করেছেন ইব্রাহিম অভি।  সেখানে কাজী প্রকৃতি আহমেদ একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। যেখানে লেখা, একটি মেয়ে তার ছেলে বন্ধুকে বলছে, 'বেবি, আমাকে কোন একটি দামী স্থানে নিয়ে যাও।’

পরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পেঁয়াজের বিশাল স্তূপের ওপর তারা বসে আছেন।


এর আগেও পেঁয়াজ শেষের মৌসুমে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম একশো পার হয়েছিল। তবে তা কখনোই দুইশো টাকার ঘর অতিক্রম করেনি।

নজরুল ইসলামের স্ট্যাটাস-


বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানির বড় উৎস ভারত। সম্প্রতি ভারতে পেঁয়াজের সংকট তৈরি হওয়ায় দেশটিও পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। বিকল্প উৎস হিসাবে মিয়ানমার, মিশর, তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হলেও মূল্য কমেনি।

শামিমা রহমানের স্ট্যাটাস-

এর মধ্যেই পেঁয়াজ ছাড়া রান্না এবং পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করার আহবান জানানো হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকেই লিখেছেন, তারা এখন পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করতে শুরু করেছেন।

বিপ্লব হান্নান একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, রান্নায় এক পেঁয়াজের বেশি নয়, অর্ধেক হলে ভালো হয়!

এম জাহিদ নেওয়াজ খানের স্ট্যাটাস-

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবনে শনিবার পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সে তথ্য জানিয়েছেন।

জুলহাস আলমের স্ট্যাটাস-

অন্য একটি পোস্টে দেখা যায়, পেঁয়াজ দিয়ে গলার নেকলেস তৈরি করা হচ্ছে, পেঁয়াজ আলমারিতে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

মাহবুব ইমরান লিখেছেন, যত ট্রল চলবে,তত দাম বাড়বে। ৮০ টাকা থেকে ১২০ এখন ২৫০। পেঁয়াজের দাম কমানোর ঘোষণার পরেই ২০০ ক্রস। পেঁয়াজ নিয়ে কথা বললেই বিপদ।

শামিমা রহমান শাম্মি মজা করে লিখেছেন, একজন আঙ্গেল ২/৩ কেজি পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, তার কি জীবনের ভয় নাই?

এ কাদের লিপুর স্ট্যাটাস-

সাংবাদিক জুলহাস আলম লিখেছেন, 'পেঁয়াজ নিয়ে রসিকতায়, যেটাকে আমি নাম দিয়েছি পেঁয়াজমাতি, এটা বেস্ট হইছে'।

সেখানে লেখা, 'দুদকের ভয়ে খবরটা গোপন রাখলাম-গতকাল বিকেলে আমার বউ পিয়াজু বানাইয়া খাইছে...'

গোলাম সামদানি লিখেছেন, 'প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম এখন ২০০ টাকা বর্তমানে আমার বাসায় দুই কেজি সমপরিমাণ পেঁয়াজ রয়েছে। ভাবছি সেগুলো রান্নাঘরে না রেখে আলমারিতে তালা দিয়ে রাখবো। কারণ পেঁয়াজে খোঁজে যদি আবার চোর ডাকাত বাসায় চলে আসে!'

ডিমের বদলে পেঁয়াজ সাজিয়ে রেখেছেন মুতাসিমবিল্লাহ নাসির-


ডিমের বদলে পেঁয়াজ সাজিয়ে রেখেছেন মুতাসিমবিল্লাহ নাসির-

মোঃ মুনির হোসেইন লিখেছেন, 'ধন্যবাদ জানাচ্ছি রেস্টুরেন্ট মালিকদের। পেঁয়াজের দাম সার্কিট ব্রেকার ভাঙ্গার পরেও তারা সিঙ্গারার দাম বাড়াননি'।

মুতাসিমবিল্লাহ নাসির একটি ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে, ডিমের বক্সে তিনি পেঁয়াজ সাজিয়ে রেখেছেন। লিখেছেন, 'অবশেষে যথাযোগ্য মর্যাদা পেল পেঁয়াজ'।

শেষ পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশ থেকে বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের সরকার। তবে এর মধ্যেই দেশের কোন কোন স্থানে নতুন উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজের সব চালান দেশে এসে পৌঁছলে আর নতুন পেঁয়াজ পুরোপুরি বাজারে উঠে গেলে এই দাম কমে আসবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা