kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

৩৯৫ কোটির হিসাব না নিয়ে কেউ ক্রিকেটারদের লোভী বইলেন না ভাই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৫:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩৯৫ কোটির হিসাব না নিয়ে কেউ ক্রিকেটারদের লোভী বইলেন না ভাই

একটা ইন্টারন্যাশনাল মানের ব্যাট কিনতে খরচ পড়ে কমপক্ষে ৫০০০০ টাকা। এক জোড়া ব্যাটিং গ্লাভস ৫০০০ টাকা, প্যাড ৮০০০ টাকা, হেলম্যাট ১০০০০ টাকা, বুট ১৫০০০ টাকা। আরো যে কী কী লাগে নাইবা বললাম। ৬টা ব্যাট, ৮ জোড়া গ্লাভস, ৩-৪ জোড়া প্যাড, বুট , রানিং সু ৬ জোড়া- হিসেব করেছেন কতো টাকা পড়ে। সাথে ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য জিম, খাবার? 

ভাই সবাই তো আর সাকিব, তামিম, মুশফিক না। একটা খেলোয়াড় ৫-১০ বছর প্র্যাকটিস করে তারপর একটা পর্যায়ে খেলার সুযোগ পায়। ধরে নিলাম একজন খেলোয়াড় ৮ বছর বয়সে প্র্যাকটিস শুরু করেছে, আর ১৮-১৯ বছর বয়সে প্রফেশনাল ক্রিকেট খেলার সুযোগ পেয়েছে। এই ১০-১১ বছরে তার কতো টাকা খরচ হয়েছে একবার হিসেব করেছেন? আর ১২ থেকে ১৫ বছর ক্রিকেট খেলার পর যখন আর তাকে কোনো দল ডাকবে না খেলতে তখন কেউ কি তার খোঁজ নেন?  আপনি কি জানেন সে তখন সদ্য বেকার হওয়া ৩৪ কি ৩৫ বছরের যুবক যার ঘরে আছে তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে। আপনি বুঝতে পারেন সেই সদ্য বেকার হওয়া সাবেক যুবক ক্রিকেটারের মনের অনুভূতি? পড়াশোনা করলেই বা কি চাকুরীর বয়স তো চলে গেছে, নতুন করে পারে না কোনো ব্যবসা করতে। কারণ কি মনে হয়? কতো টাকা জমিয়েছে সে? ভাই দেন না কিছু টাকা বাড়িয়ে। যারা আপনার আমার মতো ভবিষ্যতের কথা না ভেবে ক্রিকেট খেলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবার আশায় জীবন পার করে দেয়। কেউ কেউ অনেক টাকা কামায় কিন্তু সে তো ৫%-ও হবে না। ভাই তারা তো সরকারি কোষাগার থেকে টাকা চাচ্ছে না বা জনগণের কাছ থেকে চাঁদা তুলেও দিতে বলছে না। এই টাকা তো তাদের-ই কামাই করা টাকা। ওরা ক্রিকেট খেলে বলেই তো বোর্ডের এতো ইনকাম। যতটুকু জানলাম ৪০০ কোটি টাকা বোর্ডের বাৎসরিক ইনকাম। আর খেলোয়াড়দের বেতন মাত্র ৫ কোটি, বাকি ৩৯৫ কোটি টাকার হিসেব না নিয়ে কেউ আমাদের খেলোয়াড়দের লোভী বইলেন না ভাই। আমার লেখায় কেউ কষ্ট পেলে অথবা আমার কোনো ভুল হলে ক্ষমা করবেন।

আমার দিক থেকে যদি বলি বা চিন্তা করি, ২০ বছর ধরে খেলাধুলা করেছি, কিন্তু খেলা ছাড়ার পরে এখন কোচিং করাই। কিন্তু বাকি জীবনটা কিভাবে চলবে কিভাবে যাবে এখন থেকেই চিন্তা করতে হচ্ছে,আর যারা খেলা ছাড়ার পরে চাকরির বয়স নাই ঠিক মতো টাকাও ইনকাম করতে পারে নাই, তাদের বাকি লাইফে কি হবে চিন্তা করে দেখবেন। একটা খেলোয়াড় কখনও এরকম পারিশ্রমিক পাই না। লবিং বা টাকা কোনটাই না থাকার কারণে খুব ভালো জায়গায় যেতে পারে না। অমানবিক পরিশ্রম করে এখনও খেটেই যাচ্ছি, কিন্তু আশানুরূপ কোনো ফল পাচ্ছি না। কিন্তু আশা ছাড়িনি।

কিন্তু এগুলোর ফলশ্রুতিতে যা হচ্ছে তা হলো আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। যা হোক আগামী দিনের ভালো কিছুর জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। 

 লেখক: মেহের শাহরিয়ার, ক্রিকেটার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা