kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অভিনয় শেখানোর নামে ধর্ষণের অভিযোগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:১৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অভিনয় শেখানোর নামে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রতীকী ছবি

অভিনয়ের ভুল সংশোধনের কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নাট্যব্যক্তিত্ব তথা সাবেক অধ্যাপক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। আর অভিযোগ করেছেন তারই এক ছাত্রী। সুদীপ্তর নাটকের দল ‘স্পেক্ট্যাক্টরস’-এ নিয়মিত অভিনয় করতেন ওই তরুণী। 

গতকাল বুধবার রাতে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ওই তরুণী। এরই মধ্যে ব্যাপকহারে শেয়ার হয়েছে তার পোস্ট। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

ভারতের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মিডিয়া সায়েন্স’-এর ‘পারফরম্যান্স অ্যান্ড মিডিয়া’ বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন সুদীপ্ত। তার বাড়িতেই হতো দলের যাবতীয় রিহার্সেল। 

তরুণীর অভিযোগ, তাকে সুদীপ্ত ডেকেছিলেন মহড়ার নাম করে। কিন্তু সে সময় দলের অন্য কোনো সদস্য সেখানে ছিল না। এমনকি, বাড়িতে ছিল না সুদীপ্তর স্ত্রী। সেই তরুণী বাড়িতে পৌঁছানোর পর কোনো কাজে তিনি বেরিয়ে যান। বাড়িতে ছিলেন সুদীপ্ত এবং পরিচারক। সে রকম একটি পরিস্থিতিতেই সুদীপ্ত শুরু করেন ‘ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক’। 

তরুণীর অভিযোগ, অভিনয় শেখানোর নামে প্রথমে তার শ্লীলতাহানি এবং পরে ধর্ষণ করেন সুদীপ্ত। সেই অবস্থায় তাকে জোরে, আরো জোরে সংলাপ বলতে বলেন সুদীপ্ত। ফেসবুক পোস্টে এসব লিখেছেন ওই মঞ্চাভিনেত্রী।

যদিও ওই পোস্ট তথ্যবিকৃতি করে অভিযোগ করা বলে দাবি করেছেন সুদীপ্ত। এই নাট্যব্যক্তিত্বের বক্তব্য, স্টেজ শো হওয়ার পর তার মনে হয়, নামভূমিকায় অভিনয়কারী ওই তরুণীর অভিনয়ে খামতি ছিল। তাই ‘ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক’ প্রয়োজন অভিনয় তথা থিয়েটারের স্বার্থেই।  তিনি নন, ওই তরুণীই তার কাছে অনুরোধ করেছিলেন ত্রুটি সংশোধনের, দাবি সুদীপ্তর। 

তিনি বলেন, ওই ছাত্রীকে তিনি ধর্ষণ করেননি। বরং, ‘ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক’ বা ডায়াফ্রাম ব্রিদিং এক্সারসাইজ-এর অনুশীলনীর অংশ হিসেবে যেটুকু আংশিক নগ্নতা বা পার্শিয়াল নুডিটি এসেছে, শরীরী স্পর্শ হয়েছে, তা সম্পূর্ণটাই ঘটেছে তরুণীর সম্মতিক্রমে। সেখানে সুদীপ্তর পক্ষ থেকে যৌনতা বা অশালীনতার কোনো চিহ্নই ছিল না। 

সুদীপ্তর দাবি, তিনি ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক করাবেন, এটা জেনেই তরুণী তার বাড়িতে সেদিন এসেছিলেন। এমনকি, ‘ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক’ কী, সে বিষয়েও তিনি তরুণীকে আগেই বিশদে জানিয়েছিলেন।

সুদীপ্তর অভিমত, অভিনয় প্রশিক্ষণের অন্যতম অঙ্গ ‘ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক’। তিনি নিজেও এভাবে অভিনয় শিখেছেন। তার সমসাময়িক আর কেউ এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন কি না, তিনি জানেন না। কিন্তু তিনি মনে করেন এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। কারণ, এর ফলে স্বরক্ষেপণ নিখুঁত হয়। বিদেশে থাকাকালীন তিনি এই পদ্ধতি বহু ক্ষেত্রেই প্রয়োগ হতে দেখেছেন। সেখানে ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় বলে তার দাবি। তিনি নিজেও ছাত্র এবং ছাত্রী, উভয় ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেন বলে জানান। 

তার দাবি, প্রতি ক্ষেত্রেই তিনি সংশ্লিষ্ট ছাত্র বা ছাত্রীর অনুমতি নিয়েই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। তারা যত দূর পর্যন্ত সহজভাবে নিতে পেরেছেন তত দূরই পদ্ধতি চলেছে, তারপর তা বন্ধ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ক্ষেত্রেও এই রীতি এক চুলও এদিক-ওদিক হয়নি বলে তার দাবি। 

সুদীপ্তর কথায়, আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠায় আমি হতবাক। কারণ, অনেক দিন ধরে প্রয়োজনে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলেও এই প্রথম আমার বিরুদ্ধে কেউ এ ধরনের বিকৃত ও মিথ্যা অভিযোগ আনলেন।

তবে, অভিযোগকারীর অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে। তার দাবি, তিনি একা নন। আরো অনেকেই সুদীপ্তর ওপর এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ। তারা সম্মিলিতভাবে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাবেন। কিন্তু কবে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হবেন, সে নিয়ে এই মুহূর্তে মুখ খুলতে নারাজ তিনি।

কিন্তু এত দিন কেন চুপ করে ছিলেন তিনি? তার সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। এক বার নয়, দু’বার। ওই তরুণীর কথায়, প্রথমবার আমি সহ্য করেছি। দ্বিতীয়বার প্রতিরোধ করি। তার পরেও আমি ওই দলে কাজ করে গেছি থিয়েটারের স্বার্থেই।

দলে থেকে সুদীপ্তকে এড়িয়ে গিয়ে কাজ করতে তার যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছিল বলে তার দাবি। হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলতে গিয়েছিলেন সুদীপ্তর সঙ্গে। কিন্তু সেখানেও তাকে ব্লক করে দেওয়া হয় বলে দাবি তরুণীর। দলের অন্য সদস্যদের তিনি নিজের ওই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সুদীপ্তর প্রভাব-প্রতিপত্তির ভয়ে সবাই মুখ বন্ধ করেছিলেন বলে দাবি অভিনেত্রীর। শেষে তিনি ওই দল ছেড়ে অন্য নাটকের দলে যোগ দেন।

কিন্তু ফেসবুকে পোস্ট করতেই প্রায় এক বছর বিলম্ব কেন? তরুণীর কথায়, তিনি নিজেও সাহস সঞ্চয় করে উঠতে পারছিলেন না। সুদীপ্তর স্ত্রীও তাকে মুখ বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছিলেন। কারণ, তিনি মুখ খুললে তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ব্যাহত হতো। স্বামীর এই ‘বিশেষ প্রশিক্ষণ’-এর কথা তিনি প্রথম থেকেই জানতেন বলে দাবি ওই অভিনেত্রীর। 

অভিযুক্ত সুদীপ্তও বলেন, তার স্ত্রী এ বিষয়ে জানতেন।

নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য যা যা করণীয় তিনি করবেন বলে জানান সুদীপ্ত। তার কথায়, পুলিশে অভিযোগ দায়ের হওয়ার আগেই আমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সামাজিক ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হয়েছে।

শিক্ষকতায় ইস্তফা দিতে হয়েছে তাকে। নিজের ফেসবুক পেজে ওই তরুণী জানিয়েছেন, গত সোমবার, ১৪ অক্টোবর তিনি সুদীপ্তর কর্মস্থলে গিয়ে অভিযোগ জানান। সুদীপ্ত বলেন, মঙ্গলবার ওখানে আমাকে ডেকে ইস্তফা দিতে বলা হয়। আমি ইস্তফা দিয়েও দিয়েছি।

তার আরো কঠোর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন অভিযোগকারী ওই অভিনেত্রী। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তিনি সুদীপ্তর প্রথম ‘শিকার’ নন। কিন্তু আর কেউ যাতে এই পরিস্থিতির ‘শিকার’ না হন, সে জন্য সুদীপ্তকে থামানো প্রয়োজন। এর পাল্টা কোনো পোস্ট কি দেবেন সুদীপ্ত? উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, কিছু দিন আগেই তিনি তার ফেসবুক প্রোফাইল ‘ডিঅ্যাক্টিভেট’ করে দিয়েছেন। তবে এর সঙ্গে তরুণীর অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তার দাবি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা