kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজধানীতে এক ভয়ঙ্কর পারভার্টের কবলে নারী সাংবাদিক!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীতে এক ভয়ঙ্কর পারভার্টের কবলে নারী সাংবাদিক!

গত ১১ অক্টোবর ‘ব্যক্তিগত বাংলা লাইব্রেরি বিক্রি হবে’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় একটি দৈনিক পত্রিকায়।

বিজ্ঞাপনে গোকুল চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৫০ বছর ধরে গড়ে তোলা ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বই এবং পত্রিকার সংগ্রহ বিক্রি করার ঘোষণা দেন।

১৯৭০ সাল থেকে বাংলা বই সংগ্রহ করে চলেছেন বর্তমানে অবসারে যাওয়া স্কুলশিক্ষক গোকুল চন্দ্র দাস। বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে যোগ দিয়েছিলেন ঢাকার একটি সরকারি স্কুলে বাংলার শিক্ষক হিসেবে।

ছাত্র ও পেশাগত জীবনে লাইব্রেরি রক্ষণাবেক্ষণে তেমন সমস্যা না হলেও ২০১৪ সালে অবসর নেয়ার পর থেকেই লাইব্রেরির রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে তার জন্য।

বিক্রির বিজ্ঞাপনে তিনি ‘বিনিময় মূল্য’ ধরেছেন লাইব্রেরির জন্য ১৫ লাখ টাকা এবং পত্রিকার বিশেষ সংখ্যার জন্য ১০ লাখ টাকা।

বই কেনার ক্ষেত্রে তার প্রাথমিক পছন্দ ছিল কবিতার বই। পরে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সংগ্রহ করেন আত্মজীবনীমূলক এবং গবেষণাধর্মী বইও।

এ ছাড়া বাংলা ভাষায় লেখা বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে তার কাছে। ক্রোড়পত্রগুলো এখন একটু অন্যভাবে সংরক্ষণ করছেন গোকুল দাস। সেখানে প্রকাশিত কবিতাগুলো আলাদা করে কেটে সংকলন করেছেন তিনি।

গত ৪৭ বছরে বিভিন্ন ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত কবিতাগুলো একসঙ্গে সংকলন করে ১৬টি খণ্ডে ভাগ করেছেন।

‘এই ১৬টি খণ্ড বই আকারে প্রকাশ করলে বাংলাদেশের পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় যাদের কবিতা ছাপা হয়েছে, সেগুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে।’

এ ছাড়া এই ৪৭ বছরে পত্রিকায় যখনই কোনো সাহিত্যিক বা লেখকের সম্পর্কে কোনো লেখা ছাপা হয়েছে, সেগুলোও আলাদা করে রেখেছেন তিনি।

সাড়া জাগানো এই বিজ্ঞাপনের পর গত ১৪ অক্টোবর বিবিসি বাংলায় ৬৪ বছর বয়সী গোকুলকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যেখানে তার অনেক গুনগান করা হয়।

বিজ্ঞাপনটি দেওয়ার পর গোকুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে যান।

এসব দেখে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এর এক নারী সাংবাদিক তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন করার জন্য তার সাক্ষাতকার নিতে যান আজ বুধবার। কিন্তু সেখানেই তিনি ঘটিয়ে বসেন এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা।

তিনি ওই নারী সাংবাদিককে কে যৌন হেনস্থা করে বসেন।

গোকুল ওই নারী সাংবাদিককে বলেন, ‘তুমি এমন এক সময়ে এসেছো যখন আমি খুবই নিঃসঙ্গ। তুমি আমার হারিয়ে যাওয়া যৌন কামনাকে জাগিয়ে তুলেছ।’

‘আমার আরো কাছে আসো। আমার শোবার ঘরে চলো। এখানে আমি আর তুমি ছাড়া আর কেউ নেই।’

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সূত্র জানিয়েছে, সাক্ষাতকার শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই নাকি গোকুল তাদের ওই নারী সংবাদকর্মীকে বলেন, ‘আমি কি আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি? এতে আমাদের সংবাদকর্মী সায় দেন।

এরপরই গোকুল তাকে বলে বসেন, ‘তুমি আমাকে বিয়ে করবে?’ এই কথা শুনে আমাদের সংবাদকর্মী চমকে উঠে। অথচ গোকুল নিজেই তাকে তার নিজের সবচেয়ে ছোট মেয়ের চেয়েও বয়সে ছোট বলেছিলেন।

আমাদের সংবাদকর্মী একথা শুনে তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কেন আমাকে এই ধরনের প্রশ্ন করছেন?’ এর উত্তরে গোকুল নাকি বলেন, তিনি গত ২০ বছর ধরে যৌনতা থেকে বঞ্চিত আছেন।

একথা শুনে ওই নারী সাংবাদিক পালিয়ে আসার চেষ্টা করলে গোকুল তার পাথ আগলে ধরেন এবং বলতে থাকেন তোমাকে আজ আমার সঙ্গে থাকতেই হবে।

তখন ওই নারী সাংবাদিক তার এক সহকর্মীকে ফোন দিয়ে গোকুলের কানে ফোন ধরিয়ে দেন। তার সহকর্মী গোকুলকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘পুলিশ আসছে। ওকে ছেড়ে দিন।’

ধমক খেয়ে গোকুল দরজা খুলে দেন এবং ওই নারী সাংবাদিক তার বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, এই ঘটনায় তারা আজ রাতে ধানমন্ডি থানায় জিডি করবেন।

 

আরও পড়ুন:  বাড়তি রুমের জন্য লাইব্রেরি বিক্রির সিদ্ধান্ত, ‘আমার স্ত্রীর ক্যান্সার হয়নি, মিথ্যে ছড়ানো হচ্ছে’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা