kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

আবরারকে নিয়ে স্ট্যাটাস : ভক্তদের তোপের মুখে তসলিমার ব্যাখ্যা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবরারকে নিয়ে স্ট্যাটাস : ভক্তদের তোপের মুখে তসলিমার ব্যাখ্যা

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে যখন তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তখনই প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের একটি লেখা ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।  আজ বৃহস্পতিবার সকালে ফেসবুকে পোস্ট করা ওই স্ট্যাটাস দেখে বেশিরভাগ মানুষই মন্তব্য করেন যে, তসলিমা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আবরার হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করছেন। পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যে, তার ভক্তরাই তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত আবরাকে নিয়ে লেখা ওই স্ট্যাটাসের ব্যাখ্যা দিয়ে আজ বিকালে আরেকটি পোস্ট দিয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা।

তসলিমা লিখেছেন,

'আবরার নিয়ে ফেসবুকে আমার প্রথম পোস্ট -- https://www.facebook.com/nasreen.taslima/posts/1774132436064540

আবরার নিয়ে ফেসবুকে আমার দ্বিতীয় পোস্ট-- https://www.facebook.com/nasreen.taslima/posts/1775688615908922

আরও পড়ুন : আবরারের চালচলন চিন্তা-ভাবনা শিবিরের মতো ছিল : তসলিমা

আবরার নিয়ে আমার তৃতীয় পোস্ট নিয়ে ঝামেলা শুরু হলো আজ। এই পোস্টের ঠিক আগের পোস্টটিই তৃতীয় পোস্ট। ওই পোস্টে আমি সমালোচনা করেছি তাদের, যারা আবরারের গুণকীর্তণ গাইতে গিয়ে বলছেন যে আবরার ধার্মিক ছিল, পাঁচবেলা নামাজ পড়তো। মাদ্রাসার ছাত্রের বেলায় যেটি গুণ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের বেলায়ও সেটি গুণ? আমার পোস্টটি মূলত গুণ নিয়ে। 

তসলিমা নাসরিনের এই পোস্ট থেকেই মূলতঃ ঝামেলার শুরু।

খুব বেশীদিন আগে নয়, গুলশান ক্যাফের সন্ত্রাসীদের বেলায় একই রকম গুণ গাওয়া হয়েছিল। খুব মেধাবী ছাত্র, পাঁচ বেলা নামাজ পড়ে। আইসিসে যোগ দেওয়া সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে তারাও পাঁচ বেলা নামাজ পড়ে। এত দেখার পর অল্প বয়সী ছেলেদের পাঁচ বেলা নামাজ পড়াকে এত প্রশংসা করা হয় কেন? সে পরীক্ষায় ভালো ফল পেত, তার সম্পর্কে বলতে গেলে এটিই কি গুণ নয়। গুণী এবং নির্গুণ সবারই বাঁচার অধিকার সমান। ভালো রেজাল্ট করেছে, সুতরাং তার জন্য চোখের জল একটু বেশিই ফেলছে মানুষ। ঠিক যেমন সুন্দরী একটি মেয়ে আহত হলে তার জন্য মানুষের আবেগ উথলে ওঠে, অসুন্দরী মেয়ে আহত হলে খুব বেশী কিছু যায় আসে না।

আরও পড়ুন : আবরারের চালচলন চিন্তা-ভাবনা শিবিরের মতো ছিল : তসলিমা

আমার নাকি ভক্ত তারা, আমার লেখা নাকি ছোটকাল থেকে পড়ে আসছেন। এত পড়ছেন, কিন্তু আমার একটি লেখা পড়ে তাদের মনে হলো আমি খুনকে সমর্থন করছি, যদিও খুনের বিচার আমি চেয়েছি। যেহেতু আমি লিখেছি খুন করার উদ্দেশে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আবরার নামের ছাত্রটিকে পেটায়নি, এই মত নাকি খুনকে সমর্থন করে। না এই মত খুনকে মোটেও সমর্থন করে না। আজ যদি ভাড়া করা খুনী দ্বারা আবরারকে মারা হতো, তাহলে নিশ্চয়ই উদ্দেশ্য খুনের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশ বছর বয়সী ছাত্ররা কোনও এক ফেসবুক পোস্টের জন্য তাদের এক সহপাঠীকে পিটিয়েছে। খুন করলে তাদের ছাত্রজীবনের অবসান হবে, তাদের বাকি জীবন জেলে পচতে হবে, এটা এতগুলো ছেলের একজনও জানে নি? খুনের উদ্দেশ্য না থাকলেও যেহেতু পিটিয়েছে, সেহেতু শাস্তি হওয়া জরুরি। এ কথাটা স্পষ্ট করে লেখা থাকলেও কুতসিত গালি গালাজ বন্ধ হচ্ছে না। 

একজন তো নাকি আমার বহুকালের ফ্যান, তিনি বললেন, আমি নাকি কাউকে তেল দেওয়ার উদ্দেশে লেখাটা লিখেছি, বোঝাতে চাইছেন, আমি হাসিনাকে তেল দিচ্ছি, দেশে ফেরার জন্য। হায় মনুষ্য মস্তিস্ক! ধিক এইসব ফ্যানদের। এরা আমার বন্ধু তালিকা থেকে বিদেয় হলেই বাঁচি।

আরেকজন বললেন, আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি, আমার মাথার ঠিক নেই, তাই আমি এইসব লিখছি। এরা আমার বন্ধু তালিকায় ছিলেন। বন্ধু নামের কলংক। যারা বন্ধু তালিকায় নেই, তারা শেয়ার করছেন আমার লেখা আর পতিতা বলে মনের সুখে গালি দিয়ে যাচ্ছেন।
এই হচ্ছে বাংলাদেশি আবেগ। যখন উথলে ওঠে, সুনামি লেগে যায়। চিন্তাশক্তি বিচারশক্তি সব লোপ পায়।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা