kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

হাতের মুঠোয় রেলের টিকিট

ঈদ এলেই সোনার হরিণ হয়ে ওঠে রেলের টিকিট। ভোররাতে গিয়ে স্টেশনে লাইন ধরা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা—আরো কত কী! এসব ঝামেলা থেকে মুক্তি দিতে অ্যাপ আনল বাংলাদেশ রেলওয়ে। এটি দিয়ে এখন লাইনে না দাঁড়িয়েই কাটা যাবে রেলের টিকিট। অ্যাপটির ব্যবহারবিধি জানাচ্ছেন তুসিন আহমেদ

৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাতের মুঠোয় রেলের টিকিট

মডেল : সীমান্ত ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

এক অ্যাপে অনেক সেবা

‘রেলসেবা’ নামের অ্যাপটির সাহায্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের ১১ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। এসবের মধ্যে থাকছে—টিকিট কেনা, গন্তব্যের ভাড়া জানা, টিকিটপ্রাপ্তি সম্পর্কে জানা, রুট জানা, সময়সূচি, ট্রেনভিত্তিক বিরতি—স্টেশনের নাম ও সময়, নিজের ভ্রমণ ইতিহাস জানা, কোচ ভিউ, গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের নাম, ট্রেনের ক্যান্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং খাবার কেনা। রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের বরাতে জানা গেছে, এই অ্যাপে এখন থেকে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হবে। এখন ঘণ্টায় ১৫ হাজার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে, পরে অবশ্য এই সংখ্যা আরো বাড়বে।

 

প্রথমেই করতে হবে নিবন্ধন

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.cnsbd.railsheba থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। বর্তমানে শুধু অ্যানড্রয়েড সংস্করণে রয়েছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইওএস সংস্করণও আনা হবে শিগগিরই। অ্যাপটি ডাউনলোডের পর ইনস্টল করে চালু করলে লগইন অপশন দেখা যাবে। যদি রেলসেবা অ্যাপে নিবন্ধন করে থাকেন, তাহলে ফোন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। তবে এর আগে যদি বাংলাদেশ রেলের ই-সেবা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করা থাকে, তাহলে সেই আইডি ব্যবহার করেও লগইন করা যাবে।

যদি আপনি অ্যাপটি নিবন্ধন না করে থাকেন, তাহলে নতুন করে সাইন আপ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তারপর নতুন একটি পেইজ চালু হবে। সেখানে নাম, ফোন নাম্বার, আইডির পাসওয়ার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তারপর আপনার ফোনে একটি কোড যাবে। সেই কোডটি সাবমিট করলেই তৈরি হয়ে যাবে আইডিটি।

একজন অ্যাপ ব্যবহারকারী একবারে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কাটতে পারবেন। এভাবে দিনে দুইবার টিকিট কাটতে পারবেন। সেই হিসাবে দিনে মোট আটটি টিকিট কাটতে পারবেন।

অ্যাপটির রেটিং ২.৭। সাইজ ১৭ মেগাবাইট। এর মধ্যেই ১০ হাজারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে।

 

খোঁজ মিলবে ট্রেন আর ভাড়ার

অ্যাপে থাকা ‘Information’ অপশনে ট্রেন ও ভাড়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। এর জন্য প্রথমে অপশনটিতে গিয়ে ‘From Station’-এ যাত্রা শুরুর স্টেশন এবং ‘to station’-এ গন্তব্য এবং তারিখ নির্ধারণ করলে যাত্রার খরচ, রুট, টিকিট আছে কি না—সব জানা যাবে।একজন ব্যবহারকারী অ্যাপের মাধ্যমে কয়টি টিকিট কিনেছেন, তা জানা যাবে ‘History’ অপশন থেকে।

অ্যাপের মাধ্যমে লাইভ ট্রেকিং করে ট্রেনের অবস্থান জানা যাবে। যেহেতু এটি মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে, তাই বিভিন্ন মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে এই সেবাটির চার্জ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। অ্যাপে থাকা ‘coach view’ অপশন থেকে ট্রেনের ছবি দেখা যাবে। এ ছাড়া অ্যাপটিতে মন্তব্য রেটিং এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ নম্বর রয়েছে।

 

যেভাবে কিনবেন টিকিট

টিকিট কেনার জন্য প্রথমে যেতে হবে ‘purchase’ অপশনে। তারপর ‘from station’ অপশনে ক্লিক করে ড্রপ ডাউন মেন্যু থেকে কোন স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু হবে নির্ধারণ করতে হবে। যদি স্টেশন না থাকে, তাহলে সার্চ বাটন থেকে কি-ওয়ার্ড লিখে স্টেশন খুঁজে পাওয়া যাবে। একই পদ্ধতিতে কোথায় যাবেন, তা নির্ধারণ করতে হবে ‘to station’ অপশন থেকে।  এরপর ‘journey date’ থেকে কোন তারিখে যাত্রা করবেন নির্ধারণ করে ‘Search Train’ বাটন চাপতে হবে। পাওয়া যাবে ট্রেনের তালিকা। সেখান থেকে যে ট্রেনের টিকিট কাটা যাবে দেখা যাবে। সেখানে ‘select class’ অপশনে ক্লিক করে কোন ধরনের আসন নেবেন নির্ধারণ করতে হবে। তারপর ‘adult’ এবং ‘child’ অপশন থেকে টিকিটের ধরন এবং সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। তারপর ‘select seat’ অপশনে ক্লিক করে আসন নির্বাচন করতে হবে। নতুন একটি পেইজে টিকিট সম্পর্কে বিস্তারিত দেখা যাবে। সেখানে থাকা ‘pay now’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলে অনলাইনের পেমেন্ট অপশনগুলো দেখা যাবে। ভিসা, মাস্টার কার্ড, এমেক্স কার্ড এবং বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। ফিরতি মেইল ও এসএমএসে টিকিট নিশ্চিতকরণের তথ্য পাবেন গ্রাহকরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা