kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

একদরেও ছাড় মিলবে ব্লুকার্ডে

একদরের দোকানে তো ছাড় পাওয়ার কোনো উপায় নেই। তেমন দোকানেও ছাড় পাইয়ে দেবে ব্লুকার্ড। বিস্তারিত জানালেন ইমরান হোসেন মিলন

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



একদরেও ছাড় মিলবে ব্লুকার্ডে

মডেল : সুকন্যা আমীর। ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

দরদাম করে পণ্য কেনা সবার ধাতে সয় না। বিশেষ করে ঢাকার মতো জায়গায় সময়ের অভাবে অনেকেই দরদামের দোকানে কেনাকাটাকে খুব কষ্টদায়ক মনে করেন। তাই তাঁরা সোজা চলে যান একদরের দোকানে। কিন্তু সেখানে কিছুটা হলেও ছাড় পেলে কার না ভালো লাগে। সাধারণ মানুষ যেন কেনাকাটায় কিছুটা হলেও সুবিধা পায়, সে চিন্তা থেকে শুরু ‘ব্লুকার্ডবিডি ডটকম’ নামের একটি উদ্যোগ। যেখানে একটি বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে ছাড় পাবেন ক্রেতারা। 

 

শুরুটা যেভাবে

কেনাকাটায় বা কোনো সেবা ব্যবহারে ছাড় দেওয়ার উদ্যোগটির শুরু ২০১৫ সালে। উদ্যোগটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আলী ফিদা একরাম তোজো বলেন, ‘সে সময় নানা ধরনের উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেও সাফল্য পাচ্ছিলাম না। আর তখনই এই ধারণাটি সামনে আসে।’

তোজো একা নন, এই উদ্যোগের সঙ্গে শুরু থেকেই রয়েছেন আহসান কবীর ও আন্নূর রহমান।

২০১৫ সালে ব্লুকার্ডের ধারণা মাথায় এলেও তখনই কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তোজো আরো বলেন, ‘যেহেতু কাজটি প্রযুক্তিনির্ভর, তাই এটি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছি। প্রথমে যখন এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করি, তখন বেশ কিছু বাধা বা ত্রুটি খুঁজে পাই। তখন আবার সেগুলো সারাতে কাজ করতে থাকি। এভাবে গত বছরের জুলাইয়ে এসে অবশেষে এটি চালু করা যায়। এরপর ব্যবহারকারী ও অংশীদারদের ফিডব্যাকের ফলে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় ‘ব্লুকার্ড’। এভাবে দেখলে উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক বয়স বলা যায় তিন মাস।

 

কাজ করে যেভাবে

ব্লুকার্ড ডেবিট বা ক্রেটিড কার্ডের মতো এক ধরনের কার্ড। তবে এর ডিজিটাল ফরম্যাটও রয়েছে। সেই কার্ড নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ও সেবার আউটলেটে গিয়ে প্রদর্শন করলে গ্রাহকরা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য ছাড় পাবেন তাঁর কেনা পণ্য বা সেবায়।

কার্ড বলা হলেও এর ডিজিটাল রূপ রয়েছে মোবাইল অ্যাপে। কার্ডের সেবা দিতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করে। আর সবই একদামের দোকান।

কার্ডটির উল্টো দিকে স্ক্র্যাচ ঘষলেই পেয়ে যাবেন ১৬ ডিজিটের একটি ইউনিক নাম্বার। এরপর আপনার মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে বড় অক্ষরে লিখতে হবে BLUE ON, এরপর স্পেস দিয়ে কার্ডে দেওয়া ১৬ ডিজিটের নাম্বার টাইপ করতে হবে। তারপর আবার স্পেস দিয়ে নিজের সংক্ষিপ্ত নাম লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ২৬৯৬৯ নাম্বারে।

পরে একটি ফিরতি এসএমএস দিয়ে সম্পন্ন করা হবে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া। একই সঙ্গে ব্লুকার্ড অ্যাপ ডাউনলোড করার লিংকও আসবে। তখন অ্যাপ ডাউনলোড করে নিলেই ব্যবহার করা যাবে ব্লুকার্ডের সব ছাড়।

নিবন্ধিত হয়ে গেলে কার্ডটি নির্দিষ্ট দোকানে দেখালে ক্রেতারা পাবেন নির্দিষ্ট পরিমাণ ছাড়। কার্ডের মেয়াদ এক বছর। এর মধ্যে যতবার খুশি কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করতে পারবেন ক্রেতারা। এক বছরের মেয়াদ শেষ হলে আবার ১০০ টাকা দিয়ে নবায়ন করতে হবে।

 

যেভাবে পাওয়া যাবে কার্ডটি

যে কেউ এই ব্লুকার্ডের মালিক হতে পারবেন। মাত্র ২০০ টাকা দিয়ে এই কার্ড সংগ্রহ করা যাবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটেই যোগাযোগ করা যাবে। সেখানে দেওয়া আছে, কার্ড নিতে হলে আগ্রহী ব্যক্তিকে কী কী করতে হবে। চাইলে সার্ভিস চার্জ যোগ করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বাসায় বসে পেতে পারেন ব্লুকার্ড। অফিসে এসেও সেটি সংগ্রহ করা যাবে।

ঢাকার ভেতরে অন্তত ৩০টি পয়েন্টে ব্লুকার্ড বিক্রি হয়। এগুলোর ঠিকানা, ফোন নাম্বার জানতে www.bluecardbd.com ভিজিট করতে পারেন।

 

যেখানে পাওয়া যাবে সেবা

নানা ধরনের পণ্য ও সেবার দোকানে ব্লুকার্ড ব্যবহার করে ছাড় পাবেন ক্রেতারা। অন্তত ৪০ ধরনের পণ্য ও সেবায় ছাড় পাবেন এটির ব্যবহারকারী।

এসবের মধ্যে রয়েছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড, রেস্তোরাঁ, টেইলরস, ফার্মেসি, হাসপাতাল, ইলেকট্রনিকস, হেয়ার সেলুন, রেন্ট-এ-কার, পার্টি সেন্টার, সুইটস অ্যান্ড বেকারি, অ্যাগ্রো ফিশিং, বুকশপ, গ্রোসারি, সিরামিকস, ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, হোটেল, জুয়েলারি, জিমনেসিয়াম, শিক্ষাসহ আরো অনেক কিছু।

তোজো বলেন, ‘আমরা এমন একটা ব্যবস্থা তৈরি করেছি, যেখানে বাসাভাড়া এবং স্কুলে যাতায়াতের বাইরে একটা মানুষের যত ধরনের প্রয়োজন রয়েছে, সব ক্ষেত্রেই এই কার্ড ব্যবহার করে সুবিধা পাওয়া যাবে।’

 

কোথায় পাবো ব্লুকার্ডের ছাড়?

ব্লুকার্ডের মাধ্যমে ছাড় বর্তমানে ঢাকার ভেতরেই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। নগরীর ভেতরের প্রায় সব এলাকা ছাড়া এখন গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জেও সেবাটি পাচ্ছেন ক্রেতারা। চলতি বছরের মধ্যে সারা দেশেই সেবাটি দিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্লুকার্ডের হেড অব অপারেশনস আসাদুজ্জামান লিটন বলেন, ‘বর্তমানে এসব এলাকায় ১২৩৫ আউটলেটে মূল্য ছাড় সেবা পাচ্ছেন আমাদের অন্তত ১৫ হাজার নিবন্ধিত গ্রাহক। চেষ্টা করছি চলতি বছরের মধ্যেই দেশের অন্য সব এলাকায়ও সেবাটি পৌঁছে দেওয়ার।’

 

মূল্যছাড়ের সেবা অ্যাপেই

যে কার্ডের মাধ্যমে ছাড় পান গ্রাহকরা, তার সব কিছুই আবার প্রতিষ্ঠানটির মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যায়। গ্রাহকরা নিবন্ধনের পর https://play.google.com/store/apps/details?id=com.latentsoft.bluecard—এই ঠিকানা থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবেন। নিবন্ধনের পর গ্রাহকরা অ্যাপের মাধ্যমেই তখন কার্ডসেবা পাবেন। কারণ, কার্ডের যে নাম্বার সেটা তখন অ্যাপেই পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া অ্যাপে থাকছে বাড়তি অনেক সুযোগ-সুবিধা। এই যেমন—অ্যাপ থেকে গ্রাহক জানতে পারবেন, কোন কোন শোরুমে তিনি ব্লুকার্ডবিডির ছাড় পাবেন। এমনকি গ্রাহকরা যখন তাঁর অ্যাপ চালু করবেন, তখন তাঁর তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোথায় কোথায় মূল্যছাড় পাবেন, সেগুলো দেখা যাবে।

এটা গুগল ম্যাপের সঙ্গে সিনক্রোনাইজ করা হয়েছে। ফলে তিনি চাইলে সেই শপ বা আউটলেটের ঠিকানা, ফোন নম্বোর, সেখানে যাওয়ার রাস্তা দেখতে পাবেন।

প্রয়োজনে অ্যাপ থেকেই কল করতে পারবেন সেই দোকানে। এর পাশাপাশি কিছু সেবা ওয়েবসাইট bluecardbd.com থেকেও পাবেন গ্রাহকরা।

 

ভবিষ্যতে

এরই মধ্যে হাজারের বেশি আউটলেটের সঙ্গে চুক্তি করছে ব্লুকার্ডবিডি। ফলে সেবার পরিধি বেড়েছে। গ্রাহকরাও বেশি ব্যবহার করতে পারছেন।

প্রতিষ্ঠানটি চায়, ভবিষ্যতে যেন দেশের যেকোনো স্থানেই কেনাকাটায় এই ব্লুকার্ডের সুবিধা পাওয়া যায়।

ব্লুকার্ডের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা আন্নূর রহমান বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী টার্গেট এখন করপোরেট সেক্টর। এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ একটু কমই জানেন কার্ড সম্পর্কে। তাঁদের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।’

করপোরেট প্রতিষ্ঠানে তাদের কার্ডটির পরিচয় করিয়ে দিতে এরই মধ্যে অনেক ধরনের কাজ করেছেন বলে জানান তোজো।

তাদের আশা, চলতি বছরে কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা অন্তত এক লাখে পৌঁছানো। চলতি বছরই অন্তত তিন হাজার আউটলেটের মাধ্যমে ব্লুকার্ডের সেবা পৌঁছে দেওয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা