kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

শাটল আসে ঐ!

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শাটল আসে ঐ!

ছবি: মোহাম্মদ আসাদ

রাজধানীতে নারীদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবা আনল ‘শাটল’। শুধু নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট রুটে পিক-আপ এবং ড্রপ-অফ সেবা প্রদান করছে শাটল। ওঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন তুসিন আহম্মেদ

 

শাটল কী?

চাকরিজীবী শরিফুর নাহার সুমী থাকেন ধানমণ্ডি আর অফিস করেন গুলশানে। অফিসে আসা-যাওয়ার সময় বাস পেতে পোহাতে হয় নানা রকম ঝক্কি-ঝামেলা। পুরুষ যাত্রীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়ে বাসে উঠতে হয়। বেশির ভাগ সময় বাসে আসনও পাওয়া যায় না। ফলে যেতে হয় দাঁড়িয়ে। রাইড শেয়ারিং সেবাগুলোর গাড়ি ভাড়া অনেক বেশি।

সুমীকে এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিয়েছে ‘শাটল’। নারীদের জন্য চলাচল নিরাপদ করতে রাজধানীতে অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবা দিচ্ছে শাটল। এই পরিবহন নারীদের জন্য শতভাগ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ, দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

‘শাটল’ নামের সেবাটি পাওয়া যাচ্ছে অ্যাপের মাধ্যমে। শুধু নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থেকে নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্দিষ্ট রুটে পিক-আপ এবং ড্রপ-অফ সেবা দিচ্ছে শাটল।

 

ভাবনা যখন মেলল ডানা

‘শাটল’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী রিয়াসাত চৌধুরী। গণমাধ্যমে নারীদের যাতায়াতের নানা ভোগান্তির সংবাদ দেখে ভাবলেন শুধু নারীদের জন্য আলাদা একটা পরিবহনসেবা দিলে কেমন হয়? সেই ভাবনা থেকে কাজে নেমে পড়া। পরে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন জাওয়াদ জাহাঙ্গীর এবং শাহ সুফিয়ান মাহমুদ চৌধুরী। জাওয়াদ এখন শাটলের প্রধান পরিচালক কর্মকর্তা এবং প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা।

‘আমাদের প্রতিটি ট্রিপে একজন করে ম্যানেজার থাকেন। তিনি সেই ট্রিপের সব কিছু দেখভাল করেন। সুফিয়ান ম্যানেজার এবং গাড়ির চালকের সব তথ্য অ্যাপে নিবন্ধিত থাকে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কিছু থাকে না,’ বলেন রিয়াসাত চৌধুরী।

শাটলের একটি ফেইসবুক গ্রুপও রয়েছে। সেখানে প্রতিটি গ্রাহকের সমস্যা শোনা হয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়,’ জানান জাওয়াদ জাহাঙ্গীর।

 

ছিল প্রতিকূলতাও

‘শাটল চালু করার পর সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করতে,’ জানান রিয়াসাত চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের যাতায়াতব্যবস্থার ওপর নাগরিকদের আস্থা নেই। তার ওপর আমরা নারীদের এই সেবা দিচ্ছি। শুরুতে অনেক গ্রাহক আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছিলেন না। তবে শাটলের সেবার মান দেখে এখন সবাই আস্থা ফিরে পেয়েছেন। আমরা গাড়ির চালক ও ট্রিপ ম্যানেজার নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করি। প্রাথমিক বাছাই শেষে প্রত্যেক কর্মীকে নানা রকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে।’

অনানুষ্ঠানিকভাবে শাটল প্রায় এক বছর ধরে সেবা দিচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি গ্রাহক সেবাটি ব্যবহার করেছেন। ধারাবাহিকভাবে সেবাটির ব্যবহারকারী বাড়ছে।

 

অ্যাপেই সব

প্রথমে http://bit.ly/2ISHtpb থেকে ৭ মেগাবাইটের শাটল অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। গুগল প্লেস্টোরে অ্যাপটির রেটিং ৪.৬। বর্তমানে শুধু অ্যানড্রয়েড সংস্করণ পাওয়া গেলেও শিগগিরই অ্যাপটির আইওএস সংস্করণও আসবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডাউনলোডের পর অ্যাপটিতে ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। তারপর অ্যাপটি চালু করে ‘please specify your route’ অপশনটিতে গিয়ে পিক-আপ লোকেশন ও পয়েন্ট নির্ধারণ করে যেখানে যাবেন নির্বাচন করতে হবে। তারপর save বাটনে ক্লিক করতে হবে।

তারপর শাটলের হটলাইন নম্বর প্রদর্শিত হবে। সেখানে ফোন করে যাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত করতে হবে। শাটল অ্যাপ থেকে ‘call now’ অপশনটি ক্লিক করে কল করা যাবে।

অ্যাপ ছাড়াও যে কেউ শাটলের ০১৮৮৫৮৮৮৮৬৮ হটলাইন নম্বরে কল করেও সেবাটি নিতে পারবেন।

প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শাটলের এই হটলাইন নম্বর খোলা থাকে। গ্রাহকরা যেকোনো সমস্যায় পড়লে সেখানে ফোন দিয়ে সমস্যার কথা জানালে শাটল সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

 

খরচ কেমন?

শাটলে যাতায়াত করতে হলে উত্তরা থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সিঙ্গেল টিকিটের মূল্য ৬০ টাকা এবং বান্ডেল (১০টি রাইড একসঙ্গে) টিকিট ৫০০ টাকা। মিরপুর থেকে বসুন্ধরা সিঙ্গেল টিকিট ১০০ টাকা, বান্ডেল ৯০০ টাকা। ধানমণ্ডি থেকে বসুন্ধরা সিঙ্গেল টিকিট ১২০ টাকা, বান্ডেল এক হাজার টাকা। মোহাম্মদপুর থেকে বসুন্ধরার ভাড়াও ধানমণ্ডি থেকে বসুন্ধরার সমান। ধানমণ্ডি থেকে গুলশান-১ সিঙ্গেল টিকিট ১০০ টাকা এবং বান্ডেল ৯০০ টাকা এবং মিরপুর-মোহাম্মদপুর-গুলশান-১ সিঙ্গেল টিকিট ১০০ টাকা, বান্ডেল টিকিট ৯০০ টাকা।

অ্যাপের মাধ্যমে নারীরা তাঁদের যাত্রার সিঙ্গেল টিকিট বা বান্ডেল টিকিটও কিনতে পারেন। বান্ডেল টিকিটে ছাড়ও পাওয়া যায়।

সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট রুটে শাটলের পরিবহনসেবা গ্রহণ করা যাবে।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আপাতত ঢাকায় ১০-১১ আসনবিশিষ্ট ২০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস দিয়ে সেবা প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতের গাড়ির সংখ্যা বাড়াতে চায় শাটল। সেবার মান ধরে রাখতে আপাতত ঢাকাতেই সেবাটি সীমাবদ্ধ রাখতে চায় তারা। তবে ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য শহরেও এই সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা