kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

আসছে স্টেডিয়া

শুধু ক্লাউড গেইমিং দুনিয়াই নয়, পুরো গেইমিং দুনিয়াই পাল্টে দিতে এ বছরই আসছে ‘স্টেডিয়া’। গুগলের এই প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো ডিভাইসে হাই ডেফিনিশনের গেইম খেলা যাবে। জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ

৩০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসছে স্টেডিয়া

আজকাল ইউটিউবে গেইম স্ট্রিম করা অত্যন্ত জনপ্রিয়। যদি এমন হতো, গেইম স্ট্রিম দেখার সময় সেটি খেলা যেত কোনো প্রকার ডাউনলোড না করেই, এমনকি কোনো শক্তিশালী পিসি বা কনসোলের প্রয়োজনও যদি না হতো? জানি, এরই মধ্যে হয়তো চোখ কপালে গিয়ে ঠেকেছে। কিন্তু পুরো ব্যাপারটি বাস্তবে আনতে যাচ্ছে গুগল, তাদের নতুন সেবা ‘স্টেডিয়া’ দিয়ে। এই সেবার মধ্য দিয়ে ক্লাউড গেইমিং বাজারে প্রবেশ করল গুগল।

স্টেডিয়ার মাধ্যমে সব হাই গ্রাফিকসের ‘ট্রিপল এ’ মানের গেইম অ্যানড্রয়েডে, ক্রোমকাস্টে, এমনকি শুধু ক্রোম ব্রাউজারেও খেলা যাবে। গেইম চলবে গুগলের সার্ভারে, গেইমের দৃশ্য স্ট্রিম করা হবে ব্যবহারকারীর ডিভাইসে আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে কন্ট্রোলারের ইনপুট পৌঁছবে সার্ভারে। শুধু দরকার হবে গুগল ‘স্টেডিয়া কন্ট্রোলার’ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ।

গুগল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অন্য নির্মাতারাও স্টেডিয়া সমর্থিত কন্ট্রোলার বাজারে আনবে।

অন্যান্য ক্লাউড গেইমিং সেবার চেয়ে স্টেডিয়া আলাদা, কেননা এটি ইউটিউবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। এখানে কোনো গেইমপ্লে দেখার সময় চাইলে সরাসরি সেই গেইমটিও খেলা যাবে। চাইলে নির্মাতারা ট্রেলারের মধ্যেই সংযুক্ত করে দিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট সেই গেইমের ছোট ডেমো। অনলাইনে গেইম হোস্ট করা যাবে, যাতে দর্শকরা গেইম দেখার ফাঁকে অংশও নিতে পারেন। এ ছাড়া যাতে ইনপুট ল্যাগ থাকে একেবারেই কম, তাই কন্ট্রোলারটি সরাসরি সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে, যাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহারকারীর পিসি বা ফোন বাড়তি লেটেন্সি [মূল পিসি ও নিয়ন্ত্রক পিসিতে ভিডিও বা ইনপুট পৌঁছাতে দীর্ঘসূত্রতা] যুক্ত না করে।

সর্বোচ্চ ফোর-কে রেজল্যুশনে ৬০ এফপিএস মানের গেইম খেলা যাবে এই সেবায়। তবে তার জন্য প্রয়োজন হবে অন্তত ২৫ মেগাবিট সংযোগ। খুশির বিষয় হচ্ছে, ইউটিউব ক্যাশ সার্ভার ব্যবহার করে ইন্টারনেটের গতির সংকট কমাবে গুগল। ইনপুট ল্যাগও তারা দেখিয়েছে অন্যান্য ক্লাউড গেইমিং সেবার চেয়ে অনেক কম।

এখন দেখা যাক তাহলে স্টেডিয়াতে গেইম খেলতে কত টাকা মাসে গুনতে হবে? এ বিষয়ে তেমন কিছু জানা যায়নি এখনো। প্রতিটি গেইমের জন্য আলাদা করে টাকা গুনতে হবে কি না তা নিয়েও আছে প্রশ্ন। বিশেষ করে পিসি গেইমাররা চাইলে কি-বোর্ড-মাউস ব্যবহার করতে পারবেন কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়।

 

এর মধ্যেই বড় দুটি গেইম নির্মাতা ইউবিসফট ও ইড সফটওয়্যার স্টেডিয়ার মাধ্যমে তাদের গেইম খেলা যাবে বলে জানিয়েছে। সেই হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, ‘অ্যাসাসিনস ক্রিড অডেসি’ ও ‘ডুম ইটারনাল’ হতে যাচ্ছে স্টেডিয়ার প্রথম দুটি গেইম।

ক্লাউড গেইমিংকে গুগল বলছে গেইম খেলার ভবিষ্যৎ। মাসে মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে কোনো চিন্তা ছাড়া, দামি পিসি বা কনসোল না কিনেই গেইম খেলা হবে অন্যতম আকর্ষণ। গেইম নির্মাতারাও পাইরেসি থেকে রক্ষা পাবে, কেননা গেইম ডাউনলোড করারই প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।

শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে স্টেডিয়ার সেবা চালু করবে গুগল। ধীরে ধীরে এশিয়ায়ও সেটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশেও স্টেডিয়ার যাত্রা শুরু করার সম্ভাবনা প্রবল। তবে ফাইভজি চালু হওয়ার আগে চট করে সেটির জনপ্রিয়তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এখন দেখার বিষয়, মাইক্রোসফট স্টেডিয়ার প্রতিযোগী হিসেবে কী নিয়ে হাজির হয়। তারা এর মধ্যেই ঘোষণাও দিয়েছে, ক্লাউড গেইমিং নিয়ে তাদের বড়সড় ঘোষণা আগামী ই-থ্রি ইভেন্টে দেখা যাবে।

মন্তব্য