kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

লেবারের বিজয় সিদ্ধান্ত এখন টোরিদের

অনলাইন থেকে

১০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রিটেনে শিগগিরই একটি আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন নিয়ে নানামুখী ধারণা করা যেতে পারে। তবে বেশির ভাগ রাজনৈতিক পণ্ডিতই মনে করছেন, পিটারবোরোর এই উপনির্বাচনে জয় পেতে যাচ্ছে ডানপন্থী জনপ্রিয় দল ব্রেক্সিট পার্টি। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচনে সফল হওয়ার পর জনমত জরিপগুলোতেও তারাই এগিয়ে আছে। জাতীয় রাজনীতির দৃষ্টি এখন কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের নির্বাচনের দিকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে কখন, কী করে ব্রিটেন বের হয়ে আসবে তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই। জেরেমি করবিনের লেবার পার্টি হয়তো এই নির্বাচনে পাত্তা পাবে না। কারণ তাঁর দলেরই এক এমপি পুলিশের সঙ্গে মিথ্যা বলার কারণে জেলে গেছেন বলেই আসনটি খালি হয়ে যায়। তার পরও লেবার পার্টি এই নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। এই প্রার্থীকেও হয়তো ভোটারদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ অনলাইনে ইহুদিবিদ্বেষী কিছু কথাবার্তা বলেছিলেন তিনি।

এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে চারদলীয় একটি ব্যবস্থার দেখা পেতে যাচ্ছি আমরা। পিটারবোরোতে লেবার পার্টি ভোট পেয়েছিল ৩১ শতাংশ। ১৯১৮ সালের পর থেকে কোনো দলের উপনির্বাচন জয়ের ক্ষেত্রে এটাই সর্বনিম্নসংখ্যক ভোটের হার। নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টি লেবারের তুলনায় কনজারভেটিভদের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মনে করেন জেরেমি করবিন। এরই মধ্যে তাঁর ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। পিটারবোরোর ভোটাররা একচেটিয়াভাবে ইইউ ছাড়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। এই ভোট নিশ্চিতভাবেই ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টি ও টোরিদের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে। লেবার পার্টিরও ভোট কমবে। তারা লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের কাছে ভোটার হারাবে। তবে তার সংখ্যা এত বেশি হবে না যে লিব ডেমরা আলাদাভাবে কোনো সাফল্য পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে ছায়া মন্ত্রিসভার একজন সদস্য ব্রেক্সিট নিয়ে দ্বিতীয় গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও করবিন এই প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছেন।

একজন নতুন নেতার নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টির প্রকৃতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসবে। টেরেসা মের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার লড়াইয়ে প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁর কাজের ধারা আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। প্রত্যেক প্রার্থী সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি বা কর কমানো অথবা দুটি ব্যবস্থাই গ্রহণের কথা বলেছেন। এমনকি মে নিজেও তাঁর অর্থমন্ত্রীর কাছে ব্যয় সংকোচনের ব্যবস্থাগুলো বাতিল করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। যদিও এ কাজের দায়িত্বভার তাঁর ওপর আর থাকছে না। রাজনৈতিকভাবে দেখতে গেলে এতে অবশ্য যুক্তিও আছে। দলটি জনগণের কাছে এতটাই অপ্রিয় হয়ে গেছে যে এখন পরিবর্তনমুখী হতে তারা বাধ্য। শেষ পর্যন্ত জনগণ দেখছে, তাদের রাজনীতিবিদরা তাদের রোজকার জীবনের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছে।

তবে সেই অবস্থানে পৌঁছানোর আগে টোরি নেতাদের ব্রেক্সিট ধাঁধার সমাধান করতে হবে। এর অর্থ হচ্ছে, প্রথমে ৩১৩ এমপি এবং পরে কনজারভেটিভ পার্টির এক লাখ ২৪ হাজার সদস্যকে কঠোর ব্রেক্সিটের স্বপ্ন দেখা থেকে বের করে আনতে হবে। ইইউ থেকে চুক্তি ছাড়াই বের হয়ে আসা ব্রিটেনের অর্থর্নীতির জন্য সুখকর হবে না। সে ক্ষেত্রে ব্রিটেনকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীতদাসে পরিণত করা হবে। এবং বিষয়টি প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ককেও বিষাক্ত করে তুলবে। একজন টোরি প্রধানমন্ত্রী যদি চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের জন্য চাপ দেন, তাহলে বাকি দলগুলোর সামনে প্রধান প্রশ্নটি হবে কী করে একে থামানো যেতে পারে। পার্লামেন্টকে সহায়তা করতে প্রস্তুত একজন স্পিকার যদি থাকেন এবং আগামী সরকারকে ফেলে দেওয়ার প্রস্তুতি যদি কনজারভেটিভরা নিতে পারে, তাহলে হয়তো নৈরাজ্যকর একটি ব্রেক্সিট থেকে বের হয়ে আসার পথ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট কার্যকরের কথা বলছে ব্রেক্সিট পার্টি। সেটা গ্রহণ করা হবে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে টোরিরা। ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়েই আবার কাজ শুরু করবে কি না তা নিয়েও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি তারা। প্রথম পথটি গ্রহণ করার অর্থ হচ্ছে বরিস জনসনকে নির্বাচিত করা। তীব্র ইসলামভীতিতে আক্রান্ত বরিস জনসন দায়িত্বশীল নন। টোরিরা যদি তাঁকে বেছে নেয়, তাহলে ভুল হবে। এই ভুলের জন্য পুরো দেশকে বড় ধরনের মূল্য শোধ করতে হবে। কনজারভেটিভ পার্টির উচিত ব্রেক্সিট কার্যকর করার ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে আরো সময় নেওয়া।

বয়স, জাতিগত পরিচয় ও শিক্ষার ভিত্তিতে ভোটাররা নানা ভাগে বিভক্ত। একজন নতুন নেতা জনসংখ্যা ও আদর্শের দিক থেকে টোরিদের গুছিয়ে নিতে পারেন।  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, নেতিবাচক দিকগুলো সরিয়ে রেখে সততার সঙ্গে ব্রেক্সিট অবস্থানের পুনর্মূল্যায়ন করা।

 

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য