kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

ইইউ নির্বাচন ও ব্রিটিশ রাজনীতি

অনলাইন থেকে

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী সপ্তাহে। গত ৪০ বছরের মধ্যে এবারেরটিই হবে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। প্রতি পাঁচ বছর পর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৪০ কোটির বেশি। এদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হয়। অতীতের নির্বাচনগুলোতে মূল ইস্যু ছিল অভ্যন্তরীণ। পুরো ইউরোপের স্বার্থ মাথায় রেখে ভোটাররা কেন্দ্রে যায়নি। অনেক সময় সরকার ফেলে দেওয়ার কাজেও এই নির্বাচনকে ব্যবহার করেছে ভোটাররা। এবং প্রতি দফায়ই ভোটের হার কমেছে। ২০১৪ সালে এই হার ছিল ৪৩ শতাংশ।

সেই প্রবণতা আগামী সপ্তাহেও যেন অব্যাহত না থাকে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনরঞ্জনবাদের উত্থানের পর থেকে এবারই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অতীতের তুলনায় এখনকার ইউরোপে ঝুঁকি অনেক বেশি। মহাদেশজুড়েই জাতীয়তাবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। একই সঙ্গে বাড়ছে চীনের শক্তি, রাশিয়ার আগ্রাসী মনোভাব, যুক্তরাষ্ট্রের বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব এবং ইসলামপন্থী সন্ত্রাস।

প্রতিটি দেশেরই নিজ নিজ সংকট রয়েছে। এগুলোও তাদের পেছন দিকে টেনে রাখে। অভিন্ন হুমকিগুলোর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় সহযোগিতার ঢাল হিসেবে দেখা হচ্ছে এবারের ইউরোপীয় নির্বাচনকে। এই হুমকিগুলোর মধ্যে একচেটিয়া ব্যবসা করে যাওয়া প্রযুক্তি কম্পানি থেকে শুরু করে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও রয়েছে। এই হুমকিগুলোর বিরুদ্ধে এককভাবে যেকোনো রাষ্ট্রের চেয়ে ইইউ সমন্বিতভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী।

ব্রিটেনকে অপরিকল্পিতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে দেখা যাবে। ব্রেক্সিট হোক বা না হোক ব্রিটেন এখনো একটি ইউরোপীয় রাষ্ট্র। আঞ্চলিকভাবে অভিন্ন চাপের মুখে রয়েছে তারা। যেমনটি অতীতে ছিল। ইইউর সদস্য থাকুক বা না থাকুক ব্রিটেনকে অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট এবং নিরাপত্তা হুমকি অন্য প্রতিবেশী ও সহযোগীদের সহায়তা নিয়েই মোকাবেলা করতে হবে। ‘শুধুই আমরা’ মনোভাবাপন্ন ব্রেক্সিট চরমপন্থীদের হাতে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আমাদের ব্যবসা, আমাদের শিল্প, আমাদের বিজ্ঞান, আমাদের গবেষণা এবং উন্নয়ন দল ও ব্যক্তি বিশেষের উচিত ইইউর নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলা।

ব্রিটেনের জন্য এই নির্বাচন ইউরোপে নিজ অবস্থান নির্ধারণ করে দেবে। এটি শুধুই একটি সাধারণ নির্বাচন নয়। একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে ব্রিটেন ভূমিকা পালন করতে পারবে কি না তার নির্ধারণী ভোট এটি। ব্রিটেন আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ কনজারভেটিভ সরকারের ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া অংশত ভেস্তে গেছে। বিরোধী লেবার দলের সঙ্গেও সম্প্রতি তাদের মধ্যস্থতার আলোচনা ভেস্তে যায়। যে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে ব্রেক্সিটপন্থীরা ভোটারদের সমর্থন আদায় করেছিল, এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ওগুলো স্বপ্নই ছিল। এখনই সময় ওই অবস্থানটিতে নিজ অবস্থান পোক্ত করার, যা আমাদের পরিত্যাগ করে আসা কখনোই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে এই সুযোগকে যতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব ছিল, তা করা যায়নি। ইউরোপপন্থী দলগুলোর উচিত ছিল একটি অভিন্ন মঞ্চ গঠন করে একক এজেন্ডার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। কাজটি তারা পারেনি, যা দুঃখজনক। এখন বিকল্প হচ্ছে ইউরোপপন্থী প্রার্থীদের ভোট দেওয়া, যাতে করে তারা কঠোর ব্রেক্সিট শর্তগুলো রুখে দিতে পারে। এই ইস্যুটি আলোচনার মধ্যে থাকে এবং দ্বিতীয় দফা গণভোটের সম্ভাবনাও জিইয়ে থাকে। যেখানে জয়ের সম্ভাবনাও ক্রমেই বাড়ছে।

এর অর্থ যুক্তরাজ্যের ১২টি নির্বাচনী এলাকার জন্য ভিন্ন। এর বেশ কয়েকটিতেই ইউরোপপন্থীদের ভালো ফল করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপপন্থীদের উচিত তাদের ভোট যেন কাজে লাগে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। লেবার পার্টির ইউরোপপন্থী অবস্থান খুব সরল কিছু নয়। এই দল মূলত ইউরোপে থেকে যাওয়ার পক্ষে। তবে যারা ইইউ ছেড়ে যেতে চায়, তাদের ক্ষেত্রে লেবার পার্টির অবস্থান কী তা এখনো স্পষ্ট নয়। বহু ইউরোপপন্থী লেবার পার্টিকে ভোট দিতে আগ্রহী। তবে দলটির উচিত প্রার্থী দাঁড় করানো এবং হিসাব করে ঝুঁকি নেওয়ার আগে তাদের অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখা।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, বৃহত্তর একটি চিত্র মাথায় রাখা। এই নির্বাচনগুলো ব্রিটিশ রাজনীতিকে পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। ব্রেক্সিট প্রত্যাখ্যান করা উচিত। একই সঙ্গে যেসব দল এর পক্ষে প্রচার চালিয়েছে এবং এখন যারা ব্রেক্সিটকে কঠোর শর্তসহ বাস্তবায়ন করতে চাইছে, তাদেরও প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, এই নির্বাচনগুলো মূলত ব্রেক্সিট পার্টি এবং টোরিদের (ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি) নেতৃত্বের লড়াই। এর প্রেক্ষাপট ব্যাপকতর। সরলভাবে বলতে গেলে, এগুলো হচ্ছে ইউরোপে ব্রিটেনের অবস্থান পুনঃ স্থাপনের সুযোগ।

 

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ


খবরটি ইউনিকোড থেকে বাংলা বিজয় ফন্টে কনভার্ট করা যাবে কালের কণ্ঠ Bangla Converter দিয়ে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা