kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচন কী শিক্ষা দিল?

ট্রেন্ট জিমারম্যান

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচন কী শিক্ষা দিল?

জয়ের দাবিদারের অভাব নেই; কিন্তু পরাজয় অনাথ—প্রবাদে এ কথাই বলা হয়। তবে এ প্রবাদ উল্টে গেছে অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিকতম নির্বাচনে। কোনোই সন্দেহ নেই, শনিবারের নির্বাচনে জয়ের দাবিদার একজনই—তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণের শুরুতেই মরিসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে হয়। বছরখানেক আগে, ৪৫তম পার্লামেন্টের মেয়াদের শেষ দিকে তাঁর কাঁধে দলের নেতৃত্ব বর্তায়। লিবারেল পার্টির জন্য বছরটি গোলযোগপূর্ণ ছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে কম লোকই ভেবেছিল, নির্বাচনে তাঁর পরাজয় এড়াতে পারবেন। এখন তিনি বিজয় উদ্যাপন করছেন। এ বিজয় অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক বিজয়ের একটি।

এখন তাঁর ঘাড়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তেছে। এক. গত বছরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টিকে অতীতের বিষয়ে পরিণত করার জন্য কাজ শুরু করা; দুই. তিনি যে যথার্থ নেতা এবং তাঁর যে দৃঢ় আদর্শিক অবস্থান রয়েছে, সেটি প্রমাণ করার উদ্যোগ নেওয়া এবং তিন. অর্থনৈতিক সাফল্য সত্ত্বেও অস্ট্রেলীয়দের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ প্রবল, সেটিকে মোকাবেলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।

লেবার পার্টির জন্য এ নির্বাচনের শিক্ষা হলো, ‘সাফল্যের জন্য কর দাও’—তাদের এ নীতি অস্ট্রেলীয়রা বর্জন করেছে। তারা একটি বড় ভুল করেছে; তারা বুঝতে ভুল করেছে যে কর্মোৎসাহী অস্ট্রেলীয়রা, মধ্যবিত্ত-অধ্যুষিত বেশির ভাগ আসনে তারা রয়েছে—এ নীতি গ্রহণ করবে না। কারণ সাফল্য কর (ট্যাক্স অন সাকসেস) বা অবসরকালের জন্য সঞ্চয়ের ওপর কর বসানোর বিষয়টিকে তারা শাস্তিমূলক ভেবেছে। দিনের পর দিন আমি অবসরপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেছি বা তাঁদের বলতে শুনেছি। অনেকেই সত্যিকার অর্থেই চিন্তিত, অবসরকালের জন্য তাঁরা কী করবেন এ নিয়ে। এই নীতির কারণেই অনেকে স্থির করেছেন, তাঁরা লেবার পার্টির বিরুদ্ধে ভোট দেবেন।

লেবার পার্টি কঠিন নেতৃত্ব সংকটেও পড়েছে। রাড-গিলার্ডের নেতৃত্ব-পরবর্তী সময়ে তারা নেতৃত্বের স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেয়। ফলও তারা পেয়েছে। তারা খুবই সংগঠিত বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পেরেছে। কিন্তু তারা এমন নেতার নেতৃত্বে আটকা পড়েছে, যিনি বেশির ভাগ অস্ট্রেলীয়র চোখে কখনো প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য সেরা বিকল্প বিবেচিত হননি।

নির্বাচনের ফল কোয়ালিশনের জন্য বিস্ময়কর। এটিও মনে রাখতে হবে, এ ফলাফল আমাদের জন্য, আমাদের রাজনীতির জন্য কম শিক্ষণীয় বিষয় নয়।

প্রথমত, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার আশঙ্কা রয়েই গেছে; অনেকের মনেই ২০১৮ সালের ঘটনাবলির রেশ রয়ে গেছে। বিষয়টি স্কট মরিসন বুঝতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রীরা যাতে মিড টার্মের চ্যালেঞ্জে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে তিনি আমাদের দলের নিয়ম-কানুনে পরিবর্তন এনেছেন। তবে বিষয়টিকে কোয়ালিশনের সব দলের অঙ্গীকারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে, যাতে এরই মধ্যে অর্জিত শিক্ষা কার্যকর থাকে।

দ্বিতীয়ত, আমাদের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে আরো উন্নত করতে হবে। সামাজিক গণমাধ্যমে আমাদের কিছু প্রার্থীর অযৌক্তিক রেটিং অর্জন এবং দ্রুতই তাঁদের মনোনয়ন নাকচ হওয়ার বিষয়টি আমাদের আধুনিক প্রগতিশীল দল হয়ে ওঠার অন্তরায়।

তৃতীয়ত, অনেক নির্বাচনী এলাকায়, আমার আসনেও, ভোটারদের কাছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। ওয়ারিনগা থেকে হিগিনস—সবখানে অধিবাসীরা নিশ্চিত হতে চায়, কোয়ালিশন এবিষয়ক চ্যালেঞ্জকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করছে। স্কট মরিসন বিষয়টিকে আমলে নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য পূরণের জন্য সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং কিভাবে তা করা সম্ভব তার রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন। এতে ‘স্নোয়ি হাইড্রো ২.০’ এবং তাসমানিয়ার ‘ব্যাটারি অব দ্য  নেশন’ স্কিমের মতো বড় প্রকল্পগুলোকে বিবেচনা করা হয়েছে।

এসব অঙ্গীকার রক্ষার জন্য (এরই মধ্যে যেসব নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে সেসবের সঙ্গে সংগতি রেখে) কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে। এর মধ্যে পুনর্নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগের বিষয়টিও রয়েছে।

আমাদের সরকারের এখন যা করা উচিত তা হলো, অস্ট্রেলিয়াবাসীর উদ্বেগের মৌলিক বিষয়গুলো, যেমন—পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে সুদৃঢ় আর্থিক ব্যবস্থাপনার কাঠামো তৈরি করা এবং সেবা ও অবকাঠামোর মান বাড়ানো।

লেখক : রাজনীতিক, অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টির সদস্য ও এমপি (নর্থ সিডনি)

সূত্র : সিডনি মর্নিং হেরাল্ড

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা