kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

মনের কোণে হীরে-মুক্তো

ক্ষুদ্র সংগঠনের অতি ক্ষুদ্র নিয়োগকারীর দুঃসহ যন্ত্রণার আলেখ্য

ড. সা’দত হুসাইন

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



ক্ষুদ্র সংগঠনের অতি ক্ষুদ্র নিয়োগকারীর দুঃসহ যন্ত্রণার আলেখ্য

আমি সারা জীবন বড় সংগঠনে কাজ করেছি। সেখানে সমর্থনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বল্পতা দেখিনি, বরং সংখ্যাধিক্যই বেশি চোখে পড়েছে। প্রায় সব সংগঠনে কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন, যাঁরা নিজ উদ্যোগে বুদ্ধি-বিবেচনা খরচ করে, এর সঙ্গে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করে, খোঁজখবর নিয়ে নির্দিষ্ট কাজটি পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারতেন। তাঁদের সুবিধা ছিল যে তাঁরা সরকারি অফিস কিংবা বেসরকারি খাতের বড় সংগঠনের নাম-পরিচয় ব্যবহার করতে পারতেন। ব্যক্তি হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, কাজটি দিয়ে ধারাবাহিকভাবে তাঁদের পেছনে লেগে থাকতে হতো না। যথাসময়ে কাজটি শেষ করে তাঁরা আমাকে অবহিত করতেন অথবা সম্পন্ন করা কাজটি বুঝিয়ে দিতেন। এককথায় তাঁদের সক্ষমতা ছিল এবং অন্তত আমার ক্ষেত্রে তাঁরা সে সক্ষমতা ব্যবহার করতেন। ফলে আমার বিরক্তির উদ্রেক হতো না, টেনশন হতো না। এক কাজের জন্য আমার সমর্থনকারী ব্যক্তিকে বারবার পাঠাতে হতো না। কাজ সম্পাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মীরা এটা-ওটা বলে তাঁদের বুঝ দিতে পারত না। তাঁরা নিজের চাহিদা বা বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করে কাজটি করিয়ে নিতে পারতেন।

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং আরো তিন বছর একটি বৃহৎ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রুটিন বাঁধা কাজ করার পর ঠিক করলাম, এবার স্ব-উদ্যোগে নিজ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সেখানে নিজের মতো করে কাজ করব। এত দিন চাকরিবাকরি করার পর যে সঞ্চয় হয়েছে, তা দিয়ে সংসারের খরচ চলে যাবে। কয়েকজন বন্ধুকে দিয়ে আমরা একটি গবেষণাধর্মী সংগঠন তৈরি করলাম। ভাবলাম, সঞ্চয়ের একাংশ দিয়ে জনকল্যাণধর্মী কিছু কাজ করতে পারব। ছোট্ট সংগঠন, মূল নীতিনির্ধারণী ফোরামে আমরা কয়েক বন্ধু, প্রশাসনিক কাঠামো খুবই ছোট্ট, মাত্র চার-পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বেতন সীমিত। তাই সুউচ্চ মানের লোক জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। মোটামুটি কাজ চালিয়ে নিতে পারে—এমন লোকদের নিয়োগ দিতে হলো। তাদের নিয়ে আমরা কাজ করছি। নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ এগোচ্ছে। আরো দু-একটি ক্ষুদ্র সংগঠনের প্রধান হিসেবেও আমি কাজ করছি। তবে সেগুলো নিজস্ব অর্থায়নে গড়া হয়নি বা পরিচালিত হয় না। ব্যবস্থাপনার শীর্ষে থাকার কারণে সমস্যাগুলো মোটামুটি আমাকেই মোকাবেলা করতে হয়।

সবচেয়ে ক্ষুদ্র নিয়োগকারী সংগঠন হচ্ছে পরিবার। নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোর প্রায় প্রতিটিতে সমর্থনকারী কর্মী নিয়োগ করা হয়। উচ্চবিত্ত পরিবারে ছোটখাটো কর্মকর্তাও নিয়োজিত থাকেন। তিনি সাধারণ কর্মীদের কাজকর্ম দেখভাল করেন। প্রয়োজনবোধে কর্মবণ্টন, পুনর্বণ্টন করেন। পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন অফিস-আদালত এবং সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দেশিত কর্ম সম্পাদন করেন। উচ্চবিত্ত পরিবারে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে ১০ জন বা ততোধিক লোক নিয়োজিত থাকে। মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারে নিয়োজিত বেতনভুক লোকের সংখ্যা পাঁচ-সাতজনের মতো হবে। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে নিয়োজিত লোকের সংখ্যা গড়ে দুজন হবে। আমার একটি নিবন্ধে আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে আমি লিখেছিলাম যে সারা দেশে পরিবারে নিয়োজিত মাসিক বেতনভোগী কর্মীর সংখ্যা ৬০ লাখের কম হবে না। সেদিন অন্য লেখকের একটি লেখায় এ সংখ্যার পক্ষে বক্তব্য দেখেছি। ধারণা করা হচ্ছে যে এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। পরিবারে যারা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে, তাদের নিয়োজনপদ্ধতি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে অনানুষ্ঠানিক। তাদের মাসিক বেতন, চাকরির শর্তাবলি মুখের কথায় ঠিক করা হয়। তারা বিনা নোটিশে, এমনকি কাউকে কিছু না বলে কাজ ছেড়ে চলে যায়। আবার বাড়ির মালিকও অনেক সময় তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের বিদায় করে দেন। এ নিবন্ধে ক্ষুদ্র সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে গৃহকর্মীদের ব্যাপারেও আলোচনা করা হবে।

আলোচনা সেসব ক্ষুদ্র সংগঠনের মধ্যে সীমিত রাখা হবে, যাদের আয় সীমিত। বড় অনুদানপ্রাপ্তি বা বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রাপ্ত মুনাফার কারণে যাদের প্রচুর আয় রয়েছে, তাদের আলোচনায় রাখা হচ্ছে না। কারণ উচ্চ আয়ের বদৌলতে তারা বড় বেতন দিয়ে সুশিক্ষিত, দক্ষ এবং কর্মে পারদর্শী ব্যক্তি নিযুক্ত করতে পারে। সুযোগমতো মাঝেমধ্যে তারা অন্য সংগঠন থেকে দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী ভাগিয়ে নিয়ে আসে। বেতন বেশি হওয়ার কারণে বড় সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চান না। তাঁদের মোটামুটি স্থায়ী কর্মচারী বলা যেতে পারে। যেসব সমস্যার কথা আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি, সেগুলো সীমিত আয়ের ক্ষুদ্র সংগঠনের জন্য প্রযোজ্য। এ সংগঠনগুলোর মধ্যে মধ্যবিত্ত পরিবারও রয়েছে।

মেধাবী ও চৌকস ব্যক্তিদের ক্ষুদ্র সংগঠনের পক্ষে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। তাঁরা যে বেতন এবং সুবিধাদি চান ক্ষুদ্র সংগঠনের সে বেতন দেওয়ার সাধ্য নেই। ক্ষুদ্র সংগঠনকে তাই মধ্যম কিংবা নিম্নমানের কর্মী-কর্মকর্তা নিয়োগ করে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। তাঁদের প্রতিদিন বস্তুত হাতে-কলমে কাজ শেখাতে হয়। এর মধ্য দিয়ে সংগঠনের কাজ কোনো রকমে সম্পন্ন করতে হয়। ফলে এক কাজ বারবার করতে হয়। এটি যে বিরক্তিকর তাতে সন্দেহ নেই; কিন্তু এ ছাড়া উপায়ও নেই। যে কাজ সরাসরি করা যায়, যে কাজে ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতা নেই, যে কাজের সঙ্গে অন্য কোনো কাজ মেশানো নেই, সে কাজ ক্ষুদ্র সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করতে পারেন। যেমন—কোনো অফিসে চিঠি পৌঁছে দেওয়া, কোনো জায়গা থেকে কিছু কাগজপত্র বা প্যাকেট নিয়ে আসা ইত্যাদি। যে কাজে কিছু সাংগঠনিক তৎপরতার প্রয়োজন হয়, আরো কয়েকটি কাজের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে যে কাজ সম্পন্ন করতে হয়, ডেলিভারি পয়েন্টের লোকজনকে তথ্য-উপাত্ত বক্তব্যের মাধ্যমে সন্তুষ্ট করে যে কাজ সম্পন্ন করতে হয়, সে কাজ তাঁরা সম্পন্ন করতে পারেন না; কাজটি অসমাপ্ত রেখে তাঁরা ফিরে আসেন। আমাকে বা আমাদের সহকর্মীদের ডেলিভারি পয়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। যে কাজ এক দিনে হতে পারত, তা করতে একাধিক দিন ব্যয়িত হয়। কর্মকর্তা-কর্মীর অক্ষমতা এরূপ ক্ষেত্রে বেশ পীড়াদায়ক হয়। অনেক সময় অবশ্যকরণীয় কাজ তাঁরা ফেলে রাখেন। অজুহাত হিসেবে বলেন, এ কাজ করার জন্য আমি কিংবা নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা আজ তাঁদের বলেননি। তাঁদের ভাবসাব হচ্ছে, প্রতিদিন সকালে-বিকেলে প্রতিটি কাজের জন্য তাঁদের আলাদাভাবে বলতে হবে, না হলে নয়। নিজ উদ্যোগে, নিজ ইচ্ছায় কাজ করতে তাঁরা অভ্যস্ত নন।

ব্যক্তি বা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যাপারে ক্ষুদ্র সংগঠনের কর্মচারীদের মধ্যে দারুণ অনীহা লক্ষ করা যায়। আত্মপ্রত্যয়ের অভাব এর অন্যতম কারণ হতে পারে। নানা অজুহাতে তাঁরা টেলিফোন করা থেকে বিরত থাকেন। দু-একবার টেলিফোন করে উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে না পেলে তাঁরা মহাখুশি; ঘাম দিয়ে তাঁদের জ্বর ছাড়ে। উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে কোনো না কোনোভাবে যে যোগাযোগ করতে হবে, এটি তাঁদের চিন্তা-চেতনার মধ্যে নেই। ফলে শেষ পর্যন্ত আমাকেই যোগাযোগ করতে হয়। একবার নয়, বারবার আমাকে যোগাযোগ করতে হয়। আমাদের কর্মচারীরা যোগাযোগ করতে শুধু যে ব্যর্থ তা নয়, যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা বিভ্রাটেরও সৃষ্টি করেন। যে বক্তব্য উপস্থাপন করার কথা, তা উপস্থাপন না করে ঝামেলা পাকিয়ে বসেন। সে ঝামেলা বা বিভ্রাট-বিভ্রান্তির জট খুলতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। বড় সংস্থায় কর্মকালীন এ ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি।

ছোট সংগঠন এবং পরিবারের প্রধান হিসেবে যাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে হয়, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও আচার-আচরণ সম্পর্কে তাদের কোনোরূপ ধারণা নেই বললেই চলে। পারিবারিক পরিবেশ তার কাছে বেশি পরিচিত এবং সে পরিবেশের আচার-আচরণে সে অভ্যস্ত। নিজের এবং পরিবারের সুবিধা-অসুবিধা, প্রয়োজন ও চাহিদাকে সে প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি ও চাহিদার অনেক ঊর্ধ্বে স্থান দেয়। তার যখন প্রয়োজন তখনই ছুটি কাটাতে বাড়ি চলে যায়। সেখানে ইচ্ছামতো সময় কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে আসে। তার এরূপ অননুমোদিত আকস্মিক অনুপস্থিতির কারণে সংগঠনের বা নিয়োগকারী পরিবারের কী অসুবিধা হলো, সে সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। অফিসের চাবি, চেক বই এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তার কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে সে বাড়ি চলে গেছে এবং মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছে, যাতে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারে। এদিকে অফিস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফিরে এসে তার বক্তব্য হচ্ছে, পরিবার তাকে ডেকেছে, তাই সে চলে গেছে। পরিবারের ডাক তাকে শুনতে হবেই। অফিসের কী হবে, এটি চিন্তা করার তার সময় ছিল না। পরে যখন তাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে তখন সে কান্নাকাটি শুরু করেছে। তখন সে বলে, চাকরি চলে গেলে সে বাঁচতে পারবে না। অথচ চাকরিতে থাকা অবস্থায় তা বুঝতে পারেনি। এমনও হয়েছে যে গ্রামে ওয়াজ শোনার জন্য বোর্ডসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মচারী বোর্ডসভার ঠিক আগে অফিস ছেড়ে বাড়ি চলে গেছেন। দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার জন্য তাঁকে অবশ্য চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর তালাফি-তদবির, কান্নাকাটি কোনো কাজে আসেনি; যদিও এর ফলে অফিসকে বড় রকমের ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল।

কর্মী-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে নতুন উপদ্রব হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন। গৃহকর্মী, দারোয়ান, পিয়ন, ড্রাইভার—সবার হাতে রয়েছে মোটামুটি দামি মোবাইল ফোন। প্রায় সময় তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। কাজে অনুপস্থিত থাকার ইচ্ছা হলে তারা বাহানা তৈরি করে বলবে, বাড়ি থেকে ফোন এসেছিল। মা-বাবা, দাদা-দাদির কেউ গুরুতর অসুস্থ অথবা বড় রকমের পারিবারিক সমস্যা দেখা দিয়েছে, এখনই তাকে যেতে হবে। একই সঙ্গে হাউমাউ করে সে কাঁদতে থাকবে। এ অবস্থায় কোনোরূপ অনুমতির তোয়াক্কা না করে সে বাড়ি চলে যাবে। নিয়োগকারী পরিবার কিভাবে চলবে, তাদের কত রকম অসুবিধা হবে, তা সে সামান্যতম বিবেচনায় আনবে না। বাড়ি গিয়ে সে ঠিক সময়ে ফিরে আসবে না। সে ধরে নেয় যে ফিরে এলে নিয়োগকারী পরিবার তাকে লুফে নেবে। অনেক সময় তার ধারণা সত্য হয়, তবে কোনো কোনো সময় তার চাকরি চলে যায়। এতে তার আচার-আচরণের পরিবর্তন হয় কি না বলা মুশকিল।

দু-একজন ড্রাইভারকে দেখেছি, গাড়ি চলা অবস্থায় তাদের বাড়ি থেকে বারবার ফোন আসে। অফিসে বা বাড়িতে এসেই সে বলবে যে তার ফুফাশ্বশুর গুরুতর অসুস্থ, তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অতএব আজ বিকেলে তাকে বাড়ি যেতে হবে। ফুফাশ্বশুরের অসুস্থতার কারণে যে ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকা যায় না, এ কথা তাকে বুঝিয়ে বলতে অনেক সময় লাগে। এরূপ ড্রাইভাররা শুধু স্টিয়ারিং ধরে গাড়ি চালাতে পারে। ড্রাইভারের দায়িত্বের মধ্যে আরো যে অনেক কিছু রয়েছে, সে সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। ফলে তারা ডিউটি মিস করে, লোকজনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, রাস্তায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে নিজেও বিপদে পড়ে, মালিককেও বিপদে ফেলে। সরকারি অফিস কিংবা বড় সংগঠনের ড্রাইভাররা অনেক বেশি দায়িত্বশীল আচরণ করে। ড্রাইভার হিসেবে সার্বিক দায়দায়িত্ব সম্পর্কে তাদের ধারণা রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, বড় সংগঠনে ড্রাইভারদের সঙ্গে বেশি কথাবার্তা বলা বা তাদের জবাবদিহির কাজ আমাকে করতে হতো না। সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ কাজ করতেন। এখন সরাসরি ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণের কাজ আমাকে করতে হয় এবং এটি খুবই বিরক্তিকর, আপাতত এর থেকে পরিত্রাণ নেই।

মোটামুটি আনাড়ি কর্মিবাহিনী দিয়ে কাজ করতে হয় ক্ষুদ্র সংগঠনের অতি ক্ষুদ্র নিয়োগকারী নির্বাহীকে। অনেক দিন ধরে হাতে-কলমে কাজ শিখিয়ে (On the job training) যখন তাদের কাজ সম্পাদনের উপযোগী করে তোলা হয় তখন বড় সংগঠনে কাজ করার তীব্র ইচ্ছা তাদের পেয়ে বসে। বড় সংগঠন, ধনাঢ্য নিয়োগকারীরাও ওত পেতে বসে থাকেন স্বল্প দক্ষ এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ভাগিয়ে নেওয়ার জন্য। ধনাঢ্য নিয়োগকারীদের সঙ্গে পেরে ওঠা আমাদের মতো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নিয়োগকারীদের পক্ষে সম্ভব হয় না। স্বল্প দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমাদের ছেড়ে, আমাদের ক্ষুদ্র সংগঠন ছেড়ে বড় জায়গায় চলে যায়। আমরা আবার শূন্যস্থানে উপনীত হই। আবার নতুন করে লোক খোঁজ করা, নতুন করে নিয়োগ দেওয়া। নতুন বিরক্তি, নতুন যন্ত্রণা। যত দিন আমরা ক্ষুদ্র নিয়োগকারী থাকব তত দিন এর থেকে মুক্তি নেই। এ যন্ত্রণায় পিষ্ট হয়ে জীবন কাটাতে হবে।

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা